Breaking News
Home >> Breaking News >> গ্রামের মানুষের খাদ্য সুরক্ষা ও দূষণ রোধে রাজ্য স্তরের বিজ্ঞান মেলায় যাচ্ছে শ্যামপুরের দুই কন্যাশ্রী

গ্রামের মানুষের খাদ্য সুরক্ষা ও দূষণ রোধে রাজ্য স্তরের বিজ্ঞান মেলায় যাচ্ছে শ্যামপুরের দুই কন্যাশ্রী

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ গ্রামের দরিদ্র মানুষদের খাদ্য সুরক্ষা পেতে কিভাবে ভিলেজ ফুড ব্যাংক ও আউটফর্ম মেথড হাইড্রোপনিক্স ব্যবহার করবে। প্ল্যাস্টিক দূষণ কমাতে বায়ো প্ল্যাস্টিক তৈরির পদ্ধতি উপস্থাপন করবে। এমন সৃষ্টিশীল ভাবনা মেলে ধরেছেন দুই কন্যাশ্রী মৌপিয়া মন্ডল এবং সঙ্গীতা কর্মকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব ও বিজ্ঞান মেলার মাধ্যমিক বিভাগে দ্বিতীয় পুরস্কার এনে দিয়েছে। আগামী ১৭ তারিখ রাজ্য স্তরে লড়াইয়ে নামতে চলেছে দুই কন্যাশ্রী।

মৌপিয়া মন্ডল এবং সঙ্গীতা কর্মকার গ্রামীণ হাওড়ার শ্যামপুর থানার গুজারপুর বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হয়েও গ্রাম চিন্তাভাবনায় ওরা বাকিদের থেকে এগিয়ে। গ্রামের পরিবেশে বড় হয়েছে। প্রতিদিন লক্ষ্য করেছে কিভাবে নিঃশব্দে দূষণের কবলে পরিণত হচ্ছে গ্রাম। গ্রীষ্মকালে জলস্তর নেমে যাচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে চাষের। প্ল্যাস্টিক গ্রামের পুকুরকে গ্রাস করছে। স্কুলে পড়াশোনা করা দুই মেয়ে নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে স্কুলের শিক্ষিকার কাছে পৌঁছায়।

বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা সংহিতা ঘোষাল জানান, সেপ্টেম্বর মাসে ব্লক স্তরে বিজ্ঞান মডেল প্রদর্শনীর সুযোগ আসে। তখন দুই কন্যাশ্রী মৌপিয়া এবং সঙ্গীতা ‘গ্রীন স্মার্ট ভিলেজ’ নিয়ে উপস্থিত হয়। ওদের চোখে দেখেছিলাম পরিবেশের প্রকৃত চিত্র। এমন একটি গ্রামকে তুলে ধরা হবে যেখানে পরিবেশের সমস্ত উৎস গুলো যথাযথ বজায় থাকে। তখন আমরা মডেলের মধ্যে খাদ্য সুরক্ষার জন্য ভিলেজ ফুড ব্যাঙ্ক এর ভাবনা, আউটফর্ম মেথড অফ হাইড্রোপনিক্স রেখেছিল। এর সাথে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তির ব্যবহারও ছিল। কিন্তু হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে চাষের ক্ষেত্রে খরচ বেশি। তাই ভাবনায় আনা হয় আউটফর্ম মেথড অফ হাইড্রোপনিক্স। যেটা হল মাটিবিহীন অবস্থায় কম জল ব্যবহারের চাষ। এইভাবে শাক, শশা, টম্যাটো, লংকা ফলানো যাচ্ছে। দুই কন্যাশ্রীর এই চেষ্টা শ্যামপুর ১ ব্লকের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া বিজ্ঞান মেলায় গুজারপুর বালিকা বিদ্যালয় প্রথম পুরস্কার নিয়ে আসে। তারপর জেলা স্তরে মাধ্যমিক বিভাগে বিজ্ঞান মেলায় দ্বিতীয় স্থান করে। জেলার মধ্যে একটি মাত্র বালিকা বিদ্যালয় হিসাবে পুরস্কার লাভ করে। এবার রাজ্য স্তরে যাত্রা।

মৌপিয়া ও সঙ্গীতা দুজনের কথায়, গ্রামে থেকে লক্ষ্য করেছি গ্রীষ্মকালে দাবদাহে ফসল মুলত নষ্ট হয় জলের জন্য। এই জন্য ফসলের দামও বেড়ে যায়। মাটি শক্ত হয়ে পড়বার দরুন চাষাবাদ কমে যায়। বিশেষ করে বীরভূম, বাকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়া জেলায়। মাটিউ ব্যবহার না করে জলসহ প্রোটিন দ্রবন সরবরাহের মাধ্যমে চাষের কথা শিক্ষিকার কাছে তুলে ধরি। জেলাস্তরে প্রতিযোগিতা ছিল অত্যন্ত কঠিন। হাওড়া জেলার শহরাঞ্চলের স্কুল গুলির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্রী হয়েও লড়াইটা দিয়েছিলাম। বিচারকদের সামনে গ্রামের দরিদ্র মানুষরা কিভাবে খাদ্য সুরক্ষা পেতে ভিলেজ ফুড ব্যাঙ্ক ও আউটফর্ম মেথড অফ হাইড্রোপনিক্স ব্যবহার করবে। আমরা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করি। ১৭ তারিখ গ্রাম রক্ষার ভাবনা নিয়ে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে যাচ্ছি। এবারে লড়াই রাজ্য ভিত্তিক। আমাদের লক্ষ্য থাকবে রাজ্যের মধ্যেও সাফল্য পাওয়া। এবং তা অবশ্যই গ্রাম রক্ষা দিয়েই।

গ্রামকে রক্ষা করতে হবে। গ্রামের মানুষ খাদ্য সমস্যা ভুগলে শহরে যাবে। সেক্ষেত্র শহরে জন বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা থাকবে। বাড়বে দূষণ। মানুষের বাঁচার প্রথম চাহিদা খাদ্যের যদি সঠিক ব্যবস্থা করা হয় সেক্ষেত্রে গ্রাম ও শহর দুই বাঁচবে। পৃথিবী হবে সুন্দর। বৃহৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে দুই কন্যাশ্রী মৌপিয়া ও সঙ্গীতা যাচ্ছে জেলা ও স্কুলের মুকুটে নতুন পালক জুড়তে।

এছাড়াও চেক করুন

ফাঁসিদেওয়ার মুণি চা বাগানে গণ বিবাহ অনুষ্ঠানে হাজির পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব

বিশ্বজিৎ সরকার, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, দার্জিলিংঃ শুক্রবার শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের মুণি চা বাগানে শ্রীহরি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.