Breaking News
Home >> Breaking News >> নদিয়ার কালীগঞ্জে তৃণমূলের এনআরসি বিরোধী সভাতে প্রকাশ্যে এলো গোষ্ঠী কোন্দল

নদিয়ার কালীগঞ্জে তৃণমূলের এনআরসি বিরোধী সভাতে প্রকাশ্যে এলো গোষ্ঠী কোন্দল

স্টিং নিউজ সার্ভিস, কালীগঞ্জ, নদিয়া: নদিয়ার কালীগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক ও কৃষ্ণনগর লোকসভা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কমিটির কো-অর্ডিনেটর নাসিরুদ্দিন আহমেদ ওরফে লাল সাহেব রবিবার দেবগ্রাম জেলা পরিষদের মাঠে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরনের প্রতিবাদে জনসভার আয়োজন করেন। আর এই সভাকে ঘিরেই প্রাকাশ্যে এল কালীগঞ্জ তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল।

এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলন প্রাক্তন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি জীবন মুখার্জি, বর্তমান জেলাপরিষদের খাদ্যকর্মদক্ষ মল্লিকা চ্যাটার্জি ও জেলা পরিষদ সদস্য আলিফা আহমেদ, নদিয়া জেলা সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি জুলফিকার আলী, তৃণমুল কংগ্রেসের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে মুখপাত্র হিসেবে কাজ করা সিদ্ধব্রত দাস সহ ব্লকের বেশ কয়েকটি অঞ্চল সভাপতি সহ প্রধান ও সদস্যরা। এদিন প্রায় হাজার পাঁচেক তৃণমূল কর্মি সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

এদিনের সভায় বারবার কেন্দ্র সরকারের এনআরসি নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। আক্রমণাত্মক ভাবে জানান কালীগঞ্জের বুকে এনআরসি কোনদিন চালু হবে না।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে ব্লকের একাধিক নেতার উপস্থিত না থাকা নিয়ে। বর্তমান কালীগঞ্জের বিধায়ক তথা জেলার যুব তৃণমূলের সভাপতি হাসানুজ্জামান শেখ ও বর্তমান ব্লক সভাপতি দেবব্রত মুখার্জি সহ যুব সভাপতি জিয়ারুল হক সহ কোন নেতাকেই এই অনুষ্ঠানে দেখা না মেলায় তৃণমূলের অন্তরে উঠছে নানা প্রশ্ন?

তৃণমূলের এক অংশের দাবি, বিধায়ক, বর্তমান ব্লক সভাপতি সহ যুব সভাপতি কাউকেই আমত্রণই করা হয়নি।

তৃণমূলের আর এক পক্ষের দাবি মূলত এই সভা এনআরসি নিয়ে হলেও এখানে বর্তমানে উপেক্ষিত তৃণমূলের পুরনো কর্মী এবং বর্তমান যারা ব্লকে তৃণমূল দলটি চালাচ্ছে তাদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লাল সাহেবের নেতৃত্বে এই সভা। আগামী দিনে কালীগঞ্জের তৃণমূলের গরিমা ফিরিয়ে আনতে লাল সাহেবকে সামনে রেখে তারা এগিয়ে যেতে চায়।

তবে প্রাক্তন বিধায়ক নাসির উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বর্তমান বিধায়ক হাসানুজ্জামানের বিরোধ কথা সকলেরই জানা। আর রবিবারের সভা হতে সেই আবারও প্রকট হল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল এবং কালীগঞ্জে তৃণমূলের দুটি গোষ্ঠী বর্তমান প্রমাণ মিলছে।

এদিনের সভাকে দলীয় সভা বলেই মানতে নারাজ যুব সভাপতি জিয়াউর হক তিনি বলেন, এটা দলের ঘটনতন্ত্রের নিয়ম বিরুদ্ধে। আমদের এলাকায় সভা করা হচ্ছে অথচ আমাদের কাওকে জানানো হয়নি। সভায় উপস্থিত অধিকাংশ লোক গত লোকসভা ও পঞ্চায়েতে ভোটে আমাদের হয়ে কাজ করেনি। তাদেরকে নিয়েই সভা।

প্রাক্তন বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদ বলেন, এটা জেলা কমিটিতে সিদ্ধান্ত হয়েছিল সেখানে সাংসদ মহুয়া মৈত্রও উপস্থিত ছিল। সেখানেই স্থির হয় এনআরসি নিয়ে প্রতিতা ব্লকে আমরা সভা করবো এবং মানুষের মধ্যে যে ভীতি সঞ্চার হয়েছে সেই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করাহবে।

তিনি কারও নাম না করে বলেন কালিগঞ্জ ব্লকে যারা দলের পদে আছেন শুধুই তা খাতায়-কলমে তাদের সঙ্গে মানুষের কোন যোগাযোগই নেই। এবং তারা অনেক কর্মীকে ভয় দেখিয়েছে এই সভায় আসলে তাদের কাজ দেওয়া হবে না। গত দেড় বছরে কালীগঞ্জের বুকে কোন সভা-সমিতি করেনি তারা। জেলার কো-অর্ডিনেটর হিসেবে আমার দায়িত্ব আছে সেটা পালন করছি। দল যদি বসে থাকে আমাকে পথে নামতেই হবে এবং কালীগঞ্জের মানুষ তার জবাব দেবে।

এছাড়াও চেক করুন

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আত্মহত্যা করলেন এক স্কুল শিক্ষক

বিশ্বজিৎ মন্ডল, স্টিং নিউজ, মালদাঃ পারিবারিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.