Breaking News
Home >> Breaking News >> চন্দননগরের মতো কৃষ্ণনগরেও চারদিনের জগদ্ধাত্রী পুজো

চন্দননগরের মতো কৃষ্ণনগরেও চারদিনের জগদ্ধাত্রী পুজো

স্টিং নিউজ সার্ভিস, কৃষ্ণনগর, নদিয়াঃ চন্দননগরের মতো চারদিনের জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু করল রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের শহরের দু দুটি বারোয়ারী। এমনিতেই হুগলীর চন্দননগরের পাশাপাশি কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো জগৎ বিখ্যাত। এখানকার জগদ্ধাত্রী পুজোর জনপ্রিয়তা শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, ছড়িয়ে পড়েছে দেশ ও দেশের বাইরেও। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো হয় চারদিন ধরে। চন্দননগরে চারদিনের প্রচলন থাকলেও কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজো হয় একদিনে।

এযাবৎকাল ধরে তাই হয়ে আসছে। ব্যতিক্রম নুড়ি পাড়া বারোয়ারী। তাদের জগদ্ধাত্রী পুজো হয় চারদিন ধরে। এবছর নবতম সংযোজন গেট পাড়া রোডের প্রভাতী সঙ্ঘ। তাদের পুজোও এবছর থেকে চারদিনের। রবিবার ষষ্ঠীর দিন থেকে শুরু হয়েছে এই দুটি বারোয়ারীর পুজো। যা আজ অর্থাৎ বুধবার নবমীতে শেষ হবে।

এদিকে কৃষ্ণচন্দ্রের শহরের জগদ্ধাত্রী পুজো বুধবার হলেও মঙ্গলবার বিকেলে থেকেই ঢল নেমেছে দর্শনার্থীদের। ফলে শহরের রাস্তাঘাট কার্যত দখল নেয় দর্শনার্থীরা। যার ফলে শহরের ভিতরে ভারী যানবাহনে নিয়ন্ত্রণ আনতে হয় প্রশাসন কে। জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে কৃষ্ণনগরের ক্লাব বা বারোয়ারী পূজোগুলিতে থাকে বিশেষ অভিনবত্ব। আলোকসজ্জা থেকে মণ্ডপ, বিভিন্ন শৈল্পিক কারুকার্য দর্শনার্থীদের মন ছুঁয়ে যাবেই। দুর্গাপুজোর মতো কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোতেও দেখা মেলে বিশেষ বিশেষ থিম ও আলোকসজ্জার অভিনবত্ব।

এছাড়াও শহরের বিভিন্ন জায়গার বেশ কিছু পুরনো বনেদি বাড়ির পুজোও বেশ উল্লেখযোগ্য। তাদের মধ্যে যেমন লাহা বাড়ি আছে তেমনই পাল বাড়ি এবং ভট্টাচার্য বাড়ি। এছাড়া আছে বিখ্যাত সব বারোয়ারী পুজোর থিম ও মণ্ডপসজ্জার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তাদের বিভিন্ন অভিনব থিমের মণ্ডপ সহ আলোকসজ্জায় মন ছুঁয়ে যাবে দর্শনার্থীদের। চাষা পাড়া বারোয়ারীর ‘বুড়িমা, কৃষ্ণনগরবাসীর কাছে ঘরের ‘মা’। নদিয়াবাসীর বিশ্বাস বুড়িমার কাছে যা মানত করা হয়, তাই পূরণ করে মা। এছাড়াও পাত্রবাজার ‘স্বীকৃতি ক্লাবের পুজো মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের কাছে অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ। মণ্ডপটি গড়ে তোলা হয়েছে ইউনাইটেড কিংডম এর স্বামী নারায়ণ মন্দিরের আদলে। এখানে জগদ্ধাত্রী মূর্তিটিও দেখবার মতো। এছাড়াও আছে ‘ঘূর্ণি শিবতলা বারোয়ারী পুজো। তাদের আলোকসজ্জা ও মণ্ডপটিও দেখবার মতো। তেমনই আলাদা করে দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে ‘জজকোর্ট পাড়া বারোয়ারির “ঢাকিদের” নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান। পাশাপাশি তাঁতিপাড়া বারোয়ারী জগদ্ধাত্রী মায়ের প্রতিমা কে সাজিয়ে তোলা হয়েছে, শিউলি ফুলের বোঁটার রংয়ে।

আবার প্রাচীন পুজোগুলোর মধ্যে বাগদিপাড়া, চকেরপাড়া, ঘূর্ণির হালদারপাড়া বারোয়ারী পুজোও দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ। জগদ্ধাত্রী পুজোর মতো ঘট বিসর্জনও অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কৃষ্ণনগরে। বিভিন্ন পাড়া আর মণ্ডপগুলো কার্নিভালের আদলে জলঙ্গি নদীর ঘাট পর্যন্ত বিভিন্ন ধরণের ট্যাবলো সহ মহিলা ঢাকি এবং ধুনুচি নাচে মাকে বিদায় জানায়। ট্যাবলো সজ্জার থিমেও থাকে অভিনবত্ব।

মূল্যবৃদ্ধি থেকে নারী পাচার, শিশু কল্যাণ, বাহুবলী ও আরও ভিন্ন ভিন্ন থিমের ছড়াছড়ি। ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন হয় বাঁশের কাঠামোয়। সব মিলিয়ে বছর ঘুরলে কৃষ্ণনগরবাসী অপেক্ষায় থাকে, এক অভিনত্বে ভরা জগদ্ধাত্রী পুজোকে ঘিরে। বারোয়ারীর পাশাপাশি এই শহরের অন্যতম বিখ্যাত পুজো রাজবাড়ীর জগদ্ধাত্রী। কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রথম প্রচলন শুরু হয় এই রাজবাড়ী থেকেই। রাজপরিবারের বর্তমান প্রজন্ম এই পুজো গভীর নিষ্ঠা সহকারে করে আসছেন। বুধবার পুজো হলেও মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজবাড়ীর জগদ্ধাত্রী প্রতিমা দর্শনের জন্য সাধারনের জন্য অবাধ করে দেওয়া হয়।

জানা যায়, মুর্শিদাবাদের নবাব কর না দেওয়ার অভিযোগে, বন্দি করে রেখেছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র কে । নবাব জানতেন, পুজোর সময় রাজাকে আটকে রাখলে, দ্রুত কর আদায়ে সুবিধা হবে। হলও তাই। রাজাকে মুক্ত করতে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা কর উঠে এল। রাজার মুক্তিতে প্রজা-পরিজন-বন্ধুরা হাত বাড়িয়ে দিল। পুজোতে তাঁরা তাঁদের রাজাকে যে কোনও মূল্যে ফেরত চান। একেবারে নবমীর দিন শেষবেলায় কৃষ্ণচন্দ্রকে মুক্তি দিলেন নবাব। অধীর আগ্রহে এই দিনটার দিকে তাকিয়েছিলেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র। বিসর্জনের আগে একবার অন্তত দেবীর মুখদর্শন করতে চান তিনি। বিসর্জনের সময় হয়ে আসছে। ঢাক ঢোলের শব্দ, প্রজাদের কোলাহল কানে আসছে তাঁর। রাজবাড়ির কাছে পৌঁছলেন কৃষ্ণচন্দ্র।

ততক্ষনে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে দেবীকে। ডুবে যাচ্ছে দেবীর মূর্তি। কৃষ্ণচন্দ্র সেখানে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই দেবীর চোখটুকুও ডুবে গেল জলে। সেই দেখে নিস্তব্ধ হয়ে গেলেন রাজা। রাজার আক্ষেপ, মাকে যেমন পুজো করা হলোনা, তেমনই দেওয়া হলোনা অঞ্জলিও। সব মেনে নিলেও একবার চোখের দেখার আক্ষেপ তার গেল না। নির্বাক মনে জলের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই যে, তার।

এছাড়াও চেক করুন

ফের সেতু উদ্বোধন নিয়ে দেখা দিল তৃনমুল বিজেপি সংঘাত

নরেশ ভকত, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, বাঁকুড়াঃ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর নবনির্মিত একটি রেলওয়ে ওভার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.