Breaking News
Home >> Breaking News >> চোখের আড়ালে ফুটপাথের হোটেলে অবাধে চলছে শিশু শ্রমিকদের কাজ করানো

চোখের আড়ালে ফুটপাথের হোটেলে অবাধে চলছে শিশু শ্রমিকদের কাজ করানো

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ হাওড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন শ’য়ে শ’য়ে বাস গঞ্জ ও বিভিন্ন শহর অভিমুখে রওনা দিচ্ছে। যাত্রীরা বাসে উঠবার আগে ছোট ছোট গুমটি দোকান থেকে ঘুগনি-মুড়ি সঙ্গে চানাচুর, কাঁচালংকা এমনকি চপ-সিঙ্গারা কিনে নিচ্ছেন। চপ গরম কিনা, ঘুগনি আজকের তৈরি এটুকু জিজ্ঞাসা করেই কিনে বাসে উঠে পড়ছেন। বিক্রেতার বয়স নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। দেখে না পুরসভা থেকে প্রশাসনের লোকজন। এই ফাঁকে অবাধে শিশু শ্রম চালিয়ে যাচ্ছে দোকানদার থেকে রেস্তরার মালিক।

‘ভোলা তাড়াতাড়ি থালাগুলো ধুয়ে দে বাবুরা কখন থেকে খাবে বলে বসে আছেন। হ্যাঁ দিচ্ছি’ মালিকের কথায় জবাব দিয়ে ছোট ছোট হাতে দ্রুত থালা ধুতে থাকে শৈশব। কথাগুলো হিন্দিতে হলেও বাংলাতে তর্জমা করলে এটাই দাঁড়ায়। হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকা, শহরের একাধিক ফুটপাথ দখল করে গজিয়ে ওঠা সারিসারি ভাত, ডাল, মাছ, মাংসের হোটেল গুলোতে বিহার থেকে দঃ২৪ পরগণা জেলা থেকে আসা ভোলার সংখ্যা অজস্র। কেউ আসে নাম পরিচয়হীন ঠিকানা থেকে। আবার কেউ আসে অভাবের তাড়নায় দুবেলা দুমুঠো ভাত ও মাসের শেষে পরিবারের হাতে কিছু টাকা তুলে দেবার আশায়। এই সুযোগে শিশু শ্রম আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মালিকরা দিন-রাত এক করে খাটিয়ে নিচ্ছে সবে কৈশরে পা দেওয়া ভোলাদের।

ভোলাদের প্রশ্ন করলে উত্তর দেয় দোকান মালিক। রামু দাস নামে এক চা দোকানের মালিকের কথায়, ওর বাবা মারা যাওয়ায় ভাই-বোন মা কি খাবে কাজে চলে এসেছে। প্রতিদিন দুবেলা ভাত সঙ্গে মাসের শেষে দুহাজার টাকা। ওই টাকা দেশের বাড়িতে মায়ের কাছে পাঠায়। প্রশাসনের ঝক্কি থেকে যায়। এই কারণে কাগজে ওর মায়ের কাছ থেকে লিখে নিয়ে এসেছে।

অখিলেশ ওরফে ভোলাকে কি কি কাজ করতে হয় ? ভোর ভোর ঘুম থেকে উঠে কয়লা ভেঙ্গে আঁচ দেওয়া থেকে শুরু করে দিনপঞ্জিকা। টাইমকলে জল এসে গেলে বড়বড় জলের ড্রাম ভরা, মাঝেমধ্যে বয়েও আনতে হয়। খাবার বানাতে বাবুর সঙ্গে হাত লাগাতে হয়। বেলা বাড়লে রাস্তায় মানুষের আনাগোনা শুরু হয়। ফুটপাথেও ভিড় বাড়তে থাকে, চাপ পড়তে থাকে কাজে। বসার জায়গা পরিষ্কার করা, থালা বাটি গ্লাস ধোয়া খেতে দেওয়া এমনি হাজারো কাজ ছোট হাত দিয়ে করতে হয়। দুপুর গড়াতে থাকলে হাঁড়িতে পরে থাকা ভাত, কিছুটা ডাল, সামান্য সবজি দিয়ে কোনরকমে পেটটা ভরিয়ে নেয়। বিকেল হলে পরের দিনের জন্য আলু পিঁয়াজ সবজি ছাড়িয়ে রাখতে হয়।

পথশিশুদের সমাজের মুল স্রোতে ফেরানোর কাজ করে চলেছে হাওড়া স্টেশন চাইল্ড লাইন। শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে শিশুদের নিয়ে একাধিক অনুষ্ঠান রাখে। চাইল্ড লাইনের দায়িত্বে থাকা এক কর্তার কথায়, হাওড়া স্টেশনের মত এক বিশাল কর্মব্যাস্ত এলাকায় অনেক দরিদ্র পরিবারই খুঁজে ফেরে তাদের রুজিরুটি। অস্বাস্থ্য কাজকর্ম মধ্য দিয়ে পয়সা রোজগারের কাজে মা বাবার সাথে হাত লাগায় শিশুরাও। একটু বড় হলেই নিজের রোজগারের পয়সা খরচ করে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। তাদেরকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার কাজও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে চলেছেন হাওড়া স্টেশনে চাইল্ড লাইন। এছাড়া শিশুদের হারিয়ে যাওয়া তাদের উদ্ধারে কাজ করা হচ্ছে। গত বেশ কয়েক বছর ধরে হাওড়া স্টেশনে একটি হেল্প ডেস্ক খুলে হাওড়া স্টেশনে থাকা বা আসা পথশিশুদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন।

পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের দিয়ে হোটেলে কাজ করানোর খবর নেই। তবে ভেজাল খাদ্য দ্রব্য বিষয় একাধিক বার স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে।

এছাড়াও চেক করুন

ফাঁসিদেওয়ার মুণি চা বাগানে গণ বিবাহ অনুষ্ঠানে হাজির পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব

বিশ্বজিৎ সরকার, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, দার্জিলিংঃ শুক্রবার শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের মুণি চা বাগানে শ্রীহরি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.