Breaking News
Home >> Breaking News >> সমাজ যাদের অচ্ছুৎ করে ভাইফোঁটায় তাদের পাশে সেবাব্রতী স্বপ্না

সমাজ যাদের অচ্ছুৎ করে ভাইফোঁটায় তাদের পাশে সেবাব্রতী স্বপ্না

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ আড়ম্বরহীন জীবনে থেকে এবং অন্যের জীবনে খুশির পালক ধরাটায় মেলে সুখের সন্ধান। পা ডুবে যাওয়া কাদা পেরিয়ে অনুন্নয়নের উঠোনে দাঁড়িয়ে সামাজিক সম্পর্ক ও ঐক্যবদ্ধ কাজের মাধ্যমে রূপায়িত হয় অখন্ড ভালবাসার বীজ। আত্মীক হয়ে ওঠে পরম্পরা। জাতি সম্পর্কের ভ্রান্ত ধারণার পাশ কাটিয়ে ভাইয়ে-ভাইয়ে আকুলতায় সামাজিক সংস্কৃতি বৃদ্ধি পায়। কথাগুলো যখন বলছিলেন বেশ কয়েকবার ফোনে রিং বেজেছে।

ভাইফোঁটা উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকার মানুষের কপালে চন্দনের ফোঁটা একটু মিষ্টিমুখ করাতে দিনরাত এক করছেন আদপে ডায়মন্ড হারবার এলাকার বাসিন্দা তথা সমাজকর্মী স্বপ্না মিদ্যা।

সুন্দরবন এলাকার আয়লায় বিধ্বস্ত গ্রামে গিয়েছিলেন স্যানিটারি ন্যাপকিন তুলে দিতে। ওখানকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন আর্থিক দুরবস্থার কারণে বহু পরিবার ঋতুস্রাবের দিনগুলিতে কাপড় ব্যবহার করছেন। এমনকি ঋতুস্রাব শুরুর বয়সের মেয়েদের কে খরচের কথা মাথায় রেখে স্যানিটারি ন্যাপকিনের বদলে কাপড়কেই আপন করবার কথা শুনেছেন স্বপ্না মিদ্যা, সৈকত পাত্র সহ টিমের প্রত্যেকে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। বছরভর বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক কাজ কর্মের সাথে যুক্ত। এবার ভাইফোঁটা উপলক্ষে ৮০জন ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে মিষ্টিমুখ ও জামা কাপড় তুলে দিচ্ছেন।

ঠাকুরপুকুরের বিবেকানন্দ কলেজ থেকে স্নাতক স্বপ্না জানান, উৎসব হোক সবার। সমাজ যাদের অচ্ছুৎ করে উৎসব হোক তাদেরও ঘরে। মানুষ একটা পরিবারের মতো, একটা কলোনির মতো বাস করে। সেখানে আমি মনে করি না হিন্দু বাচ্চাদের নিয়ে অনুষ্ঠান করব। কারণ শিশুদের মধ্যে ঈশ্বর বাস করে। তাই হিন্দু-মুসলিম যে কোন ধর্ম নির্বিশেষে আমি ভাইফোঁটাটা করাচ্ছি। কাজটা হচ্ছে ডায়মন্ডহারবার যৌনপল্লি এরিয়া তে কাজটা হচ্ছে। এর আগে ওখানে রাখীবন্ধন করেছি। ওখানে ৫০টার মতো ছেলেমেয়ে।

এছাড়া অনাথ আশ্রমের ২০টা বাচ্চা সবমিলিয়ে ৮০টা বাচ্চাকে জামা-কাপড় দেব। সঙ্গে থাকবে নারকেল নাড়ু, তিলের নাড়ু, সন্দেশ, লাড্ডু, শন পাপড়ি খাওয়া দাওয়া। এছাড়া অনাথ আশ্রমে মিল সঙ্গে মাছ এবং বাড়ি থেকে পায়েস রান্না করে নিয়ে যাব। ওদের মুখে তুলে দেবার জন্য। সৈকত পাত্র এবং বন্ধুরা মিলে বিভিন্ন মানুষজনের কাছ থেকে দুসপ্তাহ ধরে নাড়ু, লাড্ডু নিয়ে আসছি।

সেবামূলক কাজের পাশাপাশি পেন-খাতায় তুলে ধরেন কতকগুলো মনের কথা। উঠে আসে সমাজের বিভিন্ন দিক। শিশুদের মনের কথা বুঝতে পারে ভালো। স্বপ্না কে কাছ থেকে চেনা সমাজকর্মী জয়িতা কুন্তি কুন্ডুর কথায়, “বছরভর অনেক সেবামূলক কাজ করে মেয়েটা। ওর এই প্রয়াস দৃষ্টান্ত রচনা করুক। ভাইফোঁটার মধ্য দিয়ে সমাজে দৃঢ় হোক ভাতৃত্বের বন্ধন।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বপ্নার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বহু মানুষ। প্রত্যেকের কথায়, পরিবার ও রক্তসম্পর্ক না থাকলেও সহানুভূতি এবং মানবিকতার জোরে ভাইফোঁটার পবিত্র ছোঁয়ায় আবদ্ধ করে নিতে সফল আজকের স্বপ্না মিদ্যা।

এছাড়াও চেক করুন

ফের সেতু উদ্বোধন নিয়ে দেখা দিল তৃনমুল বিজেপি সংঘাত

নরেশ ভকত, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, বাঁকুড়াঃ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর নবনির্মিত একটি রেলওয়ে ওভার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.