Breaking News
Home >> Breaking News >> বুলবুল বাধা কাটিয়ে ঐতিহ্যের রাস পুজোয় মেতে উঠেছে বিনলা-কৃষ্ণবাটী গ্রাম

বুলবুল বাধা কাটিয়ে ঐতিহ্যের রাস পুজোয় মেতে উঠেছে বিনলা-কৃষ্ণবাটী গ্রাম

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ সময়টা ১৩৪৪ বঙ্গাব্দ। দেবেন্দ্রনাথ চন্দ্র, পরান দাস, শীতল প্রামাণিক, জয়ন্ত দাস সহ বিনলা গ্রামের প্রায় জনা দশেক যুবক শুরু করেন রাস পুজো। তাঁদের হাত ধরে শুরু হওয়া রাস ক্রমে সে হয়ে উঠল সর্বজনীন। গ্রামীণ হাওড়ার বিনলা-কৃষ্ণবাটী-নিশ্চিন্তপুর পূর্বপাড়া গ্রামের ঐতিহ্যের রাস দেখতে দূর দূরান্ত থেকে কয়েক হাজার মানুষ পাঁচ দিন ভিড় জমান।

দামোদরের গা ঘেঁষে ত্রিশ ঘর প্রতিমা শিল্পীর বাস। পেশা বলতে দুর্গা, লক্ষ্মী, কালী সহ একাধিক দেবতার রূপ দেওয়া। এতে করেই দিব্যি চলছে সংসার। বাড়ির ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করে পাশেই থলিয়া ইউনিয়ন হাইস্কুলে। কার্তিক মাসের পূর্ণিমা আসলে গ্রামের প্রতিঘরে উৎসবের মেজাজ। রাজ্যের বাইরে কাজ করা ছেলেরা ঘরে ফিরে আসে। গোলা দেওয়া হয় উঠোনে। চৌকাঠে, মন্দিরে আঁকা হয় আলপনা। প্রতি ঘর আত্মীয় স্বজনে ভরে যায়। কালিপদ রক্ষিতদের দান করা জায়গায় পাঁচ দিন জমিয়ে চলে রাস উৎসব। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ছাড়াও পঞ্চাশটির বেশি মাটির বিভিন্ন মডেল বানিয়ে রাখা হয়। ওই মডেল পৌরাণিক ইতিকথা তুলে ধরে। এই ক’টাদিনের জন্য সারা বছর মুখিয়ে থাকেন বিনলা-কৃষ্ণবাটী গ্রামের হাজারো মানুষ।

রাস কমিটির সভাপতি বিজয় চন্দ্র চন্দ্র জানান, “আমাদের গ্রামের রাস বহু ইতিহাস ধরে রেখেছে। ১৩৪৪ সালে এখানে রাস প্রথম শুরু হয়। সেই থেকে চলে আসছে। ৭৮ সালের বন্যায় জল থাকা অবস্থাতেই রাস হয়েছে। রাস শুরু করবার প্রকৃত কারণ হিসাবে জানা গেছে, সেই সময় এখানে এত ঠাকুর গড়া হতো না। কাজ না থাকায় বাইরের দিকে কাজে চলে যেত ছেল-ছোকরাদের। ফলে গ্রামে এসে অনুষ্ঠান দেখতে পেত না। তখন ওঁরা রাস পুজো শুরু করেন। কিন্তু রাসের জন্য নিদ্দিষ্ট জায়গা না থাকায় গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় করা হতো। পরে গ্রামের ছেলে কলকাতার বাসিন্দা কালিপদ রক্ষিতদের পরিবার রাসের জন্য জায়গা দেন। সেই থেকে নিদ্দিষ্ট জায়গায় হচ্ছে। রাস পুজোর কৃষ্ণের নাম থেকেই কৃষ্ণবাটী গ্রামের নামকরণ হয়। উদ্বোধন হবে স্বামী ভাবাস্থিতানন্দ মহারাজ জির হাত ধরে।”

গ্রামবাসীদের কথায়, বিনলা-কৃষ্ণবাটী-নিশ্চিন্তপুর পূর্বপাড়া গ্রামের রাস হলেও লোকমুখে থলিয়া গ্রামের বলে পরিচিত। এখানের প্রতিটি বাড়ির লোকজন বছরভর ঠাকুর গড়ার কাজ করে থাকেন। রাস পুজোর জন্য প্রত্যেক বাড়ি থেকে একটি দুটি করে বিভিন্ন মডেল বানান। জায়গা কম হলেও মেলা বসে। পাঁচদিন রাসের শুরুর আগে সাজানো হয়েছে আলোকসজ্জায়। মানুষজন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ভাবে আসেন রাসের মজা নিতে। রয়েছে একটি মন্দির। ওই মন্দিরে রাস পুজো হবে। সহঃ সেক্রেটারি সুকুমার চন্দ্র জানান, বুলবুল এর প্রভাবে শুক্রবার বেলা থেকে তিনদিন একনাগাড়ে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দরুন রাধা ও শ্রীকৃষ্ণ মূর্তি শুকোতে সমস্যা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মডেল তৈরি করতেও সমস্যায় পড়েছে মৃৎ শিল্পীরা। রঙ চড়ানো হচ্ছে সন্ধ্যার আগেই মন্দিরে চলে আসবে দেবতা। রাসপূর্ণিমার নির্ঘণ্ট ও সময়সূচি মেনে পুজো হবে। থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এছাড়াও চেক করুন

ফাঁসিদেওয়ার মুণি চা বাগানে গণ বিবাহ অনুষ্ঠানে হাজির পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব

বিশ্বজিৎ সরকার, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, দার্জিলিংঃ শুক্রবার শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের মুণি চা বাগানে শ্রীহরি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.