Breaking News
Home >> Breaking News >> প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র রক্ষায় সাপের ভূমিকা বোঝাতে এগিয়ে আসলেন অধ্যাপক ও ছাত্ররা

প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র রক্ষায় সাপের ভূমিকা বোঝাতে এগিয়ে আসলেন অধ্যাপক ও ছাত্ররা

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ সকাল হোক বা সন্ধেবেলা। ঝোপঝাড় বা বাড়ির উঠোন। ফণা উঁচিয়ে বা চুপিসারে এলাকায় বিষধর সাপের দেখা মেলে। দু একটি বাদ দিয়ে প্রায় ক্ষেত্রে লুকিয়ে সাপেদের মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটে! সর্পদষ্টকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকে বহুলাংশে নির্ভরশীল এমন কথাও অজানা নয়। হাওড়া থেকে ৫৫ কিমি দূরের এলাকা শ্যামপুরের বেনাপুর সর্প সচেতনতা শিবির করলো শ্যামপুর সিদ্ধেশ্বরী মহাবিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ইকো ক্লাবের সদস্যরা।

স্থানীয় ও বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, শ্যামপুর এলাকার একপাশে রূপনারায়ণ অন্যদিকে গঙ্গা। জীববৈচিত্রের দিক থেকে অনেকাংশে সমৃদ্ধ শ্যামপুর অঞ্চল। সবুজের ছোঁয়া ও জলাশয় এবং নদী সঙ্গম থাকায় মানুষের পাশাপাশি সরীসৃপের রয়েছে আস্থানা। একাধিক জায়গায় চন্দ্রবোড়া এবং কেউটে সাপের দেখা মেলে। এছাড়া বিষহীন সাপ বাস করে। যারা মূলত ব্যাঙ ইত্যাদি খেয়ে জীববৈচিত্র রক্ষা করে। সাপ সম্বন্ধে সাধারণত প্রাথমিক জ্ঞান না থাকার জন্য ভয় পেয়ে থাকেন সাধারণ মানুষ। সর্প সচেতনতা শিবির গড়ে তোলার প্রয়োজন বুঝে শ্যামপুর সিদ্ধেশ্বরী মহাবিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা শিবির এর আয়োজন করে।

ইকো ক্লাব-এর সৌমদীপ সাঁতরার কথায়, “শ্যামপুর সিদ্ধেশ্বরী মহাবিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে গড়ে উঠেছে ইকো ক্লাব। প্রাক্তন ও বর্তমান মিলিয়ে প্রায় ৪০জনের মতো ছাত্রছাত্রীর রয়েছে। পরিবেশ নিয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলাই লক্ষ্য। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে উপকারী হওয়া সত্ত্বেও সাপকে মেরে ফেলা হয়। এমনকি বহু নির্বিষ সাপও মারা পড়ে অকারণে। বহুকাল থেকে মানুষ সাপের সাথে সহাবস্থান করে এসেছে তাই সাপ কে মেরে ফেলাটা কখনোই উপায় নয়, বরং কীভাবে আমরা সাপের কামড় থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারি এবং কামড়ের ঘটনা ঘটলে তৎক্ষণাৎ কী করা উচিত সেগুলো জানলে অনেকাংশেই বিপদকে দূরে রাখা সম্ভব। আমাদের এই সর্প সচেতনতা শিবির এর মূল উদ্দেশ্য তাই ছিল মানুষকে তাদের আশেপাশের সাপ গুলি সম্পর্কে আরো বেশী জানানো, বিষধর এবং বিষযুক্ত সাপগুলির পার্থক্য নির্ণয় করা, সাপের কামড় থেকে বাঁচতে কী কী করতে হবে, ওঝা-গুণীন ঝারফুক এর অন্ধবিশ্বাস এ আটকে না থেকে ডাক্তার ও হাসপাতালের সহযোগিতায় মানুষ কীভাবে বিষধর সাপের কামড় থেকে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে তা বোঝানো ইত্যাদি।”

শ্যামপুর সিদ্ধেশ্বরী মহাবিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক প্রসেনজিৎ দাঁ জানান, “বেনাপুর চন্দনাপাড়া উচ্চ বিদ্যালইয়ে শিবির টি ইকো ক্লাব এর তরফে সৌমদীপ সাঁতরার নেতৃত্বে শ্যামপুর সিদ্ধেশ্বরী মহাবিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা আয়োজন করে। শিবিরে স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের মিলিয়ে প্রায় ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন। ছাত্রছাত্রীরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাই তাদের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া টা সবচেয়ে কার্যকরী। আমরা ভবিষ্যতে এইরকম একাধিক শিবিরের মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

উলুবেড়িয়া বন দফতরের রেঞ্জ অফিসার উৎপল সরকার এমন উদ্যোগ কে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি জানান, “ইকোলজিক্যাল সার্কেল টা যেন ঠিক থাকে। সাপও থাকবে মানুষও থাকবে। আবার পশুপাখিও থাকবে। সরকারি ভাবে প্রচার তো করছি। কিন্তু আমাদের তো ইনফ্রাস্ট্রাকচার খুব ছোট। জন সাধারণ যত এগিয়ে আসবে ততটাই ভালো। শ্যামপুর কলেজের অধ্যাপকরা যেটা করছেন এটা ভালো দিক। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এদিন বানিবন তলা জোড়া কলতলা এলাকার একটি ধাবা থেকে একটি কেউটে সাপ ও দেঊলটি এলাকার এক ব্যক্তির বাড়ির পাশে গর্ত থেকে ১৫টি কেউটে সাপের বাচ্চার খোঁজ মিলেছে। টিম যাচ্ছে উদ্ধারে।”

পদার্থবিদ্যা বিভাগ এর সহ অধ্যাপক সুরজিত মন্ডল জানান, “সচেতনতা গড়ে উঠলে বাঁচবে সরীসৃপ। রক্ষা পাবে পরিবেশ। উপকৃত হবে সমাজ। এই মুহূর্তে হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক প্রজাতি কেবলমাত্র সচেতনতার অভাবে। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে সুস্থ সমাজ। টিকে থাকবে জীবজন্তু।”

এছাড়াও চেক করুন

কেক কেটে শিশু দিবস পালন করল মালদা রেল চাইল্ড লাইনের সদস্যরা

বিশ্বজিৎ মন্ডল, স্টিং নিউজ, মালদাঃ পথশিশুদের নিয়ে কেক কেটে শিশু দিবস পালন করল মালদা রেল …

Leave a Reply

Your email address will not be published.