Breaking News
Home >> Breaking News >> দুর্যোগ কাটিয়ে স্বমহিমায় নবদ্বীপের রাস উৎসব

দুর্যোগ কাটিয়ে স্বমহিমায় নবদ্বীপের রাস উৎসব

স্টিং নিউজ সার্ভিস, নবদ্বীপ, নদিয়াঃ একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে লাগাতার বৃষ্টি অপরদিকে বুলবুলের মতো ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্ক। এই দুইয়ের কারণে নবদ্বীপের রাস উৎসবের প্রস্তুতিতে সাময়িক ভাবে কিছুটা বিলম্ব ঘটলেও তা সামলে নবদ্বীপের একটি রাস বারোয়ারী, তাদের পুজোর উদ্বোধন করে রাস উৎসবের প্রারম্ভিক সূচনা করে দিল।

ঐতিহ্যবাহী নবদ্বীপের রাস উৎসব শুরু হতে এখনও দুদিন বাকি। মূল উৎসব পালন হবে মঙ্গলবার। তার তিনদিন আগেই শুরু হয়ে গেল জগৎবিখ্যাত নবদ্বীপের রাস উৎসব। রবিবার নবদ্বীপের প্রাণকেন্দ্র পোড়ামাতলা রয়েল সোসাইটি পরিচালিত মহিষমর্দ্দিনী মাতার পুজো দিয়ে সূচনা হল নবদ্বীপের বৈচিত্র্যময় রাস উৎসবের। শনিবার রাতে বিধায়ক পুন্ডরীকাক্ষ সাহা এবং পুরসভার পুরপিতা বিমান কৃষ্ণ সাহা যৌথভাবে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং প্রতিমার আবরণ উন্মোচন করে ২০১৯ – এর রাসের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

এরপর রাসের বিষয়ে বিধায়ক বলেন, রাস উৎসব শুধু যে নবদ্বীপবাসীর তা নয়, রাস উৎসব নদিয়াবাসীরও। নবদ্বীপের রাস উৎসবে শুধু রাজ্যের মানুষই নয়, সারাদেশের মানুষও আসেন চৈতন্যভুমির রাস কে একটিবার প্রত্যক্ষ করতে। নবদ্বীপের প্রতিটি মানুষ এবং বারোয়ারীর কাছে বিধায়কের আবেদন, নবদ্বীপের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার দায়িত্ব আপনাদের।

পুরপিতা বিমান কৃষ্ণ সাহা বলেন, নবদ্বীপের জগৎ বিখ্যাত রাস উৎসব কে সর্বাঙ্গীন ও সুন্দর করে তুলতে এখানকার মানুষের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। নবদ্বীপের রাস এক বৈচিত্র্য ভরা রাস উৎসব। দেশ বিদেশে থেকে প্রচুর মানুষ আসেন একটিবার চাক্ষুস করতে। রাস উৎসবে আগত দর্শনার্থীদের কথা ভেবে নবদ্বীপ পৌরসভা বিভিন্ন ব্যবস্থা রেখেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে স্বাস্থ শিবির খোলা থেকে শুরু করে, শহরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার আবেদন জানিয়ে নিয়মিত প্রচার, সবই নিরন্তর ভাবে করে চলেছে নবদ্বীপ পৌরসভা।

এছাড়াও ডেঙ্গুর কথা ভেবে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বল করা হয়েছে বলে জানান, পুরপিতা বিমান কৃষ্ণ সাহা। আগত রাস যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে, শহরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ইতিমধ্যেই অস্থায়ী শিবির খোলা হয়েছে। রয়েল সোসাইটি পরিচালিত মহিষমর্দ্দিনী মাতা বারোয়ারীর সভাপতি ধর্ম সরকার এবং পুজো কমিটির অন্যতম কর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র দত্ত যৌথভাবে জানান, আমাদের পুজো এবছর ৭৮ তম বর্ষে পদার্পণ করল। রাস উপলক্ষে আমাদের পুজোর বৈশিষ্ট্য হল, অন্যান্যদের যেখানে একদিনে পুজো সেখানে আমাদের পুজো চলে তিনদিন ধরে। রবিবার থেকে শুরু হয়ে মূল উৎসব মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে এ পুজো।

এদিন এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা ছাড়াও দুস্থ মায়েদের শীতবস্ত্র প্রদান এবং শহরের বেশকিছু গুণী মানুষকে বারোয়ারীর পক্ষ থেকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। এমনই জানান, পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য কৃষ্ণ চন্দ্র দত্ত। তাছাড়াও পুজোর কয়েকটি দিন থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পোড়ামাতলা রয়েল সোসাইটি বারোয়ারী ছাড়াও বেশকিছু বারোয়ারী পুজোরও শুভ উদ্বোধন হল রবিবার। বিধায়ক ও পুরপিতার পাড়ার পুজো বলে খ্যাত বড়ালঘাটের মহাপ্রভু পুজোরও শুভ উদ্বোধন হল রবিবার বিকেলে। মহাপ্রভুর আবরণ উন্মোচনের মধ্যে দিয়ে শুভ উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন করেন, চৈতন্য জন্ম স্থানের অন্যতম প্রধান, অদ্বিত দাস বাবাজি মহারাজ। এছাড়াও ছিলেন, বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী সেবিত মহাপ্রভু মন্দিরের জয়ন্ত গোস্বামী, বড় পাঠক বাড়ির কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী প্রমুখ। তাছাড়াও ছিলেন, পুরসভার বেশকিছু কাউন্সিলরগণ।

পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানান হয়, রাস উপলক্ষে এ পুজোতে দিনভর হরিনাম সংকীর্তন ছাড়াও সাধারণের জন্য থাকবে মহাপ্রসাদ বিতরণ। রাস উপলক্ষে এদিন আরও দুটি পুজো কমিটির পুজো শুভ উদ্বোধন হয়। একটি আলোছায়ার মোড়ে ভারতমাতা এবং ফাঁসিতলার মহিষমর্দ্দিনী মাতার শুভ উদ্বোধন হল। ভারত মাতার একযোগে উদ্বোধন করেন, বিধায়ক ও পুরপিতা। অন্যদিকে পন্ডিত ব্রজনাথ বিদ্যারত্ন প্রতিষ্ঠিত আমড়াতলার মহিষমর্দিনী মাতার পুজো এবছর ১৮০ তম বর্ষে পদার্পন করল। এই পুজোর সঙ্গে অনেক ইতিহাস জড়িয়ে আছে। এক কথায় এই পুজোকে পন্ডিতদের পুজোও বলা হয়ে থাকে। তন্ত্র সাধক পন্ডিত কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের সাধনপীঠের একপ্রান্তে আমড়া গাছের তলায় পূজিত হতো মহিষমর্দিনী মাতা। আমড়া গাছের নীচে পুজো হতো বলে, একে আমড়াতলা মহিষমর্দ্দিনী মাতা নামেই দেবী পরিচিতি লাভ করেন। বর্তমানে আগমেশ্বরী পাড়ায় নবদ্বীপ পুরসভার বাজার প্রাঙ্গনে পূজিতা হন দেবী। ১৮৪০ সালে এই পুজো আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। দেবীর উচ্চতা এখানে ৩০ ফুট। মহিষমর্দ্দিনী মাতা দশ ভুজা, ত্রিনয়নী, গৌরাঙ্গী রাজবেশে দেবী দুর্গার পদযুগলের ডান পা সিংহের পিঠে আর বাম পা মহিষাসুরের কাঁধে। বৈদিক প্রকরণে দুর্গাধ্যানে আমড়াতলার মহিষমর্দিনী মাতার পুজো হয়। শুরুতে বেশ কয়েকবছর এই পুজোয় মহিষ বলি হত। পন্ডিত ব্রজনাথ বিদ্যারত্ন নিজ হাতে মহিষ বলি দিতেন। সেই বলি প্রথা বহু দিন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে চাল কুমড়ো, আঁখ, কলা বলি দেওয়া হয়।

পুজো কমিটির অন্যতম কর্তা হিমাংশু সাহা জানান, কার্তিক পূর্ণিমার দিন সকালে পুজো মন্ডপে প্রথমে শিব পুজো করা হয়। তারপর শুরু হয় মহিষমর্দ্দিনী মাতার পুজো। প্রাচীন রীতি নীতি মেনে পুজো কমিটির পক্ষ থেকে পন্ডিত ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের হরিসভা মন্দিরে পুজোর উপকরণ পাঠান হয়। অতীত রীতি মেনে দেবীর ভোগে নিবেদন হয় খিচুড়ি, পাঁচ রকম ভাঁজা, মোচা, পুষ্পান্ন, চাটনি, পায়েস, লুচি, মালপোয়া। পুজোর পরদিন আড়ং বা শোভাযাত্রা। আগে বেহারার কাঁধে বাহিত হয়ে নগর পরিক্রমা শেষে বিসর্জন হত। এখন সেখানে বল বিয়ারিং গাড়িতে শোভাযাত্রা হয়। ২০১৬ তে নবদ্বীপ পুরসভার দেওয়া রাসশ্রী সম্মান শ্রেষ্ঠ প্রতিমা এবং ২০১৮ নবদ্বীপের পুরাতন মুক্তিদূত পত্রিকার বিচারে শ্রেষ্ঠ প্রতিমার সম্মান পায় বলে জানান, পুজো কমিটির সদস্য হিমাংশু সাহা।

এছাড়াও চেক করুন

ফাঁসিদেওয়ার মুণি চা বাগানে গণ বিবাহ অনুষ্ঠানে হাজির পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব

বিশ্বজিৎ সরকার, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, দার্জিলিংঃ শুক্রবার শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের মুণি চা বাগানে শ্রীহরি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.