Breaking News
Home >> Breaking News >> মাস ঘুরতে চললো ভেসে গিয়েছে সাঁকো রশি টেনে চলছে ঝুঁকির পারাপার, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন

মাস ঘুরতে চললো ভেসে গিয়েছে সাঁকো রশি টেনে চলছে ঝুঁকির পারাপার, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ মাস ঘুরতে চললো। ডিভিসির ছাড়া জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল বাঁশের সাঁকো। দুই পাড়ের মধ্যে যোগাযোগ একটিমাত্র নৌকা। মোটা রশি এক পাড় থেকে অন্য পাড় অবধি টানা। মাঝি ওই রশি টেনে নিয়ে যাচ্ছে যাত্রী ভর্তি নৌকা। সময়ের হিসাব ভুলে স্কুল, কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ, দামোদর পার করছেন রশি টেনে নিয়ে চলা ঝুঁকির নৌকা চেপে।

আমতা থানার রসপুর এলাকার গা ঘেঁষে বয়ে গিয়েছে দামোদর। রয়েছে বয়েজ ও গার্লস স্কুল এবং বেসরকারি কলেজ। নদীর ওপারে থলিয়া, বিনলা, সিয়াগড়ি, ভাতেঘরি সহ একাধিক গ্রামের পড়ুয়া রসপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে আসে। ডিএলএড কলেজে ট্রেনিং নিতে আসা কলেজ পড়ুয়ারা। এপারের মানুষ ওপারে যায় বাজার করতে। থলিয়া ইউনিয়ন হাইস্কুলে পড়াশোনা ও চাকরি করতে। নদীর উপর বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় নৌকায় সমস্যা হচ্ছে। সময়ে মিলছে না। অন্য পাড়ে চলে গেলে যাত্রী হলে তবেই এপারে আসছে। এতে করে সময় লাগছে বিস্তর। সময়ের থেকে ঢের দেরিতে স্কুলে পৌঁছাতে হচ্ছে।

শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কথায়, বছরের বেশিরভাগ সময় দামোদর উপর বাঁশের সাঁকো থাকে। বেশ শক্তপোক্ত। কিন্তু বর্ষার সময় জল বাড়লে সাঁকো ভেঙে যায়। তখন ওই নৌকা একমাত্র ভরসা। একবার ছেড়ে অন্য পাড়ে গেলে আসতে সময় লাগে। এমন দিন গেছে আধঘন্টা সময় লেগেছে প্রায় দুশো মিটার পার করতে। নৌকায় নেই সেফটি জ্যাকেট। ছাত্রছাত্রীরা এভাবেই পার করছে নদী। নেই সিভিক ভলেন্টিয়ার। কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সেক্ষেত্রে একজন মাঝি কিভাবে সামাল দেবে! একি প্রশ্ন এলাকার মানুষদের। রাজাপুর এলাকার হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক অনুপ দোয়ারির কথায়, নদীর জল কমেছে। পাড় থেকে নৌকা অনেকটা নিচে। যাত্রীদের নৌকায় ওঠানামার জন্য পাড়া রাখা হয়েছে। ঢালু পাড়া গড়িয়ে বাইক নেমে আসলে রুখবে কে? নিরাপত্তার বিষয়টি অবিলম্বে দেখা প্রয়োজন। অভিভাবকদের কথায়, আজ থেকে স্কুল খুলেছে। এবার তো প্রতিদিন স্কুল যাবে। রশি টেনে যাত্রী ভর্তি নৌকা নিয়ে যাচ্ছে একজন মাঝি। চিন্তা তো হচ্ছে। বাধ্য হয়ে দিতে যাচ্ছি স্কুলে। মানসী টাকি, প্রিয়া গুছাইত, স্বপন বাউড়ি সহ একাধিক পড়ুয়ার কথায়, নৌকায় যাতায়াত করা সমস্যার আছে। মানুষের সঙ্গে ঠেলে গুঁজে সাইকেল বাইক তুলে দেওয়া হয়। ভয় লাগে পারাপারের সময়।

মাঝি অষ্ট জ্যোতির কথায়, ডিভিসির ছাড়া জলে পাড়া ভেঙেছে। অগ্রহায়ণ মাসের দশ তারিখ থেকে আবার পাড়া চালু হবে। তার আগে প্রতিদিন রাত দশটা অবধি নৌকা চলে। সাঁকো বাঁধবার জন্য বাঁশেরগাঁট ছুলে ব্যাখারি তৈরির কাজ চলছে। একা এত মানুষ, সাইকেল, বাইক চাপিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সামাল দিতে পারবেন? প্রশ্ন শুনে আস্তে আস্তে নিয়ে যাই নৌকা। এভাবেই তো বছরের পর বছর পাড়া ভেঙে গেলে নৌকা চলাচল করে। আজ অবধি কোন সমস্যা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, বছর দুয়েক আগে নৌকায় উঠতে গিয়ে বাইক সমেত যাত্রী নদীতে পড়ে যায়।

আমতা-১ সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক লোকনাথ সরকার জানান, বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। নদী ঘাটের নিরাপত্তার কথা ভেবে সিভিক ভলান্টিয়ার রাখার বিষয়টি দেখে নিচ্ছি।

এছাড়াও চেক করুন

ফের সেতু উদ্বোধন নিয়ে দেখা দিল তৃনমুল বিজেপি সংঘাত

নরেশ ভকত, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, বাঁকুড়াঃ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর নবনির্মিত একটি রেলওয়ে ওভার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.