Breaking News
Home >> Breaking News >> শান্ত দামোদর, পাখিদের কলকাকলি, ভারতচন্দ্রের কাব্যতথ্য, পিকনিকের আদর্শ স্থান আমতার বড়দা

শান্ত দামোদর, পাখিদের কলকাকলি, ভারতচন্দ্রের কাব্যতথ্য, পিকনিকের আদর্শ স্থান আমতার বড়দা

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ গা শিরশিরানি হেমন্তের সকাল। চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিয়ে মধ্যবিত্ত বাঙালি খবরের কাগজে চোখ বোলায়। কাছে-পিঠের এক-আধবেলার পিকনিকের নতুন গন্তব্যের খোঁজ করেন। তারপর পরিবার ও কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব মিলে পৌঁছে যায়। দেরাদুন রাইস-মটন কষা সঙ্গে চাটনি, পাপড় আর রসগোল্লা। দিনের শেষে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। এমন মনে ইচ্ছে থাকলে চলে আসতে পারেন খিরিশ-অশত্থ-আম গাছের ভিড়, পাখিদের কলকাকলি ও শান্ত দামোদরের কোল ঘেঁষা বড়দা গ্রামে।

ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাস বাঙালির পিকনিকে মেতে ওঠার সময়। জেলার একাধিক স্থান আনন্দে আবডালে ভরে ওঠে। হাওড়া থেকে ৫২ কিমি দূরে আমতা স্টেশন। ওখান থেকে ট্রেকারে বা বাসে চেপে দুপাশের গ্রাম্য চিত্র দেখতে দেখতে চলে আসুন বড়দা পেট্রলপাম্প বাসস্ট্যান্ডে। ওখান থেকে লাল মাটির রাস্তা তিন মিনিটে পৌছে যাবেন দামোদরের গায়ে। উঁচু বাঁধের দুপাশারি মোড়াম পাতা রাস্তা। গায়ে মাথা উঁচিয়ে ইউক্যালিপটাসম ঝাউ, খিরিশ, আম সহ একাধিক বহু পুরনো গাছ। পাশে উন্মুক্ত ধানি জমি। নদীর ওপারে মাঠে মাথা উঁচু করে শীতকালিন সবজি। দামোদরের কোল ঘেঁষে বল খেলার প্রকান্ড মাঠ ও এলাকার পিকনিকের স্থান। রয়েছে শিশুদের খেলার জন্য একটি পার্ক। বসানো হয়েছে ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা সহ একাধিক ফুলগাছের চারা।

চিকেন পকোড়া, ফিস ফিঙ্গার, ফিস কাটলেট খাবার পরে এগিয়ে যান স্কুলের দিকে। সবুজে ঘেরা ৮১ বছর পুরনো ‘বড়দা গঙ্গাধর হাইস্কুল’। পাশে ‘বড়দা নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়’। নদীর দিকে মুখ ঘোরালে বাঁশ বাগানের মাথার উপর গোলাকার সূর্য। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাস জুড়ে এখানে বহু মানুষ আসেন পিকনিকের মজা নিতে। বেলা যত বাড়বে গরম কড়ায় আওয়াজ তুলে রান্না তখন সপ্তমে। ছোটদের ডিসকাস খেলা, বড়দের গল্পগুজব আর পড়ুয়াদের দু’চোখ নদীর শীতল জলে। পাশে বাঁধা নৌকা। পা ঝুলিয়ে নদীর জল মেখে নেওয়া। সেলফির ছড়াছড়ি। পাতা উল্টে কবিতা গুচ্ছ পড়বার ফাঁকে নিজেদের মত করে মেতে উঠেবেন সকলে। পাতার ফাঁক গলে মাঝেমধ্যে সূর্যের উঁকি ঝুঁকি। শীতের পাখি গুলো এসে দেখা দিয়ে যাবে। নদীতে মাছরাঙা ঝাঁপ দিয়ে শিকার ধরে খাচ্ছে। চাইলে ছিপ দিয়ে মাছ ধরতে পারেন। ফোর জি সিগন্যাল পাবেন লাইভ খবরের চ্যানেল দেখে নেওয়া যাবে।

চিংড়ি কালিয়া, দেরাদুন রাইস, মটন কষা, চাটনি, পাপড়, রসগোল্লা দিয়ে দুপুরের মধ্যাহ্ন ভোজ। দূরে দামোদরের কোলে মাঝিদের নৌকা বাঁধা। দুপুর গড়াতেই চাইলে নৌকা ভাড়া নিয়ে চাপতে পারেন। আপনার যদি সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ থাকে। ইচ্ছে করে ‘তর্কবাগীশ ও তর্কালঙ্কার’-এর সন্ধান নেবার। আপনার সে ইচ্ছে পূরণ হতে পারে এখানে আসলে। দশ কিমি দূরে দামোদরের গাঁ দিয়ে পৌঁছে যান তাজপুর গ্রাম। মিলে যাবে ইতিহাসের বেশকিছু সন্ধান। কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র একসময় এখানকার চতুষ্পাঠীতে পড়াশোনা করেছেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে অনেককিছু জানতে পারবেন, যেতে পারেন তাজপুরে ভারতচন্দ্রের মামা বাড়িতে। আগেকার রায় বাড়ির প্রভাব লোকমুখে এখনও ছড়িয়ে। স্মৃতিচিহ্ন বলতে একটি বিশালাকার পুকুর রয়েছে। পাবেন বেশকিছু পুঁথিপত্র। এখনও পূর্বের রীতি মেনে অনুষ্ঠিত হয় দুর্গাপুজো।

আম-জাম-খিরিশ-ঝাউ, নদীর শান্ত সুর, পাখির কলকাকলি, ওপারের শীতকালিন সবজির অসম্ভব সৌন্দর্যের রূপ আপনার মন নস্টালজিয়ায় পৌঁছে দেবে। সমস্তটা ক্যানভাসে ভরে নেবার মাঝেই পশ্চিম আকাশে ঢলতে থাকা কমলা রঙা সূর্য জানান দিচ্ছে এবার ফিরে যাবার সময় হয়েছে। দামোদর ছড়িয়েছে সন্ধ্যার কুয়াশা। অনেকটা সময় কাটিয়ে, বন্য জন্তুদের শব্দ কানে নিয়ে, মুক্ত অক্সিজেন বুক ভরে চললেন নিজের এক চিলতে সাজানো কুটিরে। একটা গ্রাম বাকি একটা পরগনায় বাজছে শঙ্খের ধ্বনি। আপনি এগিয়ে চলেছেন অন্ধকার রাস্তায় হেডলাইট জ্বলা গাড়িতে। আর মন গুনগুণ করে বলছে,
আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে এই বাংলায়। হয়তো মানুষ নয় হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে।

এছাড়াও চেক করুন

মোমবাতি হাতে তরুণী পশু চিকিৎসকের খুনিদের দ্রুত মৃত্যুদণ্ড চাইছে যুব-সমাজ

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ সপ্তাহ ঘুরতে চললো হায়দরাবাদের শাদনগর থানা এলাকার তরুণী পশু চিকিৎসকের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.