Breaking News
Home >> Breaking News >> নদিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল ছট পুজোর উৎসব

নদিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল ছট পুজোর উৎসব

স্টিং নিউজ সার্ভিস, নদিয়া: শনিবার মহা সমারোহে পালিত হল ছট পুজো। ছট পুজোকে কে ঘিরে নদিয়ার নবদ্বীপ, শান্তিপুর, ফুলিয়া ও কল্যাণীর গঙ্গায় এবং চাপড়া, তেহট্টর জলঙ্গি, রানাঘাট এর চূর্ণী নদীর ঘাটগুলিতে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। হিন্দি ভাষাভাষী হিন্দু ধর্মালম্বী মানুষের কাছে শনিবার ছিল এক পবিত্রময় দিন। শনিবার বেলা পড়তেই হিন্দি ভাষাভাষীর মানুষজন জেলার বিভিন্ন নদীর ঘাটগুলিতে পৌঁছে যায়। নিষ্ঠা সহকারে সূর্যদেব কে স্মরণ করে, তার উদ্দেশ্যে সদ্ধার্ঘ নিবেদন করেন।

এদিন জেলার প্রায় প্রতিটি জায়গায় ছট পুজো উপলক্ষ্যে হিন্দি ভাষাভাষী মানুষজনের মধ্যে প্রবল উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। ছট পুজো উপলক্ষ্যে হিন্দিভাষী মানুষের পরিবারের সদস্যরা বাদ্যযন্ত্র সহকারে, মাথায় পেল্লাই একটি চাদরে ঢাকা ঝুড়ি নিয়ে গঙ্গা বা জলঙ্গি নদীর ঘাটগুলিতে পৌঁছে যায়। ছট পুজো উপলক্ষ্যে চৈতন্যভূমি নবদ্বীপের উপর দিয়ে বয়ে চলা ভাগীরথী নদীর ঘাটগুলিতেও প্রচন্ড ভিড় দেখা যায়।

হিন্দি ভাষাভাষী পরিবারের মহিলা সদস্যরা নিষ্ঠার সহিত সূর্য দেবের উদ্দেশ্যে ফুল মালা নিবেদন করে ভক্তি সহকারে পুজো দিলেন ভাগীরথীর উপর ফাঁসিতলা ঘাটে। ছট পুজো উপলক্ষ্যে পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি নবদ্বীপ পৌরসভাও ছিল সদাসতর্ক। ছট পুজো উপলক্ষ্যে পৌরসভা নবদ্বীপের প্রায় প্রতিটি ঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে তোলে। ঘাট গুলিতে অতিরিক্ত লাইটের ব্যবস্থা করে নবদ্বীপ পৌরসভা। যাতে ছট পুজো করতে আসা মানুষজনের কোনও অসুবিধায় না পড়তে হয়, তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা রেখেছিল পৌরসভা।

ছট পুজো সাধারণত কার্তিক মাসে শুক্ল পক্ষে সূর্য দেবতার পুজো করা হয়। বলা হয়ে থাকে যে এই পুজোতে সকল মনষ্কামনা পূরন হয় এবং পরিবারের মঙ্গল হয়। ছট বা ছঠ, ষষ্ঠী নামের অপভ্রংশ। মূলত সূর্য ষষ্ঠী ব্রত হওয়ার দরুন একে ছট বলা হয়। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দীপাবলি পালনের পর, চার দিনের ব্রতের (কার্তিক শুক্লা চতুর্থী থেকে কার্তিক শুক্লা সপ্তমী) সবচেয়ে কঠিন ও তাৎপর্যপূর্ণ রাত্রি হল কার্তিক শুক্লা ষষ্ঠী। বিক্রম সংবৎ-এর কার্তিক মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতে এই ব্রত উদযাপিত হওয়ার কারণে এর নাম ছট রাখা হয়েছে। চার দিনের এই ব্রতে ঘর পরিষ্কার করে স্নান সেরে শুদ্ধাচারে নিরামিষ খাওয়ার রেওয়াজ আছে। একে “নহায়-খায়” বলা হয়। এর পরের দিন থেকে শুরু হয় উপবাস। ব্রতীরা দিনভর নির্জলা উপবাস করার পর, সন্ধ্যায় পুজো শেষ করে ক্ষীরের খাবার খান। একে “খরনা” বলে। তৃতীয় দিনে সূর্যাস্তের সময় কোনও নদী বা জলাশয়ের ঘাটে গিয়ে অন্যান্য ব্রতীদের সঙ্গে অস্তগামী সূর্যকে দুধ অর্পণ করেন ব্রতীরা। এই আচার ও রীতি কে “সন্ধ্যা অর্ঘ্য” বলে। ব্রতের শেষদিন ঘাটে গিয়ে উদীয়মান সূর্যকে ফের দুধ দান করে উপোস ভাঙা হয়। এই আচারের নাম “ঊষা অর্ঘ্য”। সব মিলিয়ে ছট উপলক্ষে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা নির্জলা উপোস করেন ব্রতীরা।

এই ব্রতের বিশেষত্ব হল, বাড়ির যে কোনও সদস্য এই ব্রত করতে পারে। ছট পুজোর সময়ে বাড়ি স্বচ্ছ রাখা হয়। পুজোর প্রসাদ হিসাবে থাকে বাঁশ দিয়ে তৈরি পাত্রে গুড়, মিষ্টি, ক্ষীর, এই ব্রতের বিশেষ প্রসাদ ঠেকুয়া, ভাতের নাড়ু, আখ, কলা, মিষ্টি লেবু।

এছাড়াও চেক করুন

কেক কেটে শিশু দিবস পালন করল মালদা রেল চাইল্ড লাইনের সদস্যরা

বিশ্বজিৎ মন্ডল, স্টিং নিউজ, মালদাঃ পথশিশুদের নিয়ে কেক কেটে শিশু দিবস পালন করল মালদা রেল …

Leave a Reply

Your email address will not be published.