Breaking News
Home >> Breaking News >> কেঁদো না মা, আমি তো তোমার কাছে আছি ছেলে হারিয়ে শোকে পাথর মা, মূর্ছা যাচ্ছেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

কেঁদো না মা, আমি তো তোমার কাছে আছি ছেলে হারিয়ে শোকে পাথর মা, মূর্ছা যাচ্ছেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ বড় ছেলে দুর্গা পুজোর সময় না আসায় কাঁদছিলাম। আশিস চোখ মুছে বলেছিল কেঁদো না মা। আমি তো তোমার কাছে আছি। দাদা দেশের বাইরে আছে তো কি হয়েছে। সেই ছেলের মৃত্যু শোক পাথর করে দিয়েছে মা কে। চোখের কোন দিয়ে গড়িয়ে চলেছে জল। মাঝেমধ্যে ছোট ছেলে আশিস কে ডেকে চলেছে। ফ্রেমবন্দি ছবিকেই কাপড়ের আঁচল দিয়ে মুছে চলেছেন মা কল্পনা শিট।

পরিবারের সদস্যদের কথায়, আশিস চাকরি করতেন সল্টলেক সেক্টর থ্রি এলাকার আই আর এম। আদপে ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা। ওখানেই সমস্ত আত্মীয় পরিজন থাকেন। ওখান থেকে মৌড়ি এলাকায় মা-বাবা ও দুই ভাই চলে আসেন। দুইল্যা গ্রামপঞ্চায়েতের পূর্বাশা চড়কতলায় দু’তলা বাড়ি করেন বাবা সুধির শিট। নাম দেন কল্পতরু ভবন। বড় দাদা দেবাশিস চাকরি সূত্রে স্ত্রীকে নিয়ে জার্মানি তে থাকেন। সামনের রবিবার স্ত্রী রুমার সাদ আছে বলে দিদাকে আনতে নিজেদের গাড়ি নিয়ে ভোর ভোর রওনা দেয় আশিস। সঙ্গে ছিল এলাকার এক বন্ধু উত্তম এবং গাড়ির চালক। রবিবার দুপুরে শেষ বারের মতো মাকে ফোন করেছিল আশিস। জানিয়েছিল জঙ্গলের কাছ দিয়ে মামার বাড়ি যাবার ফাঁকে হাতির দলের খোঁজ পেয়ে দুটো ছবি তুলেছে। মামার ছেলে কে ফোন করে এগিয়ে আসতে বলেছিল। সেও সঙ্গে রয়েছে। তারপর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। বিকাল থেকে বাড়ির মোবাইল টা বেজে চলেছে। ফোনটা ধরতেই জানানো হয় হাতির শুঁড়ে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। স্ত্রীর কথা ভেবে বাড়ি কাউকে কিছু জানানো হয়নি। শুধু বলা হয় ছবি তুলতে গিয়ে চোট লেগেছে। এরপর এলাকার মানুষদের নিয়ে সুধির বাবু ঝাড়গ্রামে চলে যান। খবর দেওয়া হয় দাদা দেবাশিস কে।

এ দিন বেলায় আশিসের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ঘরের একটাও জানালা খোলা নেই।জ্বলছে না আলো। টেবিলের উপর রাতের খাবার চাপা দেওয়া। কেঁদে কেঁদে গলা বসিয়ে ফেলেছেন মা। সোমবার সকালে আশিসের মৃত্যুর কথা স্ত্রী জানতে পারেন। তারপর থেকে বেশ কয়েকবার মূর্ছা গেছেন। মাথা গুঁজে বিছানায় শুয়ে রয়েছেন। রা কাড়ছেন না। আত্মীয় স্বজন প্রত্যেকে চলে এসেছেন। পাখি পাগল আশিসের তোলা ছবি ঘরের দেওয়ালে ফ্রেমবন্দি। সোমবার বেলায় দাদা পরিবার নিয়ে জার্মানি থেকে দিল্লি নেমেছেন। ওখান থেকে কলকাতার বিমানে বাড়ি ফিরবেন। ছেলের দুশ্চিন্তায় রবিবার রাত থেকে দু’চোখ এক করতে পারেননি মা কল্পনা। কাজের মেয়েটাও ঘরে যায়নি।ছেলের মোবাইলে ফোন লাগছে না। সমানে বাড়ির উপর-নিচ করেছেন। গর্ভে থাকা সন্তানের সুস্থ রাখার কথা সকলে জানাচ্ছে। স্ত্রী রুমা সমানে কেঁদে চলেছে।

দিদাকে আনতে যাওয়ার কথা ছিল না আশিসের। এর আগে একাধিক এলাকা থেকে তুলে এনেছে টাইগা ফ্লাইক্যাচার, কমন হক কুককু সহ একাধিক প্রজাতির ছবি। দিদাকে আনতে গিয়ে ঝাড়গ্রামে কিছু পাখির ছবি তুলে আনবে বলে জানানোয় যেতে দেওয়া হয়। তারপর ছবি তুলতে দলমা হাতির পালের সামনে চলে যায়। ক্যামেরা দেখে আশিসকে শুঁড়ে তুলে আছাড়ে দেয়। কান ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে তাজা রক্ত। নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় ভাঙ্গাগড় হাসপাতালে। মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। ঘরের ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা শুনে আঁতকে উঠেছে পরিবার থেকে পাড়া প্রতিবেশি সকলে।

সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ওখানে রয়েছেন বাবা ও আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধুরা। তারপর দেহ নিয়ে আসা হবে মৌড়ীগ্রাম এলাকার বাড়িতে। স্ত্রী রুমা ধরে যাওয়া গলায় বলে চলেছে, অফিস থেকে ফিরে গর্ভে থাকা সন্তানের খোঁজ নিত। মানুষটা কে ফিরিয়ে দিন আপনারা !

এছাড়াও চেক করুন

ফের সেতু উদ্বোধন নিয়ে দেখা দিল তৃনমুল বিজেপি সংঘাত

নরেশ ভকত, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, বাঁকুড়াঃ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর নবনির্মিত একটি রেলওয়ে ওভার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.