Breaking News
Home >> Breaking News >> কার্টুন ও মোবাইল গেমসের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া ‘ঠাকুরদার ঝোলা এবং ঠাকুরমার ঝুলি’ পাঠ দিচ্ছে স্কুল

কার্টুন ও মোবাইল গেমসের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া ‘ঠাকুরদার ঝোলা এবং ঠাকুরমার ঝুলি’ পাঠ দিচ্ছে স্কুল

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ টিভিতে নিত্যনতুন কার্টুন। মোবাইলে গেমস আসক্তি। শৈশব ভুলে যাচ্ছে ‘ঠাকুরদার ঝোলা এবং ঠাকুরমার ঝুলি’। স্কুলের পাঠক্রমের বাইরে খুদে পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে এগিয়ে আসলো স্কুল। প্রতি সপ্তাহে একজন করে বয়স্ক ও প্রাজ্ঞ মানুষ আসছেন। শুনিয়ে যাচ্ছেন ঠাকুরদা বা ঠাকুরমার ভূমিকায় গল্প। এমন অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন আমতা আওড়গাছি প্রাথমিক বিদ্যালয় কতৃপক্ষ। খুশি অভিভাবকরা।

শিশুদের মস্তিষ্ক বিকাশে প্রয়োজন খেলার মাঠে ছুটে বেড়ানো। সকাল হলে শুরু হয়ে যায় টিউশন। তারপর স্কুল। বাড়ি ফিরে টিভিতে নিত্যনতুন আকর্ষক কার্টুনে মগ্ন শৈশব। তারপর সময় পেলে কম্পিউটার বা মোবাইলে গেমস খেলা। শৈশব জানতেও পারছে না পৌরাণিক সব গল্প। অভিভাবকদের একাংশ চায় না শিশুদের কাছে পুরাতন ইতিহাস পৌঁছে দিতে। তার পরিবর্তে টিভিতে সিনচেন, ডোরেমন, টম এন্ড জেরি, ছোটা ভীম সহ চিত্তাকর্ষক কার্টুনের সামনে বসিয়ে দিচ্ছেন।

আওড়গাছি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ রঞ্জন রীত জানান, “পুরাণ-এর রামায়ণ, ভূতের, ডাকাতের, রূপকথার, শিকারের অভিযানের, পশুপাখি ,ভ্রমণের ইত্যাদি ইত্যাদি ঠাকুরদার ঝোলা ঠাকুরমার ঝুলি আমরা প্রতি সপ্তাহে ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরবার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এলাকার মানুষ জন যারা এ সমস্ত কাহিনী জানেন তাঁদের স্কুলে এনে শোনাবার ব্যবস্থা করেছি। এতে করে পুরনো কাহিনী শুনতে ও জানতে পারছে ছাত্রছাত্রীরা।”

স্কুলের পক্ষ থেকে জানা গেছে, ইতিমধ্যে গল্প শুনিয়ে গেছেন প্রাক্তন শিক্ষক নিমাই কাঁড়ার। শুনিয়েছেন পুরাণের নানা গল্প। রামায়ণের গল্প শুনিয়ে গেছেন প্রবীণা শ্রাবণী মান্না। বিজ্ঞানের ও ভ্রমণের গল্প শুনিয়েছেন প্রবীণ সৌমেন ঘোষ। ছোট ছোট পড়ুয়ারা নাতি নাতনীর সমান। ওদের আব্দারে তিনি গানও শোনান। এছাড়া স্থানীয় আরও অনেকে এসেছেন ছোটদের মজার মজার কাহিনী শুনিয়ে গিয়েছেন। ছোটরা দুষ্টুমি না করে দাদু-ঠাকুমার সময়কার।

শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সায়ন্তন ব্যানার্জির কথায়, “শিশুদের মোবাইল গেমস বা কার্টুন নির্ভরতা মনের বিকাশে বিঘ্ন ঘটায়। বেশিক্ষণ কার্টুন দেখার পর অন্ততপক্ষে একঘন্টা শিশুর মনে প্রভাব থেকে যায়। সেই সময় পড়াশোনা বা অন্য কোন শিক্ষন বিষয় মাথায় কাজ করতে সময় নেয়। সকাল বিকাল খোলা আকাশের নিচে মাঠে ছোটাছুটি করালে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ঘটে।”

অভিভাবকদের কথায়, ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে আমরাও জানতে পারছি একাধিক কাহিনী। পৌরাণিক চরিত্রর সঙ্গে পরিচয় হয়ে শিশুদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে। এটা অবশ্যই ভালো একটা দিক।

এছাড়াও চেক করুন

বাঁকুড়ায় শুরু হলো শ্রমিক মেলা ২০২০।

নরেশ ভকত, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, বাঁকুড়াঃ আজ শুরু হলো শ্রমিক মেলা ২০২০ । রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published.