Breaking News
Home >> Breaking News >> পাথরপ্রতিমার বুলবুল দুর্গত রশিদা তারিমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তরুণী সমাজকর্মী স্বপ্না মিদ্যা

পাথরপ্রতিমার বুলবুল দুর্গত রশিদা তারিমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তরুণী সমাজকর্মী স্বপ্না মিদ্যা

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ পাথরপ্রতিমা গ্রাম পঞ্চায়েতের হেরম্ব গোপালপুর গ্রাম। বুলুবুল প্রভাবে একাধিক বাড়ি তছনছ হয়ে গিয়েছে। ৮০টির মতো পরিবার ত্রানের অপেক্ষায়। ডায়মন্ড হারবার থেকে পৌঁছে যাওয়া রায়দীঘি দমকল ঘাট। ওখান থেকে নদী পার করে দ্বীপ অঞ্চল হেরম্ব গোপালপুর গ্রাম। সাড়ে চারঘন্টার রাস্তা একা অতিক্রম করে দ্বীপ অঞ্চলে তরুণী সমাজকর্মী স্বপ্না মিদ্যা। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় পৌছাতে পথে পড়েছে গাছপালা ভেঙে পড়া ছবি। ধুয়ে যাওয়া রাস্তা, উঠে গেছে ইট। লক্ষ্য স্থির করে এগিয়েছে।

এক দশক আগে আয়লায় ছারখার হয়ে গিয়েছিল সুন্দরবন অঞ্চলের একাধিক গ্রাম। এবার বুলবুল। শুক্রবার বিকেল থেকেই মোবাইলে লাইভ টিভিতে চোখ রেখেছেন। যেভাবে ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে বুঝে যায় কি ঘটতে চলেছে। শনিবার সন্ধ্যায় ঝড় আছড়ে পড়তেই স্বপ্না নিজেকে স্থির রাখতে পারেনি। রবিবার সকাল থেকে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে দেয়। প্রশাসনের শত চেষ্টা স্বত্বেও ধংস আটকানো সম্ভব হয়নি। রায়দিঘী থেকে খেয়া পার করে ১ ঘন্টা ভিতরে গ্রামে একাই পৌঁছে নিজ চোখে দেখে বাকরুদ্ধ হবার জোগাড়। প্রাথমিক ভাবে স্থানীয়দের থেকে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে দেয়। প্রচুর ক্ষয়-ক্ষতি কথা জানতে পারেন। সমস্তটা ডাইরির পাতায় লিখে নিতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে থেকে ৮০ টি পরিবারকে বেছে নেওয়া হয়। যাদের আপতাকালিন ভাবে সাহায্যের প্রয়োজন। চাল, ডাল, চিঁড়া, গুড়, বিস্কুট, মুড়ি, মোমবাতি। তারপর শুরু স্বপ্না’র কঠিন লড়াই।

স্বপ্না কে দেখে এগিয়ে আসে দুর্গত এলাকার বাসিন্দা রশিদা সর্দার। একমাস হয়েছে ক্যান্সার আক্রান্ত স্বামী চারটি সন্তান রেখে মারা গিয়েছেন। সবথেকে ছোট বাচ্চাটি একবছরও বয়স নয়। রশিদা জানেনা কিভাবে সংসার এগিয়ে নিয়ে যাবে। তার উপর দোষর বুলবুল। ভেঙে গিয়েছে ঘর। খড়ের চাল ধসে পরেছে। ভাগ্যিস স্কুলঘরে উঠে গিয়েছিল নইলে কি হত ভেবেই পাচ্ছে না রশিদা। স্বপ্না’র কাছে সমস্তটা জানিয়েছেন। একি অবস্থা তারিমা লস্করের। স্বামী শ্রমিকের কাজে বাইরে থাকে। এক বছর তিনমাসের সন্তান কে নিয়ে সাহায্যের জন্য হাতড়াচ্ছে। মনিরতট এলাকার আরও এক গৃহবধূ মাটির ভাঙা ঘরের সামনে মাথায় হাত দিয়ে বসে। শ্বশুর-শাশুড়ি সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র উঠে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। সকালে কোদাল-শাবল দিয়ে মাটি ও বাঁশ সরিয়ে ঘরের জিনিষপত্র বাইরে আনা হয়। ঝড়ের দুদিন পরেও আতঙ্কের মেঘ পাথরপ্রতিমার একাধিক গ্রামে।

ঠাকুরপুকুরের বিবেকানন্দ কলেজ থেকে স্নাতক করা সমাজকর্মী স্বপ্না মিদ্যা জানান, “বুলুবুল কতটা ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলেছে এলাকায় পৌঁছাবার অন্তত দু কিমি আগে থেকেই বোঝা যায়। প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক লাইভ স্ট্রিমিং দিয়েছি। একাউন্ট নম্বর সহ আবেদন জানিয়েছি। ৪৫ টি পরিবারের জন্য সাহায্য পৌঁছেছে। বাকি রয়েছে এখনও ৩৫ টি পরিবার। আশা রাখি ও ভরসা রাখছি সবাই সাহায্যের হাত বাড়াবেন।” ডায়মন্ড হারবার এলাকার বাসিন্দা হলেও স্বপ্না হাওড়া সহ বিভিন্ন জেলায় সামাজিক কাজ করেন। কাঁধে ঝোলান ব্যাগে জলের বোতল সঙ্গে চানাচুর মেশানো মুড়ি, হাতে একটা মোবাইল নিয়ে বুলবুল ক্ষতিগ্রস্ত পাথরপ্রতিমা, জয়নগর এলাকায় একাই ছুটে গিয়েছে। স্বপ্না কে কাছে পেয়ে রশিদা, তারিমা, সাকিনা সহ একাধিক ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার কষ্টের কথা শুনিয়েছে। স্বপ্না আরও জানান, “বুধবার সাহায্য নিয়ে পৌঁছাছি ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামে। চেষ্টা করছি অন্তত ৫৬ টি পরিবারের হাতে খাবার সহ একাধিক বস্তু তুলে দেওয়ার। যারমধ্যে রয়েছে ৫ কেজি চাল, বিস্কুটের একটি প্যাকেট, ৫০০ গ্রাম ডাল, মোমবাতি, ১কেজি চিঁড়া, ১কেজি মুড়ি এবং ২০০ গ্রাম গুড়।

জলে-জঙ্গলে লড়াই যাদের তাঁদের পাশে থাকার বার্তা পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। সাহায্যর হাত বাড়িয়েছেন বিপ্লব প্রামাণিক, প্রীতম করাতি, বিতন সানা, আশিস রায় সহ অনেকে। প্রত্যেকে স্বপ্না’র সাহসী সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানিয়েছে। সমস্ত প্রশংসা সরিয়ে দুর্গত মানুষদের হাতে ত্রান তুলে দিতে বদ্ধ পরিকর সমাজকর্মী স্বপ্না মিদ্যা।

এছাড়াও চেক করুন

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আত্মহত্যা করলেন এক স্কুল শিক্ষক

বিশ্বজিৎ মন্ডল, স্টিং নিউজ, মালদাঃ পারিবারিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.