Breaking News
Home >> Breaking News >> নবদ্বীপে শুরু হল সর্ব প্রথম ইংরেজীর মত কথ্য সংস্কৃত ভাষার পাঠক্রম

নবদ্বীপে শুরু হল সর্ব প্রথম ইংরেজীর মত কথ্য সংস্কৃত ভাষার পাঠক্রম

স্টিং নিউজ সার্ভিস, নবদ্বীপ, নদিয়া: ইংরেজীর মতো সংস্কৃত ভাষায় কথা বলার জন্য এই প্রথম নবদ্বীপে শুরু হল, কথ্য সংস্কৃত ভাষা শিক্ষার পাঠক্রম। বুধবার, ৮ জানুয়ারি থেকে নবদ্বীপ বঙ্গবিবুধ জননীসভার পরিচালনায় শুরু হয়েছে কথ্য সংস্কৃত ভাষাশিক্ষার পাঠক্রম। যা চলবে আগামী মঙ্গলবার ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।

তাৎপর্যের বিষয় হল এই পাঠক্রমে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভুক্ত ছাত্র-ছাত্রী। দেশের অন্যতম প্রাচীন সংস্কৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বঙ্গবিবুধ জননীসভার পরিচালনায় স্বল্পমেয়াদি স্পোকেন সংস্কৃত কোর্সের জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ২০৬ জন নামও নথিভুক্ত করিয়ে ফেলেছে। এর মধ্যে কুড়ি জনেরও বেশি শিক্ষার্থী মুসলিম সম্প্রদায় ভুক্ত বা সংখ্যালঘু। দেশ জুড়ে যখন বিভেদকামী শক্তির বাড়বাড়ন্ত ঠিক সেই দুঃসময়ে সংস্কৃত চর্চায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের আগ্রহ, খুবই খুশি আয়োজক সংস্থার সদস্যরা।

যদিও শুরুতে একটু চিন্তিত ছিলেন আয়োজকরা। কেননা বুধবার থেকে কথ্য সংস্কৃত ভাষাশিক্ষার পাঠক্রম শুরু হওয়ার পরিকল্পনা পূর্বঘোষিত ছিল। আবার ওইদিনেই ভারত বনধ পড়ে যাওয়ায় চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন দেশের অন্যতম প্রাচীন সংস্কৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বঙ্গবিবুধ জননীসভার কর্তারা। দুশোর ওপর শিক্ষার্থী নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন, নামী অধ্যাপকেরা আসবেন ক্লাস নিতে। কিন্তু বনধের মধ্যে কি করে কি হবে? গত দুদিন ধরে জাঁকিয়ে বসা এই দুশ্চিন্তা কার্যত নস্যাৎ করে বুধবার সকাল নটার সময় যখন প্রথম দিনের ক্লাস শুরু হল, তখন প্রায় দেড়শো জন উপস্থিত হয়ে গিয়েছেন। সংস্কৃত ভাষাশিক্ষার প্রতি তাঁদের আগ্রহে বাধা হতে পারেনি বাম দল সহ অন্যান্য দলের ডাকা সারা ভারত ধর্মঘট।

সেই দলেই ছিলেন নিলুফা বা রোশনিরা। নবদ্বীপ থেকে কয়েকটি ষ্টেশন দূরের লক্ষীপুর থেকে এসেছিলেন নিলুফা ইয়াসমিন আর সামসুর শেখ। ওরা দুজনে সংস্কৃত এম এ দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া। জানালেন কথ্যভাষা শিখতে এসেছেন আর ভালো করে সংস্কৃত জানার জন্য। কিন্তু সব ছেড়ে কেন সংস্কৃত পড়তে এলেন? জবাবে নিলুফা পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন “কেন আসব না? আর পাঁচটা বিষয়ের মতো সংস্কৃত একটা বিষয় যা নিয়ে আমাদের বহু পরিচিত উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছে। চাকরি করছে।”

সামসের শেখ জানায়, আমার যে কলেজে পড়ছি সেটি দিল্লির কেন্দ্রীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধীন এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কৃত সংস্থান দ্বারা পরিচালিত। এখান থেকে একেবারে এম এ সম্পূর্ণ করে বেরনো যায়। তারপর গবেষণা করাও অনেক সহজ। তাই আমরা সংস্কৃতকে বেছে নিয়েছি ভবিষ্যতের কথা ভেবে। স্পোকেন সংস্কৃতে ভর্তি হওয়া সালমা খাতুন, শ্যামলি খাতুন, তৈবা খাতুন, মিলন শেখ, তনুজা খাতুন, আমারুল শেখ, গোলসুনা খাতুন বা মজুর আলি শেখেরা সকলেই এমএ বা বিএ পড়ছে সংস্কৃত নিয়ে। ওরা সকলেই নবদ্বীপের ভারতী চতুষ্পাঠী সংস্কৃত মহাবিদ্যালয়ের পড়ুয়া।

অধ্যাপক গৌতম শতপথি বলেন,” আমাদের ওখান থেকে গত কয়েক বছরে একঝাঁক ছেলেমেয়ে সংস্কৃত নিয়ে পড়ে খুব ভালো কাজ করছে। শাবানা খাতুন এখন বেদান্ত নিয়ে পি এইচ ডি করছে। বনি শেখও পি এইচ ডি করছে। আবার নাসির শেখ কাটোয়ার হাইস্কুলে শিক্ষকতা করছে। নেট পাশ করছে জনা তিনেক। সব মিলিয়ে একটা অন্যধরনের নিশ্চয়তা হয়ত ওরা পাচ্ছে”। কিন্তু ইংরাজি না শিখে সংস্কৃত শিখে কি আদৌ লাভ হয়? ওরা জানাচ্ছেন হয়। রাষ্ট্রীয় সংস্কৃত সংস্থানের কথ্য সংস্কৃত ভাষাশিক্ষা কার্যক্রম ধারাবাহিক ভাবে চলে গোটা দেশ জুড়ে। এজন্য প্রচুর প্রশিক্ষক নেওয়া হয় ভালো বেতনে। কথ্য সংস্কৃত শেখার এটাও বড় কারণ। জানান বঙ্গবিবুধ জননীসভার সম্পাদক বুদ্ধদেব বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সংস্কৃত মানেই তো বেদ, বেদান্ত, গীতা পড়তে হয়। কোন সমস্যা হয় না? বি এ প্রথম বর্ষের রোশনি খাতুনের সপাট উত্তর, “ ওগুলো আমরা পাঠ্যবই হিসাবেই দেখি। পাঠ্যবই নিয়ে পড়ুয়াদের আবার কিসের অসুবিধা?”৷

এছাড়াও চেক করুন

মদ্যপ অবস্থায় ড্রাইভিং না করার পরামর্শ দেন পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও

নরেশ ভকত, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, বাঁকুড়া: কমবয়সী যুবকদের মদ্যপ অবস্থায় মোটর বাইক চালানোর প্রবনতা বেড়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.