Breaking News
Home >> Breaking News >> গ্রিন করিডর ছাড়াই জীবন ফিরে পেল খালে ঢুকে পড়া আড়াই ফুটের ডলফিন

গ্রিন করিডর ছাড়াই জীবন ফিরে পেল খালে ঢুকে পড়া আড়াই ফুটের ডলফিন

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ জীবন-মৃত্যুর মাঝে হাতে সময় মাত্র ৫মিনিট। খালের কাদামাখা মাটি ও ইটের রাস্তার উপর দিয়ে ৬০০ মিটার পারি দিতে হবে। নেই কোন গ্রিন করিডর। পরনে সাদা রঙের স্যান্ডো গেঞ্জি। কোমরে গামছা বাঁধা। ওই অবস্থায় বাইক, সাইকেল পাশ কাটিয়ে কাঁধে ডলফিন নিয়ে ছুটছেন বন দফতরের দুই কর্মী। এক বাইক চালকের পিছনে উঠে পড়লেন। তারপর কাদা মেখে নেমে পড়লেন রুপনারায়ণের জলে। মাত্র চার মিনিটেই পথ অতিক্রম। জীবন ফিরে পেল বছর দুয়েকের ডলফিন। শনিবার এ দৃশ্যই লক্ষ্য করল শ্যামপুর থানার অনন্তপুর এলাকার মানুষেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীপথ হারিয়ে খালে ঢুকে পড়েছিল একটি ডলফিন। শনিবার সাত সকালে এ খবর জানতে পারেন স্থানীয় বাসিন্দা আদিত্য মন্ডল। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেটিকে দেখতে হৈচৈ শুরু হয়ে যায়। ভাটা পড়তে থাকায় খালের জল কমতে থাকে। ক্রমশ প্রান সংশয়ে উপনিত ডলফিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অনন্তপুরের শিক্ষক ও পরিবেশ কর্মী অয়ন বর কে বিষয়টি জানানো হয়। শুরু হয় বনদফতরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা। ততক্ষণে ডলফিনের খবর ছড়িয়েছে। যাতে করে ডলফিনটির প্রাণ সংশয় না হয় তা নিশ্চিত করবার চেষ্টা করেন অর্পণ দাস। খারাপ রাস্তার দরুন বন দফতরের টিম আসতেও কিছুটা সময় লেগে যায়। তারপর জাল দিয়ে শুরু হয় উদ্ধারের কাজ। সুস্থ অবস্থাতেই প্রায় দশটার সময় ডলফিন টিকে রূপনারায়ণে ছাড়া হয়। স্থানীয় দুই যুবক এবং অর্পণ কে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ডলফিন উদ্ধারে কি ধরণের অভিযান করা হয়েছিল এ প্রশ্নে উলুবেড়িয়া বন দফতরের রেঞ্জ অফিসার উৎপল সরকার জানান, বেলপুকুর কলেজ থেকে প্রায় দু কিমি দূরত্বে রূপনারায়ণ নদী। ওই রূপনারায়ণ নদীর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি খাল। নদী থেকে প্রায় এক কিমি খালের ভিতর চলে আসে একটি ডলফিন। অনন্তপুর কটন মিলের কাছে একটি কালভার্টে ডলফিন টি জোয়ারের সময় ঢুকে পড়েছে। ভাটার সময় বেরতে পারছে না। দিশেহারা হয়ে পরে ডলফিনটি। আমি সকাল সাড়ে ৭টার সময় খবরটি পাই। আমাদের টিম ওখানে পৌঁছে যায়। ডলফিন জল থেকে তুললে ৫মিনিটের মধ্যে মারা যায়। ফলে উদ্ধারে আমরা ২ বছর আগে ফুলেশ্বর এলাকায় ডলফিন উদ্ধার করেছিলাম। পুরনো পদ্ধতি কাজে লাগাই। আমরা জলে নেমে জাল দিয়ে তাড়া করে খালপথে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকি। এরপর আমরা অন্য সমস্যার সামনা-সামনি হই।

খাল পথে এগিয়ে যেতে গিয়ে দেখা যায় কটন মিলের ব্রজ্য ও রাসায়নিক খালে মিশছিল। ওই বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য কোনভাবে ডলফিনের শরীরে গেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তারপর শুরু হয় প্রধান লড়াই। কারণ ওই জায়গা থেকে রূপনারায়ণ তখনও কয়েকশ মিটার দূরে। জল থেকে তুলবার পর সময় থাকবে ৫মিনিট। ওর মধ্যে আমাদের কাজটা করা অনেকটাই মুশকিল ছিল। খালের জল থেকে প্রথমে ডাঙ্গায় তোলা হয়। ইট রাস্তা দিয়ে ছুটতে ছুটতে যাবার সময় একজনের বাইকের সাহায্য মেলে। বাইকের পিছনে কোলে করে চাপানো হয়। পাঁচ মিনিট সময় অতিক্রমের আগেই সুস্থ ভাবে আমরা ডলফিনটিকে রূপনারায়ণে ছাড়তে সক্ষম হই। ডলফিন কে ওর মতো করে ফিরিয়ে দিতে হয় নদীপথে। সেই কারণে উদ্ধার করতে প্রায় দু ঘন্টা সময় লেগে যায়।

কথায় আছে রাখে হরি তো মারে কে। ওই প্রবাদই আরও একবার প্রমাণিত হল। নদীপথ হারিয়ে শ্যামপুর থানার অনন্তপুর এলাকা খালে ঢুকে পড়া ডলফিন ফিরে পেল তার জীবন। হাসি ফুটেছে অনন্তপুর এলাকার যুবকদের মুখে।

এছাড়াও চেক করুন

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আত্মহত্যা করলেন এক স্কুল শিক্ষক

বিশ্বজিৎ মন্ডল, স্টিং নিউজ, মালদাঃ পারিবারিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.