Breaking News
Home >> Breaking News >> ১০৭ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন  ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করা ‘বিপ্লবী’ ভীম চন্দ্র জানা

১০৭ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন  ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করা ‘বিপ্লবী’ ভীম চন্দ্র জানা

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ জীবনে আদর্শ ছিলেন গান্ধীজি। স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম সারির নেত্রী হিসাবে পেয়েছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্ত্রী বাসন্তী দেবী কে। স্বাধীনতা আন্দোলনের লড়াই লড়তে গিয়ে ও বিদেশী দ্রব্য বর্জন কে মূল মন্ত্র করেছিলেন। কারাবরণ করেছিলেন তিন তিনবার। ১০৭ বছর বয়সেও থেমে ছিল না জীবনের কোন কাজ। তারপরও হঠাত করে থেমে গেল জীবনের চাকা। শুক্রবার সকালে স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া ও গান্ধীবাদী সংগ্রামী হাওড়া জেলার ভীম চন্দ্র জানা।

শ্যামপুর ২নং বিডিও এলাকার শশাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের শশাটি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন ভীমচন্দ্র বাবু। খুব ছোট বয়সে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন। মহাত্মা গান্ধীর অনুপ্রেরণা, দৃষ্টি এবং জীবনের ধারণা কে পাথেয় করে এগিয়েছেন। আশপাশের এলাকার সাত জনকে অনুপ্রাণিত করেন। তাঁদের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাঝেও ‘গান্ধীবাদী’ সংগ্রামী থেকে নিজেকে সরিয়ে আনতে পারেননি। ইংরেজরা তাম্রলিপ্ত বন্দর থেকে বিদেশি দ্রব্য বৃহত্তর শ্যামপুর এলাকায় পৌঁছাত। কিন্তু এলাকায় বিদেশী দ্রব্য বর্জন করবার জন্য লড়াই জারি রেখেছিলেন ভীম চন্দ্র বাবু। শ্যামপুর এলাকায় পতাকা উত্তলন করতে গিয়ে তৃতীয়বার কারাবরণ করেন। নামেও যেমন ভীম, চেহারাও ছিল ভীমের মতন সুঠাম। শেষ সময় অবধি নিজের কাজ নিজে করে গিয়েছেন। মাঝরাত থেকে শুরু হওয়া শ্বাসকষ্ট সকালেই দু চোখের পাতা এক করে দেয়। পরিবারে রয়েছেন ৬ ছেলে ও ৬ মেয়ে। এছাড়া নাতি-নাতনিদের একান্নবর্তী পরিবার।

শশাটি গ্রামের বাড়িতে বসে ছোট ছেলে অশোক কুসুম জানা বাবা’র বিষয় একাধিক তথ্য তুলে ধরেন। আমরা ভাই-বোনেরা ছোট বয়স থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে বাবার কাছ থেকে অনেক গল্প শুনে এসেছি। শশাটি স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়বার সময় বন্দেমাতরম স্লোগান শুনে নিজেকে স্থির রাখতে পারেননি। স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিতে বেড়িয়ে যান। বয়স যখন ১৬ প্রথম কারাবাস হয় তাম্রলিপ্ত জেলে। সালটা তখন ১৯৩০। ওখানে ৬ মাস পর ছাড়া পান। তারপর ১৯৩১ সালে প্রেসিডেন্সি জেলে ৬মাস ছিলেন। তৃতীয়বার কারাবরণ করেছিলেন পতাকা উত্তোলনের জন্য। ছিলেন হিজলি জেলে। বাবা বরাবর গান্ধীবাদী ছিলেন। জেলে থাকাকালীন কোনদিন অত্যাচার সইতে হননি। জেলে বন্দি থাকা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার দায়িত্ব ছিল বাবার উপর। বছর সাতেক আগে মা লতিকা বালা প্রয়াত হন। তারপরও বাবা ছেলে-নাতি-নাতনিদের সঙ্গে জমিয়ে স্বাধীনতা লড়াই নিয়ে কত কি গল্প বলতেন। সরকারি ভাবে পেতেন শুধুমাত্র পেনশন। এছাড়া সেভাবে কেউ বাবার খোঁজ খবর রাখতেন না। ছ’য় ছেলের নাম রেখেছিলেন পরিবেশ মিলিয়ে। প্রভাত কুসুম, দিবা কুসুম, শিশির কুসম, নিশির কুসুম, মৃনাল কুসুম এবং অশক কুসুম। মেয়েদের নাম সন্ধ্যা, দিবা, আভা ইত্যাদি।

শ্যামপুর থানার ওসি পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে এসেছিলেন শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে। ভীম চন্দ্র বাবুর শ্বশুর বাড়ি চন্দনাপাড়া থেকে অনেকে এসেছেন। একটা সময় ছিল ভীম চন্দ্র বাবুর বাড়িতে বহু মানুষ থাকতেন। পড়াশোনা ছাড়াও এলাকার ভাল কাজের কথা আলোচনা হত। এদিন পাশাপাশি গ্রামের মানুষজন এসেছিলেন। শ্যামপুর-২ সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সুব্রত ঘোষ জানান, আমাদের কাছে দেরিতে খবর আসায় যেতে পারিনি। ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্র শোকবার্তা নিয়ে ওঁনার বাড়িতে যাব।

বাড়িতে দুই ছেলে থাকলেও বাকি ছেলেরা কর্মসূত্রে দুর্গাপুর কেউ আবার নাগাল্যান্ডে রয়েছেন। নাতি গোবিন্দ সহ প্রত্যেকের সঙ্গে খুনসুটি করতেন। রবিবার ছেলে মৃণাল ফিরেছেন নাগাল্যান্ড থেকে। ছেলের সঙ্গে রাতেও গল্প করেছেন। সকালেই শোকের খবর ছড়িয়ে পড়ে। ভালবাসতেন জাতীয় পতাকা। শেষ যাত্রায় সঙ্গী সেই জাতীয় পতাকা। পরিবারের আক্ষেপ শতক পেরোনো স্বাধীনতা সংগ্রামী ভীম চন্দ্র বাবুকে বেঁচে থাকা অবস্থায় যদি সরকারি সন্মান দেওয়া হত অন্ততপক্ষে ‘বিপ্লবী’ জীবনে একটা পালক জুড়ত।

এছাড়াও চেক করুন

বাঁশবেড়িয়ার ত্রিবেনিতে মানুষের সুবিধার জন্য তৈরি হচ্ছে যাত্রী প্রতীক্ষালয়

স্টিং নিউজ সার্ভিস, হুগলি: বাঁশবেড়িয়ার ত্রিবেনিতে মানুষের সুবিধার জন্য তৈরি হচ্ছে যাত্রী প্রতীক্ষালয়।সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.