Breaking News
Home >> Breaking News >> ধর্ষণে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা, বিচারের আশায় প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরছেন নাবালিকা সহ তার পরিবার

ধর্ষণে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা, বিচারের আশায় প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরছেন নাবালিকা সহ তার পরিবার

বিশ্বজিৎ মন্ডল, স্টিং নিউজ, মালদাঃ সাড়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী নাবালিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় এখনো গ্রেফতার হয়নি মূল অভিযুক্ত। আর সেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও সুবিচারের আশায় পুলিশ ও প্রশাসনের দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নির্যাতিতা প্রতিবন্ধী নাবালিকা ও তার পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে পুকুরিয়া থানার মহারাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাহাদুরপুর গ্রামে।

বুধবার মালদা আদালতের এক আইনজীবী মৃত্যুঞ্জয় দাসের মাধ্যমে সুবিচারের আশায় পুলিশ সুপার অলক রাজোরিয়া এবং জেলাশাসক রাজশ্রী মিত্রের কাছে সম্পূর্ণ ঘটনার বিবরণ জানিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা করেছেন নির্যাতিতা ওই প্রতিবন্ধী নাবালিকার পরিবার।

মুখ ও বধির ১৫ বছর বয়সী ওই নাবালিকাকে নির্যাতনের পর এখন মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার পরিবার এবং আইনজীবী।

ওই নির্যাতিতা নাবালিকার আইনজীবী মৃত্যুঞ্জয় দাস বলেন, সাড়ে সাত মাস আগে মূক ও বধির প্রতিবন্ধী ওই নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে ধর্ষণ করে জহরুল হক নামে এক যুবক। এরপর পুলিশ অভিযোগ নিচ্ছিল না। গত ১৫ অক্টোবর পুলিশ পস্কো আইনে মামলা রুজু করে। কিন্তু প্রতিবন্ধী আইনের ধারা এই মামলায় যোগ করা হয় নি। সেই দাবিও সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের কাছে জানানো হয়েছে। প্রতিবন্ধী নাবালিকাকে ধর্ষণের পর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

আইনজীবী মৃত্যুঞ্জয় দাস আরও বলেন, এত কিছু ঘটনার পর অভিযুক্ত জহুরুল হককে গ্রেপ্তার করতে পারে নি পুকুরিয়া থানার পুলিশ। বরঞ্চ এই ধর্ষণকাণ্ডের পর পুনরায় ওই অভিযুক্ত আরেক নাবালিকাকে বিয়ে করেছে। পুকুরিয়া থানার একাংশ পুলিশের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হয়েই পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকের কাছে ওই নির্যাতিতার পরিবার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। সুবিচার না পেলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

এদিকে ওই নির্যাতিতা প্রতিবন্ধী নাবালিকার বাবা বলেন, অভিযুক্ত জহুরুল হক তার প্রতিবেশী। আমার মেয়ে কথা বলতে পারে না। কানে শুনতে পায় না। সেই অসহায়তার সুযোগ নিয়ে মেয়েকে ধর্ষণ করেছিলো জহুরুল হক। এরপর বিষয়টি জানতে পারি। ততক্ষণে মেয়ের গর্ভে সন্তান চলে আসে। এখন সাড়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা আমার নাবালিকা মেয়ে। এই অবস্থায় অভিযুক্ত জহুরুল হককে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওরা এই প্রস্তাব মেনে নেয় নি। পাল্টা পুলিশে অভিযোগ জানানোর জন্য এখন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ওই অভিযুক্ত নতুন করে এক নাবালিকাকে বিয়ে করেছে। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আমার প্রতিবন্ধী মেয়ের যাতে বাঁচার পথ খুঁজে পায় তার ব্যবস্থা করার জন্যই পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছি। সুবিচার না পেলে আমাদের আদালতের পথে যেতে হবে। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার কথা বলেছেন ওই প্রতিবন্ধী নাবালিকার পরিবার।

যদিও পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এছাড়াও চেক করুন

কোচবিহারে গরু সহ ২ ব্যক্তিকে আটক করল পুলিশ

মনিরুল হক, স্টিং নিউজ, কোচবিহারঃ গোপনসূত্রে খবরের ভিত্তিতে ২৪টি গরু সহ একটি ট্রাককে আটক করল …

Leave a Reply

Your email address will not be published.