Breaking News
Home >> Breaking News >> পুকুরের মাছ বাঁচাতে ইলেকট্রিক তার পেতে বাঘরোল মেরে মহাভোজ! স্তম্ভিত পরিবেশ কর্মীরা

পুকুরের মাছ বাঁচাতে ইলেকট্রিক তার পেতে বাঘরোল মেরে মহাভোজ! স্তম্ভিত পরিবেশ কর্মীরা

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ
অমানবিকতার চরম নিদর্শন। ঘটনার বীভৎসতায় সভ্য জগতের মুখ ঢাকলো লজ্জায়। পুকুরের মাছ বাঁচাতে ইলেকট্রিক তার পেতে মারা হল রাজ্য প্রাণী বাঘরোল। এখানেই শেষ হয়নি বীভৎসতা। তারপর সেটির মাংস খেল অনেকগুলো মানুষ। ছালটা এবং মুণ্ডু ফেলে দেওয়া হল খালের জলে। ঘটনার কথা জানতে পেরে চমকে উঠেছে পশুপ্রেমি সংগঠনের সদস্যরা।

শ্যামপুর ২নম্বর ব্লকের বৈকুন্ঠপুর গ্রাম। পরিবেশ রক্ষার সচেতনতা মোটের উপর প্রভাব পড়েছে। প্রায় সময় সাপ, বেজি, সজারু, এমনকি ডলফিনও উদ্ধার হয়। তুলে দেওয়া হয় বন দফতরের হাতে। রাজ্য প্রাণী বাঘরোল রক্ষায় সচেতনতা ক্যাম্প গড়ে তুলেছে এলাকার একটি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ। তারপরও শুক্রবার ভোররাতের পর থেকে বেলা দশটা অবধি ঘটে যাওয়া ঘটনা গা শিউরে দিয়েছে সকলের। পুকুরের মাছ খাওয়া রুখতে ইলেকট্রিক তার বিছিয়ে দিয়েছিলেন পুকুরের মালিক রঞ্জে বাড়ি। ভোররাতে সেই ইলেকট্রিক তার জড়ানো অবস্থায় উদ্ধার হয় বাঘরোলের দেহ। সেটি কিনে নিয়ে গিয়ে গায়ের ছাল ছাড়িয়ে বাঘরোলের মাংস ওজন করে করে গ্রামের বেশকিছু মানুষের কাছে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রাণীবিদ্যার ছাত্র সৌম্যদিপের কথায়, আমার আজ পরীক্ষা ছিল। সেইমতন পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলাম। ওই এলাকার একজন ফোনে জানায় যে, পুকুরে মাছ খেয়ে নিচ্ছে বলে ইলেকট্রিক তার বিছিয়ে দেয়। তাতেই ভোররাতে একটি বাঘরোল মারা পড়ে। কয়েকজন গ্রামবাসী সেটি কিনে আনে। এবং তার মাংস বিক্রি করে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে কয়েকজন পরিবেশ প্রেমী বন্ধুদের জানাই। ফোন করি উলুবেড়িয়া বন দফতরে। বন দফতরের আধিকারিক উৎপল সরকার চারজনকে ওই এলাকায় পাঠায়। দুজন করে দলে ভাগ হয়ে যায়। ৫৮গেটের দিক দিয়ে দুজন আসেন। অন্য দলটি বাগনানের দিক থেকে যায়। কিন্তু ততক্ষণে অবশিষ্ট কিছু নাড়িভুঁড়ি ও মুণ্ডু যেটি খালে ফেলে দিয়েছিল সেগুলি উদ্ধার হয়।

বাঘরোল নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করা তিয়াসা আঢ্যর কথায়, বন্যপ্রাণী ধরা, মারা, শিকার বা আহত করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যপ্রাণী বাঘরোলকে (ফিশিং ক্যাট) মেরে ফেলে তার মাংস খাওয়া ভয়ঙ্কর ব্যাপার। মাংস কেটে নাড়িভুঁড়ি এবং মুণ্ডু খালের জলে ফেলে দেওয়া সম্পূর্ণ কাজটি করা হয়েছে সচেতনতার মধ্য দিয়ে। এদের সাজা হওয়া প্রয়োজন। উলুবেড়িয়া বন দফতরের রেঞ্জ অফিসার উৎপল সরকার জানান, সমস্ত বিষয়টি ইনভেস্টিগেশনে রয়েছে। দ্রুত সমস্তটা জানান হবে।

পরিবেশ কর্মীদের কথায়, বাজারে বিক্রি হচ্ছে পশু মারার ইলেকট্রিক সরঞ্জাম। ওই সমস্ত সরঞ্জাম কিনে বেশকিছু অসাধু মানুষ পশু মারার কাজ করছে। আমরা এ বিষয় দ্রুত পথে নেমে প্রচার চালাব। এই ধরণের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 

এছাড়াও চেক করুন

ব্রাউন সুগার পাচারের অভিযোগে দুই কলেজ পড়ুয়াকে গ্রেফতার করল ইংরেজবাজার থানার পুলিশ

মালদাঃ বেআইনি ব্রাউন সুগার পাচারের অভিযোগে দুই কলেজ পড়ুয়াকে গ্রেফতার করল ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। তাদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.