Breaking News
Home >> Breaking News >> থিমের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে প্লাস্টিক বর্জন, জমজমাট নবদ্বীপের বিখ্যাত রাস

থিমের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে প্লাস্টিক বর্জন, জমজমাট নবদ্বীপের বিখ্যাত রাস

স্টিং নিউজ সার্ভিস, নবদ্বীপ: শারদ উৎসবের পর এবার রাসেও থিমের দাপট। পাশাপাশি শহরকে প্লাস্টিক মুক্ত করারও ডাক দিল নবদ্বীপের বেশকিছু বারোয়ারী। ইতিমধ্যেই প্রচার থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাজারে, প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি অভিযান চালায় নবদ্বীপ পৌরসভা। বাজেয়াপ্ত হয় প্রচুর নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ও থার্মোকল।

এরপরও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে লাগাতর প্রচার চালাতে থাকে নবদ্বীপ পৌরসভা। এবছর শারদ উৎসবে নবদ্বীপের বেশকিছু ক্লাব ও বারোয়ারী প্লাস্টিকের কুফল সম্বন্ধে মানুষের মধ্যে প্রচার চালিয়েছিল। দুর্গা পূজার রাসেও একই চিত্র দেখা গেল। পোড়াঘাট গৌরগঙ্গা স্পোটিং ক্লাব পরিচালিত গৌরগঙ্গা মাতা পুজো কমিটির সদস্যদের এক অভিনব পন্থা দেখা গেল। প্লাস্টিক বর্জনের ডাক দিতে ওই পুজো কমিটির সদস্যরা সরাসরি বাজারে প্রবেশ করে, এক একজন ক্রেতার হাতে তুলে দিলেন, একটি করে কাপড়ের তৈরি ব্যাগ। এতে যেমন খুশি ক্রেতা তেমনই খুশি পুজো কমিটির সদস্যরাও।

গৌরগঙ্গা পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য গৌরহরি সাহা জানান, দেশ থেকে প্লাস্টিক মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর সরকার। প্লাস্টিকের কুফল এর বিষয়ে সাধারণের মধ্যে সচেতনতা গড়ে উঠুক এটা আমরা সকলেই চাই। তাই প্লাস্টিক বর্জনের ডাক দিতে রাস উৎসব কে বেছে নিয়েছি। আমাদের সদস্যরা বাজারে ঢুকে প্রতিটি ক্রেতার হাতে একটি করে কাপড়ের ব্যাগ তুলে দেয়। নিতাই সাহা নামক এক ক্রেতা ব্যাগ পেয়ে যারপরনাই খুশি।

গৌরহরি সাহা আরও জানান, আমাদের পুজো এবছর একশো উনিশ তম বর্ষে পা দিল। সম্পূর্ণ বৈষ্ণবীও মতে পূজিত হন গৌরগঙ্গা মাতা। রাস উপলক্ষে এদিন ব্যাগ বিতরণের পাশাপাশি মহিলারা দীর্ঘ পাঁচশো মিটার রাস্তায় আল্পনা আঁকেন। অন্যদিকে প্লাস্টিকের কুফল বোঝাতে বাজেয়াপ্ত প্লাস্টিকের গ্লাস দিয়ে মণ্ডপ সাজিয়ে তুলেছে নবদ্বীপের আরও একটি পুজো কমিটি।

মালঞ্চপাড়া আমবাগানের ইয়ংব্লাড ক্লাবের এবারের পুজোর থিম প্লাস্টিক বর্জন। তাই বাজেয়াপ্ত প্লাস্টিকের গ্লাস দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে তাদের পুজো মণ্ডপ। অপরদিকে শারদ উৎসবের মতো রাসেও থিমের সমান দাপট অব্যহত। নবদ্বীপের কুটির পাড়া মুক্তিসূর্য ক্লাবের এবারের পুজো মণ্ডপটিকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে অক্ষরধাম মন্দিরের আদলে। তাদের আলোকসজ্জা ও মণ্ডপের কারুকার্য দর্শকদের নজর টানবেই।

শ্রীবাসঅঙ্গন চড়ার জনপ্রিয় ক্লাবের এবারের থিম “অরণ্যের আর্তনাদ”। নির্বিচারে কাটা গাছের যন্ত্রনা ও কষ্ট দর্শকদের সাথে ভাগ করে নেবে পুজো কমিটির সদস্যরা। ষষ্ঠী তলার ওয়াই এম এ পরিচালিত সড়ভুজ মাতা পুজো কমিটির থিম হারিয়ে যাওয়া পিতল শিল্প কে নিয়ে মণ্ডপটি কে গড়ে তোলা হয়েছে সম্পূর্ণ পিতল দিয়ে।

পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য সৈকত সাহা জানান, প্লাস্টিকের যুগে পিতলের তৈরি জিনিসের চাহিদা ক্রমশ কমছে। ফলে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা আজ প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে। একদা ঐতিহ্য বহনকারী পিতল শিল্প কে পুনর্জীবিত করতে এই প্রয়াস বলে জানান, সৈকত বাবু। এছাড়াও সপ্তর্ষি ক্লাবের পুজোর থিম “জল সংকট” । যা প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে দর্শনার্থীদের। ওলাদেবী তলার সবুজ সংঘের এবছরের থিম “কালীয় দমন”।

থিম পুজোর পাসপি বেশকিছু ঐতিহ্য বহনকারী দেবদেবীর প্রতিমাও নজর কাড়বে দর্শনার্থীদের। শ্রীবাস অঙ্গন পাড়ার একদা গাড়াল সম্প্রদায়ের পুজো বলে খ্যাত বিন্ধ্যবাসিনী মাতা। প্রায় তিনশো বছরের প্রাচীন এই পুজো। এখানে সম্পূর্ণ বৈষ্ণবীও মতে পুজিতা হন দেবী।

পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য বিশিষ্ট পন্ডিত শুভেন্দু সিদ্ধান্ত এবং স্থানীয় কাউন্সিলর মিহির পাল জানান, এ পুজোর প্রচলন করেছিল গাড়াল সম্প্রদায়ের মানুষজন। আজ থেকে দুশো নব্বই বছর আগে এ পুজোর সূচনা হয় নবদ্বীপের নিদয়া গ্রামে। সেখানকার গাড়াল সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ এই পুজো প্রথম ঘটে শুরু করে। পরবর্তীতে ঘট থেকে পটে পূজিত হন দেবী। এর অনেক পরে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র এর আমলে পট থেকে মূর্তিতে রূপান্তরিত হয়।

শুভেন্দু বাবু জানান, গাড়াল সম্প্রদায়ের মানুষ আদতে ঘোষ সম্প্রদায়। একদা তারা মহিষের সিং থেকে চিরুনি তৈরি করতেন বলে, তাদের গাড়াল বলা হতো। এর অনেক পরে গঙ্গার ভাঙ্গনের জেরে দেবীর পুজো নবদ্বীপে চলে আসে। এই পুজো খড়েরগোলার বিন্ধ্যবাসিনী বলেও জানে অনেকে। নবদ্বীপ ধাম স্টেশন এর সামনে ভবানী মাতা ক্লাবের পুজো এবছর স্বর্ণ জয়ন্তী বর্ষ।

তাদের ভবানী মাতা পুজোর স্বর্ণ জয়ন্তী বর্ষকে স্মরণীয় করে তুলতে, গরিব মায়েদের শাড়ি ও কম্বল বিতরণ এবং পুজোর দিন প্রায় দুহাজার দর্শনার্থীদের মধ্যে মহা প্রসাদ বিতরণ করা হবে বলে জানান, পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য নিমাই দাস। প্রাচীন মায়াপুর ১ নম্বর মালোপাড়া অধিবাসী বৃন্দের পরিচালনায় অন্নপূর্ণা মাতা নজর কারবেই দর্শনার্থীদের।

তাদের পুজো এবছর একচল্লিশ তম বর্ষে পা দিল। যোগনাথ তলার জোড়া বাঘ গৌরাঙ্গিনী মাতা নবদ্বীপের রাসের অন্যতম প্রাচীন পুজগুলির মধ্যে একটি। রাজপুরোহিত অসীমকুমার ভট্টাচার্যের মতানুশারে, গোলকীনাথ ন্যায়রত্ন এই দেবীর ধ্যানমন্ত্র রচনা করেছিলেন। নবদ্বীপে পট থেকে মূর্তির প্রথম পুজো এলানিয়া কালী। এলো চুলের রমণী বলে তার নাম হয়, এলানিয়া কালী।

এর পাঁচ বছরের মধ্যে আরও বেশকিছু পুজোর প্রচলন শুরু হয়। প্রাচীন পুজোর মধ্যে আমপুলিয়া পাড়ার সবশিবা, রামসিতা পাড়ার বামা কালী অন্যতম। এদিকে দুর্যোগ কাটিয়ে অনেকটাই স্বাভাবিক চৈতন্যের শহর। মঙ্গলবার মূল রাস হলেও সোমবার থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে শহরে।

এদিন রাতে এই শহরে পা রাখবেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তার স্টেশন সংলগ্ন বিশ্বাস পাড়ার নটরাজ পুজোর উদ্বোধন করার কথা। উল্লেখ্য, পুজো উদ্বোধনে তৃণমূল নেতাদের পাশাপাশি এবার আসরে নামতে হল বিজেপিকেও।

এছাড়াও চেক করুন

ফাঁসিদেওয়ার মুণি চা বাগানে গণ বিবাহ অনুষ্ঠানে হাজির পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব

বিশ্বজিৎ সরকার, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, দার্জিলিংঃ শুক্রবার শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের মুণি চা বাগানে শ্রীহরি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.