Breaking News
Home >> Breaking News >> নিষেধাজ্ঞা গুটখায় কিন্তু শুনছে ক’জন, বিক্রি হচ্ছে চেনাছন্দে!

নিষেধাজ্ঞা গুটখায় কিন্তু শুনছে ক’জন, বিক্রি হচ্ছে চেনাছন্দে!

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই কি বন্ধ হবে গুটখা বিক্রি! সিগারেট-গুটখার প্যাকেটে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কীকরণের ভয়ঙ্কর ছবি রয়েছে জেনেও মানুষ সমানে কিনছে। বাড়ছে তামাকজাত পণ্যের বিক্রি। নিষেধাজ্ঞা জারির বছর বাড়িয়ে কাজের কাজ কতটা হবে এ বিষয় সন্দিহান সাধারণ মানুষ থেকে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি। চাই নজরদারি ও মোটা অঙ্কের ফাইন। কথা হচ্ছিল স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তার সঙ্গে।

রাজ্যে বামেদের ক্ষমতাচ্যুত করে নতুন সরকার গঠনের দু’বছর পর বিজ্ঞপ্তি জারি করে বন্ধ করে দেওয়া হয় গুটখা বিক্রি। তারপর থেকে বছরভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়া গুটখা বিক্রি ২০১৯ সালে সাতে পা রাখল। বন্ধ হওয়া তো দূর জাতীয় সড়কের গায়ে রেস্তারা। মুদিখানা দোকান থেকে পান-বিড়ির দোকান গুটখার বিক্রি সমানে চলছে। কেউ বিক্রি করছে লুকিয়ে তো কেউ প্রকাশ্যে। গাড়ি থেকে হাত বাড়িয়ে কিনে মুখের মধ্যে ঢেলে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন গন্তব্যে। গ্রাম্য এলাকার দোকানেও বিক্রি হচ্ছে। চা-পান বিড়ির দোকানে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে একাধিক কোম্পানির গুটখা।

ধূলাগড় মোড় মাথায় একাধিক গুমটি দোকান। ভিন রাজ্যের ট্রাক আসে। পাইকারি মার্কেটের দেদার কারবার। বৃহস্পতিবার বেলায় দেখা গেল কোন হেলদোল নেই। গুমটির সামনে পসরা সাজিয়ে চলছে গুটখা বিক্রি। ট্রাক চালকদের অজ্ঞতার কারণে বিক্রি হচ্ছে ভালোই। সতীশ দাস, বিরজু পাসওয়ান নামে দোকানদারের কথায়, ট্রাক চালকরা প্রধান ক্রেতা। ওদের বিক্রি করলেই আমাদের সংসার চলে। বিকল্প জিনিষ বিক্রি করবার না পেয়ে বাধ্য হতে হচ্ছে বিক্রি করতে। রানিহাটি-হাকোলা মোড়, পানিয়ারা সহ একাধিক এলাকার দোকানদাররা গুটখা বিক্রি বিষয় নিষেধাজ্ঞার কথা শুনেছেন। ওঁদের কথায়, কিন্তু যেগুলো কেনা হয়ে গেছে সেগুলো বিক্রি করতে হবে। পুলিশের কড়াকড়ি শুরু হলে ওগুলোকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় আশার আলো দেখছে বহু মানুষ। কলেজপড়ুয়া অনিন্দ জানা, সোমা মাইতি, অনুপমা সাঁতরা প্রত্যেকের কথায়, ট্রেনে করে কলেজ যাওয়ার সময় গুটখার পিচ ফেলতে গিয়ে পোস্টে ধাক্কা লেগে মারা গেছেন এমন ঘটনা দেখেছে। রাস্তা, প্ল্যাটফর্ম, স্কুলের দেওয়াল, যেখানে সেখানে গুটখার পিক পরিবেশ অসুস্থ করে দিচ্ছে। বাস থেকে মুখ বাড়িয়ে ফেলে দেয় পিক/ অনেক সময় মানুষের গায়ে পড়ে। বুঝেও বোঝে না। এ যেন একে অপরের টেক্কা দেওয়া চলছে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও মানুষের মধ্যে সচেতনতা না গড়ে উঠলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি কেউ আটকাতে পারবে না। তবে আশার আলো দেখাচ্ছে অনেকে। অনেক দোকানদার গুটখা বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।

মাতাপাড়া এলাকায় গ্রামীণ চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করা মহম্মদ ইকবালের কথায়, উলুবেড়িয়া স্টেশন রাস্তায় দেখা মিলছে অচেনা দৃশ্য। গুটখার বদলে চিপসের প্যাকেট ঝুলছে। এটা অবশ্যই ভালো দিক। হাওড়া ব্রিজে ইস্পাত গুটখার পিকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফাইবারের বোর্ড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। বুঝতে হবে আমাদের শরীরে ঠিক কি পরিমাণে ক্ষতি করছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতন করবে সরকার এটা ভাবা ভুল। মোবাইলে সমস্তকিছু দেখছে কিন্তু স্বাস্থ্য সচেতনতার পাঠ পড়ছে না কেউ। তবে সরকারের প্রয়োজন মজুত আড়তে হানা দেওয়া। তাহলে আর ছোট দোকানে বিক্রির মাল আসবে না। সেই সঙ্গে জরিমানা বাড়ানো প্রয়োজন তবেই কমবে গুটখার বিক্রি।

এছাড়াও চেক করুন

কেক কেটে শিশু দিবস পালন করল মালদা রেল চাইল্ড লাইনের সদস্যরা

বিশ্বজিৎ মন্ডল, স্টিং নিউজ, মালদাঃ পথশিশুদের নিয়ে কেক কেটে শিশু দিবস পালন করল মালদা রেল …

Leave a Reply

Your email address will not be published.