Breaking News
Home >> Breaking News >> বর্ণময় শিশু দিবসে মেতে রইল শৈশব

বর্ণময় শিশু দিবসে মেতে রইল শৈশব

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ মহান দেশে শিশুদের মুক্তিযুদ্ধ বললেও বোধহয় ভুল বলা হবে না। কাঁধে ঝোলা ব্যাগে ভরা পাঠ্যপুস্তক। মাথার উপর হিমালয়ের মতো চাপ। স্কুলে প্রথম হবার এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবার লড়াই পরিবারের চোখেমুখে। পাকা মস্তিষ্কের মানুষদের কথায়, আজকের শিশুরাই আগামীদিনের সক্ষম নাগরিক। তাই একটু চাপ তো দিতেই হয়! কিন্তু এই মুক্তিযুদ্ধ লড়াইয়ের শেষ কোথায়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা স্বস্তি বোধহয় সেদিন মিলবে, যেদিন দেশ পাবে স্যার আবদুল কালামের মতো বিজ্ঞ কোনও নাগরিক। সেই দিনের অপেক্ষায় ‘শিশু দিবস’।

শিশু দিবস উপলক্ষ্যে জেলাজুড়ে ছিল বর্ণময় চিত্র। নবান্নে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গেছে বেলতলা গার্লস এবং ভবানীপুরের খালসা হাইস্কুলর ১২জন পড়ুয়াকে ডাকা হয় নবান্নে। মুখ্যমন্ত্রী পড়ুয়াদের চকোলেট এবং টেডিবিয়ার উপহার দেন। পড়ুয়াদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে শিশু দিবস উপলক্ষে সাঁকরাইল থানায় শিশু দিবস পালন করা হয়। কচি কাঁচাদের নিয়ে বৃক্ষ রোপণের ব্যবস্থা করা হয় সাঁকরাইল থানায়। শিশু দিবসে অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্রের শিশুদের চকলেট বিতরণ করেন আমতা ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকান্ত পাল। শ্যামপুর থানার গোহালাপোতা গ্রামে অনাথ ও প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিল শ্যামপুরের যুবক রামানন্দ সরকার এবং আই সি ও ডি নামক একটি সংস্থা। ছিলেন ওই সংস্থার মহারাজ ব্রাদার গ্যাটসন। ওই এলাকার ইট ভাটায় কাজ করতে আসা বিভিন্ন জায়গায় শিশুদের মিষ্টি ও চকোলেট দিয়ে শিশু দিবস উদযাপন করা হয়। চাচা নেহরুর জন্মদিন ও শিশুদের দিয়ে আনন্দ দিবস উদযাপন করা হয় বাঁটুল মহাকালী প্রাথমিক ও হাইস্কুলের যৌথভাবে
মহাত্মা গান্ধীর রূপে সাত্যকী, বিবেকানন্দ এর রূপে সৌরেন্দু, বিশ্বকবি র রূপে ইন্দ্রজিৎ নজর কাড়ে। ছোট্ট সুখেন্দু তবলার বোল তুলতে যখন ব্যস্ত, ফিরদৌস, স্বর্ণদীপা, প্রীতম ,লক্ষ্মীপ্রিযা, তনিকা, পারমিতা, বর্ণালী, সুদীপ্তা, মৌমিতা সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। ছোট্ট সমাদৃতার বক্তব্য সকলের মন ছুঁয়ে যায়। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা চাচা নেহরুর প্রতিকৃতি তে মাল্যদান করেন।

বাগনান আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সুজিত কুমার মন্ডল এর কথায়, “নরেন, রবিঠাকুর, বিদ্যাসাগর মহাশয় জন্মজন্মান্তর সমাজের আইকন। বাংলা মাধ্যমেই পড়ে আমাদের আদর্শ হয়েছেন। ছোট্ট শরীরে পিঠে কেজি-কেজি ওজনের বইয়ের ব্যাগ নিয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে হয়নি। আজ শিশু দিবসে বলতে বাধা নেই, সমাজের সবচেয়ে দূর্বল অংশ বোধহয় আজকের শিশুরাই। ছোট থেকেই তাদের মেশিনের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। কৈশোর এবং শৈশবেই মস্তিষ্ক উজাড় করে দিতে হচ্ছে। মনে পড়ে, ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত এক ৮-৯ বছরের কৈশোর ঈশান আওয়াস্তির কথা। বই পড়তে তো দূর বানান করতেও পারেনা। পিতার শাসন, মায়ের চোখের জল পার করে বোর্ডিং স্কুলে যেতে হয়। শিক্ষক থেকে শুরু করে বন্ধু-বান্ধব, বাবা সবাই তার উপর বিরক্ত। একদিন সেই ঈশান হয়ে ওঠে দশের মধ্যে একজন। কিন্তু কিভাবে? সেটাই সবাইকে শিখিয়েছেন দুরন্ত মনের স্যর আমির খান। মোদ্দাকথা শিশুদের মনের কথা পড়তে হয়, খাতায় লিখতে হয় সেটা পরিবার কেই বুঝতে হবে।

এছাড়াও চেক করুন

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আত্মহত্যা করলেন এক স্কুল শিক্ষক

বিশ্বজিৎ মন্ডল, স্টিং নিউজ, মালদাঃ পারিবারিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.