Breaking News
Home >> Breaking News >> মালদায় যুবতী খুনের ঘটনায় এখনও মেলেনি যুবতীর পরিচয়

মালদায় যুবতী খুনের ঘটনায় এখনও মেলেনি যুবতীর পরিচয়

বিশ্বজিৎ মন্ডল, স্টিং নিউজ, মালদাঃ ধানতলায় যুবতী খুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন কিনারা খুঁজে পুলিশ। রাতভর কোতুয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকার গ্রামে গিয়ে দুষ্কৃতির খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে মালদা পুলিশ। পুলিশের রাতভর অভিযানে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কোতোয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের ধানতলা, টিপাজানি এবং গনিপুর গ্রামের বাসিন্দারা।

তাঁদের বক্তব্য, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা আইনগত ভাবে কাজ করুক। কিন্তু গভীর রাতে মানুষের বাড়িতে এসে তদন্ত করা এতেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে টিপাজানি, গনিপুর গ্রামের বেশকিছু বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। যদিও ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত অগ্নিদগ্ধ যুবতী খুনের কিনারা করতে পারে নি পুলিশ।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে ইংরেজবাজার থানার কোতোয়ালী গ্রাম পঞ্চায়েতের টিপাজানি গ্রামের আম বাগানের মধ্যে অর্ধনগ্ন এবং অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় এক যুবতীর দেহ উদ্ধার হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ধর্ষণ করে ওই যুবতীকে খুন করার পর আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ওই যুবতীর নাম পরিচয় জানতে পারে নি। কিন্তু ওই যুবতী ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর ওই যুবতীর পরিচয় জানতে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার আধপোড়া দেহ, হাতের আংটি দিয়ে পোস্ট করা হয় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, কোতুয়ালির মালদা-রতুয়া রাজ্য সড়ক এলাকায় রাত সাড়ে বারোটার পর একটি নীল রংয়ের স্কুটিতে এক যুবক পিছনের এক যুবতীকে বসিয়ে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে । তার পিছনে আরো একটি বাইকে দুই যুবক যাওয়ার বিষয়টি সিসিটিভির ফুটেজে পুলিশের সামনে উঠে এসেছে। ধানতলা এলাকায় রাস্তার ধারে রয়েছে একটি কাচের সামগ্রী তৈরি করার দোকান। সেই সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে এই ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। ওই দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় যেখান থেকেই রাস্তার চলমান বিভিন্ন দৃশ্য ফুটে উঠেছে। সেই থেকেই পুলিশ দেখতে পেয়েছে বুধবার গভীররাতে দুটি বাইকে মোট চারজন ওই রাস্তা দিয়ে রাত সাড়ে বারোটার পর গিয়েছে। প্রথম একটি নীল রঙের স্কুটিতে একজন যুবতী ও যুবক ছিল। তাদের পেছনে আরেকটি মোটরসাইকেলে আরো দুই যুবক ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যেখানে অগ্নিদগ্ধ যুবতীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল সেখান থেকে ৫০০ মিটার দূরেই রয়েছে ওই কাচের সামগ্রী দোকানটি। সেই দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে পাওয়া দুটি বাইকের বিশদ তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে। রাত সাড়ে বারোটার পর দুটি বাইকে করে তিন থেকে চারজন যুবক এবং একজন যুবতী ওই রাস্তা দিয়ে গিয়েছে। এবার ওই মোটরবাইকের সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ধানতলা আশেপাশের গ্রামগুলোতে তল্লাশি শুরু করেছে মালদা পুলিশ। নীল রংয়ের স্কুটি এবং মোটরবাইক উদ্ধার হলেই খুনের ঘটনার বিষয়ে অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে তদন্তকারী পুলিশ অফিসারেরা।

যদিও টিপাজানি গ্রামের বাসিন্দাদের বক্তব্য, শনিবার গভীর রাতে বিশাল পুলিশের দল গ্রামে আসে। বেশ কিছু বাড়ির লোকজনকে ঘুম থেকে উঠিয়ে তল্লাসি অভিযান শুরু করে। পুলিশ দিনের বেলাতেও তদন্ত করতে পারতো । কিন্তু গভীর রাতে এরকমভাবে পুলিশি অভিযানে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে । পুলিশ আইনগত ভাবে তদন্ত করুক। কিন্তু মানুষকে হয়রানি করে কাজ করলে স্বাভাবিক কারণেই ক্ষোভ-অসন্তোষ ছড়াবে।

পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে তদন্তের কিনারা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মৃত যুবতীর পরিচয় জানতে বিভিন্নভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে খুব দ্রুত এই ঘটনার কিনারা হয়ে যাবে বলেও আশ্বাস জেলার পদস্থ পুলিশ কর্তাদের।

এছাড়াও চেক করুন

মদ্যপ অবস্থায় ড্রাইভিং না করার পরামর্শ দেন পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও

নরেশ ভকত, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, বাঁকুড়া: কমবয়সী যুবকদের মদ্যপ অবস্থায় মোটর বাইক চালানোর প্রবনতা বেড়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.