Breaking News
Home >> Breaking News >> অবশেষে গ্রেফতার নদিয়ার চাপড়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা আসরাফ ঘরামি

অবশেষে গ্রেফতার নদিয়ার চাপড়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা আসরাফ ঘরামি

সমীর রুদ্র, স্টিং নিউজ করসপনডেন্ট, চাপড়া: অবশেষে গ্রেফতার হলেন চাপড়ার বেতবেড়িয়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা আসরাফ ঘরামি। পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে বেতবেড়িয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেইসময় সে বাসে উঠে পালানোর চেষ্টা করছিল।

গত ১৮ই নভেম্বর চাপড়ার ব্রহ্মনগরে তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জেরে বোমাবাজিতে খুন হন বেতবেড়িয়ার বাসিন্দা রফিক আলি শেখ। ঐ ঘটনায় আহত হন বেতবেড়িয়ার শামীম শেখ। রফিকের পরিবার আসরাফ সহ বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে চাপড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এর পাল্টা হিসেবে ব্রহ্মনগরের বাসিন্দা হৃদয়পুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য সফিউদ্দিন শেখও দলের কিছু লোকজনের বিরুদ্ধে তাকে খুন করতে আসার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে চাপড়া থানার পুলিশ দুই পক্ষের পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। ঐ সময় আসরাফ পলাতক ছিলেন।

রফিকের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই এদিন আসরাফকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, কয়েক বছর ধরেই চাপড়ার হৃদয়পুর অঞ্চলের বেতবেড়িয়ার ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন তৃণমূল নেতা আসরাফ ঘরামি। ২০১৩ সালে বেতবেড়িয়া হাইস্কুলের পরিচালন কমিটির নির্বাচন ঘিরে গন্ডগোলের জেরে খুন হন সিপিএম নেতা আসাদুল শেখ। ঐ খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় আসরাফ ঘরামি ও তৎকালীন ব্লক তৃণমূলের যুব সভাপতি তথা হৃদয়পুর অঞ্চলের সভাপতি শুকদেব ব্রহ্ম সহ বেশ কয়েকজনের।

কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবে সেই সময় পুলিশ আসরাফের কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারেনি। উল্টে আসরাফের ভয়ে গ্রামছাড়া হতে হয় আশাদুলের পরিবার সহ প্রায় দেড়শ জন সিপিএম সমর্থককে।

এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আসরাফকে। মূলত তার প্রতাপে বিরোধী শূন্য হয়ে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয় বেতবেড়িয়া। সে সময় হৃদয়পুর পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন আসরাফের স্ত্রী আলেয়া বিবি। পরবর্তীতে শুকদেব ব্রহ্মকে অঞ্চল সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করে আসরাফ কে ঐ পদে বহাল করা হয়। ২০১৮সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে আসরাফের স্ত্রী উপ প্রধান নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অর্থের লোভে ক্রমশ জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকেন আসরাফ। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন বেতবেড়িয়া বাসী। বাড়তে থাকে আসরাফের প্রতি মানুষের ক্ষোভ।

ইতিমধ্যে লোকসভা ভোটে বিজেপির বিপুল জয়লাভের পর চাপড়াতেও জমি তৈরি করতে থাকে বিজেপি। ৫ই সেপ্টেম্বর আসরাফের ভয়ে গ্রামছাড়া সিপিএম পরিবারের সদস্যরা বিজেপির হাত ধরে গ্রামে ফেরেন। ঐ দিনই বিজেপিতে যোগদান করেন গ্রামের অধিকাংশ পরিবার। হাওয়া বেগতিক বুঝে আসরাফের মাথা থেকে হাত তুলে নেন চাপড়া ব্লক তৃণমূল নেতারা। পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন আসরাফ।

কিন্তু গত ১২ই নভেম্বর আসরাফ ও শুকদেবকে হৃদয়পুরের রাজনীতি থেকে অপসারণের শর্তে বিজেপিতে যোগ দেওয়া গ্রামবাসীরা বিধায়ক রুকবানুর রহমানের হাত ধরে পুনরায় তৃণমূলে যোগদান করেন। রুকবানুর রহমান প্রকাশ্য সভায় শুকদেব ও আসরাফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস নেন।

এরপর গত ১৮ই নভেম্বর বেতবেড়িয়ার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদানকারীরা ব্রহ্মনগরের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য আসরাফ পন্থী সফিউদ্দিন শেখের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বেতবেড়িয়ার পর হৃদয়পুর অঞ্চলের অন্তর্গত ব্রহ্মনগর গ্রামটিও কব্জায় আনতে এই হামলা,অভিযোগ সফিউদ্দিনের। ঐ দিন সফিউদ্দিনের অনুগামীদের সাথে হামলাকারীদের সংঘর্ষে খুন হন বেতবেড়িয়ার বাসিন্দা রফিক আলি শেখ। যার জেরে গ্রেফতার করা হয় আসরাফ কে।

পুলিশ জানিয়েছে শনিবার ভোরে বেতবেড়িয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে পুলিশ আসরাফ কে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাস থেকে পলাতক আসরাফ বেতবেড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে কি করছিলেন সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর মেলেনি। এদিন আসরাফ কে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

আসরাফের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বিধায়ক রুকবানুর রহমান বলেন “আসরাফের গ্রেফতারি ব্যাপারে আমার কাছে কোনো খবর নেই এবং দলের সাথে তার কোনো যোগ নেই। তবে যদি গ্রেফতার হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আইন আইনের পথে চলবে”।

আসরাফের গ্রেফতারিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন বেতবেড়িয়া বাসী। স্বার্থ ফুরিয়ে যাওয়ার আসরাফ কে গ্রেফতার হতে হলো বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

এছাড়াও চেক করুন

ফাঁসিদেওয়ার মুণি চা বাগানে গণ বিবাহ অনুষ্ঠানে হাজির পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব

বিশ্বজিৎ সরকার, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, দার্জিলিংঃ শুক্রবার শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের মুণি চা বাগানে শ্রীহরি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.