Breaking News
Home >> Breaking News >> নদীয়ার চাপড়ায় দ্বন্দ্বের জেরে যুব তৃণমূলের সভামঞ্চ ছাড়লেন জেবের শেখ

নদীয়ার চাপড়ায় দ্বন্দ্বের জেরে যুব তৃণমূলের সভামঞ্চ ছাড়লেন জেবের শেখ

সমীর রুদ্র, স্টিং নিউজ করসপনডেন্ট,চাপড়া: বেশ কিছুদিন ধরেই তলে তলে বাড়ছিল মনোমালিন্য। শনিবার যুব তৃণমূলের সভা ঘিরে ছাই চাপা আগুনের মতো প্রকট হলো চাপড়ার তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল। যার জেরে সভামঞ্চ থেকে নেমে গেলেন চাপড়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি জেবের শেখ ।

কিছু দিন আগে নদিয়ার চাপড়ার ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতির দায়িত্ব পান রাজীব সেখ। দায়িত্ব পাওয়ার পর শনিবারেই প্রথম ব্লক যুব তৃণমূলের কর্মীসভার আয়োজন করেছিলেন তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জের বিধায়ক হাসানুজ্জামান শেখ, চাপড়ার বিধায়ক রুকবানুর রহমান, ব্লক সভাপতি জেবের শেখ, যুব সভাপতি রাজীব শেখ সহ চাপড়ার বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ।

সভার শুরু ঠিকমতো হলেও তাল কাটে সভামঞ্চে চাপড়ার কার্যকরী সভাপতি শুকদেব ব্রহ্ম উপস্থিত হওয়ায়। শুকদেব ব্রহ্ম মঞ্চে উঠতেই মঞ্চ থেকে নেমে যান জেবের শেখ। জেবেরের সাথেই সভাস্থল ত্যাগ করেন জেবেরের অনুগামীরা। এর ফলে সভায় উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। তারপরও অবশ্য সভার কাজ স্বাভাবিকভাবেই চলে।

প্রসঙ্গত বেশ কিছু দিন দলের বাইরে ছিলেন শুকদেব ব্রহ্ম। কয়েকদিন আগে তিনি আবার রুকবানুর রহমানের হাত ধরে দলে ফিরেছেন।

সভা ছাড়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জেবের শেখ বলেন “বিগত দিনে প্রতিটি অঞ্চলের নেতৃত্বের সহযোগিতায় আমরা পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে ভালো ফল করেছি। কিন্তু সেইসময় শুকদেব ব্রহ্ম সহ যারা তৃণমূলের বিরোধিতা করে বিজেপি কে সাহায্য করেছিল এমনকি বিজেপিতে যোগদানের চেষ্টা করেছিল এখন তাদের দলে নেওয়া হচ্ছে। আমি ব্লক সভাপতি হওয়া সত্বেও আমাকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে বিধায়ক, রাজীব শেখ ও কাংলা শেখ এই কাজ করছে। এর ফলে দলের দুর্দিনের কর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ছে”।

এই প্রসঙ্গে যুব সভাপতি রাজীব শেখ বলেন “চাপড়া ব্লকে কোনো গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব নেই। কোনো নেতার ব্যাক্তিগত ইগোর সমস্যা থাকতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী বারংবার নির্দেশ দিয়েছেন পুরনো কর্মীদের দলে ফেরাতে। চাপড়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক রুকবানুর সেই মতো পুরনো কর্মীদের দলে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। দল কারোর একার সম্পত্তি নয়, এতে যদি কারোর ইগোর সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে আমার কিছু বলার নেই। চাপড়ার সাধারণ কর্মীরা সকলেই বিধায়কের পাশে আছেন”।

রুকবানুর রহমান বলেন “দিদির নির্দেশ মতো পুরনো কর্মীদের দলে ফিরিয়ে সকলকে নিয়ে চলার চেষ্টা করছি। সকলকে সেই নির্দেশ মেনে চলতে হবে। যদি কোনো ভুল বোঝাবুঝি থাকে তা আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলব”।

প্রসঙ্গত গত লোকসভা নির্বাচনে জেবের সেখের নেতৃত্বে রুকবানুর রহমান, রাজীব সেখ সহ সমস্ত অঞ্চল নেতৃত্বের পূর্ণ সহযোগিতায় চাপড়া ব্লক থেকে তৃণমূল প্রায় পঞ্চাশ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল। সেই সময় অবশ্য শুকদেব ব্রহ্ম দলে ছিলেন না। চাপড়া ব্লকের কয়েকটি অঞ্চল ছাড়া বিরোধীদের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চাপড়ার তৃণমূলের মূল বিরোধী তৃণমূলই।

এই অবস্থা চললে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত চাপড়াতেও বেগ পেতে হতে পারে তৃণমূলকে। এই আবহে বিরোধী দলগুলো যে কার্ত্তিক মাসেও পৌষ মাসের আমেজ উপভোগ করবে তা বলাই বাহুল্য।

এছাড়াও চেক করুন

‘শিশু দিবস’ উপলক্ষ্যে অভিনব উদ্যোগ নিল বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পড়ুয়ারা

নরেশ ভকত, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, বাঁকুড়াঃ আজ লোকপুর মেডিকেল কলেজ থেকে গোবিন্দ নগর হাসপাতাল পর্যন্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published.