Breaking News
Home >> Breaking News >> রূপনারায়ণে নাব্যতা কমায়   ইলিশ, চেলা, ফ্যাসা, বাকসি মাছ ধরা মৎস্যজীবীরা বদলাচ্ছে জীবিকা

রূপনারায়ণে নাব্যতা কমায়   ইলিশ, চেলা, ফ্যাসা, বাকসি মাছ ধরা মৎস্যজীবীরা বদলাচ্ছে জীবিকা

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া: রূপনারায়ণের উত্তর পাড়ে চিতনান ঘাটাপাড়া। মূলত মৎস্যজীবীদের গ্রাম বলেই পরিচিত। ঘর বলতে টালির ছাউনি। কারও আবার এডবেস্টার। নদীর পাড়ে রান্নাঘরে জ্বলছে উনুন। টগবগিয়ে ফুটছে ভাত। প্রায় একশোটি পরিবার একত্রে বসবাস করছে। ভাটা থাকায় জল নেমেছে নদীর গর্ভে প্রায় দেড়শ মিটার দূরে। জেগে উঠেছে বিস্তর চর। মৎস্যজীবীদের ট্রলার আটকে রয়েছে চরে। রূপনারায়ণ বর্ষায় পাড় ভাঙে আর বাকি সময় দূরে চলে যায়। নদীর ভেজা মাটি পা ডুবিয়ে জাল ফেলে রেখেও মিলছে না খাবার মাছ। বিক্রি করা তো দূর।

গ্রামীণ হাওড়ার চিতনান অঞ্চলের মানুষদের কাছে রূপনারায়ণ জীবন-জীবিকা। ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে বাড়ি ফেরা সমস্তটা ওই রূপনারায়ণ কে নির্ভর করে। কোলাঘাট হয়ে মোহনায় চলে যায় মৎস্যজীবীরা। দশদিন-পনেরো দিন পর ফিরে আসে মাছ ভর্তি ট্রলার নিয়ে। খুশির দিন বলতে একটা সময় তো ছিল। কোলাঘাট তো দূর বাকসি এলাকাতেই জালে পরতো ইলিশ। বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় দেখা পাওয়া ফ্যাসা মাছ, চেলা মাছ গাদিয়াড়া এলাকাতেও মিলত। কিন্তু সমস্তটাই আজ অতীতের খাতায়। এমনটা হয়েছে সমুদ্রে ইলিশ ধরতে বেরিয়ে রূপনারায়ণে ইলিশের ঝাঁক দেখে জাল ফেলে মাছ ধরতে হয়েছে। সবটাই এখন বদলে গিয়েছে আক্ষেপের সুর দীনবন্ধু মাজিদের গলায়।

ঘাটাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মিনতি, ফাল্গুনিদের কথাতেও চেনা সুর। মাছ ধরবার জাল কিনেছি আড়াই হাজার টাকা দিয়ে। মিন ধরব কি মিলছে না তো। চরা পড়ছে বাকসি জুড়ে মাছ আসবে কিভাবে জন্ম দিতে। সরকার সাহায্য তো করছে কিন্তু নদীতে তো আর মাছ এনে দেবে না। আগে যে স্রোত থাকত এখন জলে স্রোত নেই। জল থমকে গিয়েছে। গ্রামের মেয়েরা মিন ধরতো পুরুষরা সাইকেলে হাড়ি লাগিয়ে সেই মিন দূর দূরান্তে নিয়ে যেত বিক্রি করতে। বাকসির মাছ বলে প্রসিদ্ধ ছিল। যারা বিক্রি করতো তাঁরা এখন অন্য পেশায় চলে গিয়েছে। নদীর বাঁধ বোল্ডার দেওয়া হয়েছে। ভাঙ্গন কমেছে। কিন্তু ছোট ছোট মাছ নদীর পাড়ে আর ঘেঁষছে না। সরকার যদি নদীর চরা কেটে জোয়ার ঢোকানোর ব্যবস্থা নেয় তাহলে উপকৃত হবে জলজ মাছ। মাছ ধরাটাই তো আমাদের জীবিকা। এখানকার প্রায় সব বাড়ির লোকজন মাছ ধরার কাজে যুক্ত।

ভাটোরা এলাকার কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মানিক মিদ্যা জানান, ভাটোরা, চিতনান ঘাটাপাড়া এলাকার মৎস্যজীবীদের রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য করা হয়েছে। দেওয়া হয়েছে কার্ড। এছাড়া মাছ ধরবার জাল ও হাড়ি সহ বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। সমস্তটা হয়েছে আমতা ২নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির সাহায্যে। আগামীদিনেও ওঁদের পাশে থাকা হবে। ২০বছর আগে তো মানকুর থেকে গোপীগঞ্জ অবধি লঞ্চ চলতো। এখন তো সব বন্ধ। কোনক্রমে ভুটভুটি চলছে। জোয়ার থাকলে সমানে চলে। ভাটার সময় মাঝেমধ্যেই চরায় আটকে যায়। নদীর নাব্যতা কমেছে। তারজন্য কেন্দ্রের সরকার ড্রেজিং না করবার ফলে।

এছাড়াও চেক করুন

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আত্মহত্যা করলেন এক স্কুল শিক্ষক

বিশ্বজিৎ মন্ডল, স্টিং নিউজ, মালদাঃ পারিবারিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.