Breaking News
Home >> Breaking News >> জিতলেই করিমপুরে রেল যোগাযোগ বললেন জয়প্রকাশ মজুমদার

জিতলেই করিমপুরে রেল যোগাযোগ বললেন জয়প্রকাশ মজুমদার

স্টিং নিউজ সার্ভিস, করিমপুর, নদিয়াঃ মনোনয়ন জমা পর্বতেও এনআরসি ইস্যু পিছু ছাড়লো না বিজেপিকে। এন আর সি নিয়ে রাজ্যের মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তার জন্য কার্যত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেই কাঠগড়ায় তুললেন, বিজেপি নেতা মুকুল রায়।

মুকুল বলেন, অনুপ্রবেশকারী আর শরণার্থী এই দুয়ের সংজ্ঞাটাই বোঝেনা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করিমপুর বিধানসভা উপ নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদারের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর, সাংবাদিকদের সামনে এই অভিযোগ করেন মুকুল রায়। এছাড়াও তিনি বলেন, এরাজ্যে মানুষের ভয়ের কোনও কারণ নেই।

তার অভিযোগ, এন আর সি নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তৃণমূল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট করে গেছেন এবিষয়ে। মুকুল বলেন, ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস এর রিফিউজি সেকশন ১৯৪৯ সাল ও ১৯৬৯ সালে সংবাদপত্রে বেরিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে যেসব মানুষ অন্য রাষ্ট্র থেকে ধর্মীয় কারনে কিংবা রাজনৈতিক বা অত্যাচারিত হয়ে সেই দেশ ছাড়বেন, তারা হবেন অনুপ্রবেশকারী। ফলে এ রাজ্যে আসা হিন্দু শরণার্থীদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। সে মতুয়া সম্প্রদায় হোক আর নম:শুভ্র হন তারা সবাই সিটিজেন আমেন্ডমেন্ট বিলে নাগরিত্ব পাবেন। সুতরাং যারা এন আর সি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন তারা আর যাই হোক সেই সব মানুষের হৃতকারী নন।

তিনি এও বলেন, যেসব সংখ্যালঘু মানুষজন ১৯৭১ পর্যন্ত পূর্ববঙ্গ থেকে এদেশে এসেছেন, তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও নিচিন্তে থাকুন। তারাও এদেশের নাগরিক। বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদার করিমপুরবাসীর কাছে প্রশ্ন তুলে বলেন, আপনারা করিমপুরবাসী হয়ে কি পেয়েছেন। এই জেলার প্রান্তিক নগর করিমপুরের জন্য মমতা কি করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতদিনেও কেন করিমপুরে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠল না।

তিনি বলেন, করিমপুরের রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। কোনও অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসা করাতে গেলে সদুর কৃষ্ণনগর ছুটতে হয়। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে হাসপাতালে পৌঁছাতে অনেক সময় চলে যায়। ফলে বহু অসুস্থ মানুষ কে রাস্তাতেই জীবন দিতে হয়। এখানে কেন এতদিন একটি অত্যাধুনিক মানের হাসপাতাল গড়ে উঠল না। তার জবাব মমতার কাছে চাইতে বলেন করিমপুরবাসীর কাছে। তিনি বলেন, বিধায়ক হয়ে আমার প্রথম কাজ হবে এখানকার মানুষের চাহিদা পূরণ করা। রেল ব্যবস্থার পাশাপাশি সড়ক ব্যবস্থার উন্নতি। বিজেপি জয়প্রকাশ বলেন, এখানকার মানুষের একটি শংসাপত্র পেতে গেলে একে তাকে ধরতে হতো। সেটা আর থাকবেনা। কারণ তিনি নিশ্চিত তৃণমূল কে হারিয়ে করিমপুর বিধানসভা উপ নির্বাচনে বিপুল ব্যবোধবে জিতবেন।

অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার আগেই জোট প্রার্থীর হয়ে মনোনয়ন জমা দেন গুলাম রাব্বি। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীরা বহিরাগত। একমাত্র আমিই স্থানীয় । অতএব করিমপুরের মানুষ আমাকেই জিতিয়ে বিধানসভায় পাঠাবেন। জেতার ব্যাপারে তৃণমূল ও বিজেপি মতো তিনিও একশো শতাংশ নিশ্চিত।

রাজ্যের অন্য দুটি বিধানসভা আসনের পাশাপাশি করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে উপ নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার। মঙ্গলবার কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদার।এদিন জয়প্রকাশ এর সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায় ও বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়, জেলা উত্তরের সভাপতি মহাদেব সরকার প্রমুখ।

এছাড়াও চেক করুন

ফের সেতু উদ্বোধন নিয়ে দেখা দিল তৃনমুল বিজেপি সংঘাত

নরেশ ভকত, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, বাঁকুড়াঃ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর নবনির্মিত একটি রেলওয়ে ওভার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.