Breaking News
Home >> Breaking News >> সচেতনতায় উদ্ধার কচ্ছপ, বাঘরোল, বিষধর সাপ, গন্ধগোকুল আশার আলো দেখছেন পরিবেশকর্মীরা

সচেতনতায় উদ্ধার কচ্ছপ, বাঘরোল, বিষধর সাপ, গন্ধগোকুল আশার আলো দেখছেন পরিবেশকর্মীরা

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ একটু সচেতন হলে বাঁচানো সম্ভব বিপন্ন প্রজাতির জীবজন্তুদের। সেটাই প্রমাণিত হল গ্রামীণ হাওড়ায়। শুক্রবার উদ্ধার হয় একটি কচ্ছপ। বৃহস্পতিবার সকালে উলুবেড়িয়ার উত্তর পিরপুর গ্রামে কুয়োয় পড়ে যাওয়া বাঘরোল উদ্ধার হয়। ওইদিন দুপুরে বাগনান এলাকায় বিষধর সাপ। বিপন্ন পশুদের উদ্ধারে সাধারণ মানুষ এগিয়ে আশায় সচেতনতা বাড়ছে বলেই মত পরিবেশ কর্মীদের।

শুক্রবার বন দফতরে খবর আসে খালনা এলাকায় একটি কচ্ছপ ধরে ঘরে রেখেছেন এক ব্যক্তি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বন দফতরের আধিকারিক। উদ্ধার করা হয় কচ্ছপটি কে। নিয়ে আসা হয় উলুবেড়িয়া বন দফতরে। ওখান থেকে পাঠানো হবে গড়চুমুক প্রাণী চিকিৎসাকেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার সকালে উলুবেড়িয়ার উত্তর পিরপুর গ্রামে কুয়োয় পড়ে যাওয়া বাঘরোল কে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন সাধারণ মানুষ। তারপর বাগনান এলাকায় উদ্ধার হয়েছে একটি সাপ। এর ফলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে বলেই মত পরিবেশ কর্মীদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছর সাতেকের বাঘরোল টি কোনভাবে রাতের অন্ধকারে বিমল জানার উঠোন লাগোয়া কুয়োর জলে পড়ে যায়। সাত সকালে এ দৃশ্য দেখে হতচকিত হয়ে পড়েন বিমল বাবু। উদ্ধারে প্রাথমিক চেষ্টা করতে এলাকার মানুষজন হাত লাগান। কিন্তু না পেরে উঠতে পেরে এর ওর মারফৎ যোগাযোগ করেন উলুবেড়িয়া বন দফতরের আধিকারিক উৎপল সরকারের সঙ্গে। উদ্ধার হয় বাঘরোল। এর পর বাগনান এলাকার মহিষরেখা সেতুর কাছে বাড়িতে একটি সাপ ঢুকে পড়বার খবর পেয়ে পৌঁছে যায় বন দফতরের টিম। উদ্ধার করা হয় তিন ফুট লম্বা সাপটি। আপাতত গড়চুমুক প্রাণী চিকিৎসাকেন্দ্রে বাঘরোল ও সাপটিকে পাঠানো হয়েছে। পুজোর আগে ও পুজো চলাকালীন শ্যামপুর এলাকা থেকে একাধিক বিষধর সাপ উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের খবর। শনিবার সকালে একটি গন্ধগোকুল উদ্ধার হয় জয়নগর নস্করপাড়া থেকে। উদ্ধারের পর সেটি গড়চুমুক প্রাণী চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরিবেশ কর্মীদের কথায়, “গ্রামীণ হাওড়ার নারীট, জয়পুর, তাজপুর সহ একাধিক গ্রামে রাজ্য প্রাণী বাঘরোলের বাসস্থান। মূলত পুকুরের ধারে বনজঙ্গল, বিস্তীর্ণ খড়ি বন এছাড়া হোগলা বন থাকায় বাঘরোল মোটের উপর টিকে রয়েছে। কিন্তু মানুষের জীবনের চিত্রপট পরিবর্তনের মাঝে বাঘরোলের বাসস্থান ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আর তা হচ্ছে একশ্রেণীর গ্রাম্য মানুষের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য। ঝোপঝাড়, বনজঙ্গল তুলে দেওয়া, পুকুরের পাড় সিমেন্টের নির্মান। সমস্যায় পড়েছে বাঘরোল। সন্ধ্য নামলেই বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়াচ্ছে। পড়ে যাচ্ছে কুয়োয়। বাঘরোল কে বাঁচাতে চাইলে রক্ষা করতে হবে পরিবেশ। পাশপাশি বনাঞ্চল কেটে ফেলার জন্য সাপ চলে আসছে বাস্তুতে। সচেতনতার কারণে উদ্ধার হচ্ছে জীবজন্তু।”

উলুবেড়িয়া বন দফতরের রেঞ্জ অফিসার উৎপল সরকার বলেন, “কচ্ছপ, বাঘরোল, সাপ রক্ষায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার প্রয়াস করা হচ্ছে। কাজও হচ্ছে। সাধারণ মানুষ বিপন্ন পশুদের রক্ষায় এগিয়ে আসছেন। মনে রাখতে হবে বাঘরোল শান্ত প্রাণী। আক্রমণ শানায় না। মানুষের নজরে আসলেই ওরা লুকিয়ে পড়ে। আমাদের কাছে খবর আসলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার করি। বিমল বাবুর কুয়োয় পড়ে যাওয়া বাঘরোল টি হোক বা খালনা এলাকার কচ্ছপ উদ্ধার প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই দ্রুত উদ্ধার করে আনা হয়। এই সচেতনতা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক।”

বাঘরোল রক্ষা করতে তৈরি করতে হবে অনুকূল পরিবেশ। তারজন্য প্রয়োজন এলাকাবাসীদের সচেতন করা। তাঁদের মাধ্যমে গ্রামের প্রতিটি প্রান্তে প্রচার পাবে। রক্ষা পাবে পরিবেশ। বাঁচবে রাজ্য প্রাণী বাঘরোল। বাঘরোল সংরক্ষণ নিয়ে এভাবেই গ্রামীণ এলাকায় আলোচনা শিবির গড়ে একাধিক বিষয় আলোচিত হচ্ছে। সাফল্যও মিলছে। তবে বাঘরোল এভাবে বারেবারে মানুষের বাসস্থানে চলে আসাটা অবশ্যই চিন্তার মধ্যে রাখছে পরিবেশ কর্মীদের।

এছাড়াও চেক করুন

কেক কেটে শিশু দিবস পালন করল মালদা রেল চাইল্ড লাইনের সদস্যরা

বিশ্বজিৎ মন্ডল, স্টিং নিউজ, মালদাঃ পথশিশুদের নিয়ে কেক কেটে শিশু দিবস পালন করল মালদা রেল …

Leave a Reply

Your email address will not be published.