Breaking News
Home >> Breaking News >> ১৩ বছর ছেলে-বৌমাদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধ দম্পতি পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ

১৩ বছর ছেলে-বৌমাদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধ দম্পতি পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ বয়সের ভারে শরীর ন্যুব্জ। তবুও ছেলে-বৌয়ের হাতে খাবারের আশা করেন না। নিজেরাই গাছের চারা বিক্রি করে প্রতিদিনের ভাত-সবজীর ব্যবস্থা করে আসছেন। ছেলে-বৌমাদের কাছে দীর্ঘ ১৩ বছর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া হাওড়া ঝিকিরার বৃদ্ধ দম্পতি শীতের সকালে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ছাড়লেন। দ্বারস্থ হয়েছেন পুলিশ সুপারের। অভিযোগের তীর ছেলে-বৌমাদের বিরুদ্ধে।

গ্রামীণ হাওড়ার ঝিকিরা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিন ঝিকিরা গ্রামে বাস ৭৮ বছরের বয়সী বীরেন্দ্রনাথ মণ্ডল। স্ত্রী শোভা মণ্ডলের বয়স ৭০। বৃদ্ধ বীরেন্দ্রনাথ মণ্ডলের অভিযোগ বাড়িতে কার্যত দমবন্ধ করে রাখা হচ্ছে আমাদের। এমন একটি দিন যায়নি যেদিন অকথ্য ভাষায় কথা শুনতে হয়নি। আমার হাতে গড়া ঘরে দুই ছেলে দুই বৌমা থাকেন। রয়েছে নাতি-নাতনি। বড় ছেলে কালিশংকরের রয়েছে নার্সারি। বড় বৌমা ঝুমা মণ্ডল গৃহবধূ। ছোট ছেলে শিবশংকর ওয়েল্ডিং-এর কাজ করেন।

ছোট বৌমা পম্পা মন্ডল গৃহবধূ। দুই ছেলে বৌমাদের আলাদা সংসার। তবুও বাস্তু লিখে দেওয়ার জন্য ক্রমাগত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে চলেছে ছোট ছেলে ও বৌমা। বছর পাঁচেক আগে আমার স্ত্রীকে চুলের মুঠি ধরে কাছাড়ে দিয়েছিল ছোট বৌমা। আমরা লিখিত অভিযোগ করি জয়পুর থানায়। পুলিশের সামনে মুচলেকা দিয়েছিল ছোট বৌমা। ভেবছিলাম ঠিক হয়ে যাবে আমরা লিখিত অভিযোগ তুলে নিই। কিন্তু শেষের কিছু দেখছি না। উলটে বেড়েছে নির্যাতন।

বৃদ্ধা শোভা মণ্ডলের গলায় একরাশ আক্ষেপ। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। দুই ছেলেকে নিজেদের পায়ে দাঁড় করিয়েছি। তাঁদের বিয়ে দিয়ে সংসার করে দিয়েছি। আমরা নিজেরা খাটি নিজেরা খাই। ২০০৬ সাল থেকে ছোট বৌমা ও ছোট ছেলে সম্পত্তির জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। বলেছিলাম সম্পত্তিও তোদের নামে করে দেব। উকিলের খরচটুকু তোরা দে। তোদের বাবা এই বয়সে সংসারটুকু চালাবার মতো উপায় করে। কিন্তু শোনেনি। প্রতিদিন গালিগালাজ করে। মেয়েদের আসতে দেয় না। তারা আসলে চূড়ান্ত অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। বুধবার থেকে ছোট বৌমা প্রচণ্ড ঝামেলা করছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু করে দেয় গালিগালাজ। উনি অসুস্থ বোধ করায় সকাল ৯টার সময় এক কাপড়ে ঘর ছেড়ে দুজনে বেড়িয়ে পড়ি। জয়পুর থানায় গেলেও অভিযোগ নেওয়ার বদলে শুক্রবার আসতে বলেন। শেষ বয়সে আশ্রয়টুকুর আশায় শুক্রবার সকালে হাওড়া জেলা (গ্রামীণ) পুলিশ সুপার সৌম্য রায়ের অফিসে স্মরণাপন্ন হই। শনিবার পূণরায় যাই জয়পুর থানায়। কিন্তু ছেলে-বৌমাদের নামে থানায় এফআইআর করতে ভালো লাগছে না। যতই হোক ওরা তো আমার আপন। তাদের জেলে পাঠাতে কি মন চায়!

পুলিশ সুপার সৌম্য রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। ওঁনার অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে বীরেন্দ্রনাথ বাবু তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে এসেছিলেন। ওঁনাদের লিখিত চিঠি নেওয়া হয়েছে। ওঁনাদের সমস্ত রকম সহযোগীতা করা হচ্ছে। জয়পুর থানার সঙ্গে এ বিষয় কথা বলা হবে। উলুবেড়িয়া মহকুমা শাসক তুষার সিংলাকে বিষয়টি জানানো হলে উনি পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

অন্যদিকে ছোট ছেলে শিবশংকরের দাবি, আমি আজ হাওড়ায় রয়েছি। বাড়ির বিষয় জানিনা। স্ত্রীকে বোঝাই, বাবা-মাকেও আমি বোঝাবার চেষ্টা করি। সমস্যা একটা রয়েছে মিটিয়ে নেবার চেষ্টা করব। বড় ছেলের বক্তব্য জানা না গেলেও এলাকাবাসীদের অভিযোগ, বীরেন্দ্রনাথ বাবু গাছের চারা বিক্রি করে নিজেদের সংসার চালান। প্রায় দিন ওঁদের বাড়িতে অশান্তির আওয়াজ পাওয়া যায়।

চোখের জল মুছে শোভা দেবী বলেন, আমাদের ছেলেদের বিয়ে দিয়ে সংসার পেতে দিয়েছি। ওদের তো জেলে খাটাতে পারিনা। ওরা খুশিতে থাক। আর তো কটা বছর আমরা বেঁচে থাকব এই কটা বছর আমাদের একটু শান্তিতে থাকতে দিক।

এছাড়াও চেক করুন

মদ্যপ অবস্থায় ড্রাইভিং না করার পরামর্শ দেন পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও

নরেশ ভকত, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, বাঁকুড়া: কমবয়সী যুবকদের মদ্যপ অবস্থায় মোটর বাইক চালানোর প্রবনতা বেড়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.