Breaking News
Home >> Breaking News >> নদিয়ার তেহট্টের গণেশ মন্ডলের বাড়ির দুর্গা পুজোর এক টুকরো কাহিনী

নদিয়ার তেহট্টের গণেশ মন্ডলের বাড়ির দুর্গা পুজোর এক টুকরো কাহিনী

স্টিং নিউজ সার্ভিস, তেহট্টঃ এক সময়ের অভাব ছিল, এখন সে কোটিপতি, কয়েক হাজার মানুষের অন্নদাতা। তিনি হলেন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে তেহট্ট থানার বেতাই এর গণেশ মন্ডল। মা দুর্গার কৃপায় জিরো থেকে হিরো হয়েছেন। তাই মা-দুর্গাকে ভোলেনি গণেশ। দুর্গার কৃপা স্মরণ করে প্রতেক বছরের মত এবারেও বেশ কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে গ্রামের বাড়িতে দেবী দুর্গার পুজো করছেন গণেশ বাবু।

মুম্বাই কর্মস্থল থেকে পুজো উপলক্ষে ঘরে ফিরে গনেশ বাবু জানান, একসময় খুব অভাবের সংসার ছিল, বাবা দিন মজুরের কাজ করতেন। কোনও রকমে এক বেলা খেয়ে দিন কাটাতাম। এক চালা খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘরেই বসবাস করতেন বেতাই সিভিলগঞ্জপাড়ার গণেশ মণ্ডলের পরিবার। এই প্রচন্ড অর্থসংকটের মধ্যে গনেশ বাবু খুব ছোট থাকতেই তার বাবা বলহরি মণ্ডল মারা যান। যে কারনে মরার উপর খাঁড়ার ঘা নেমে এলো।

এমন পরিস্থিতিতে মা রেখা দেবী ছেলে ও মেয়ের মুখে অন্ন জোটাতে নুন আনতে পান্তা ফুরনোর মত অবস্থা। খালি পেটে স্কুল যাবার পথে গণেশ বাবুর ভাবনা ছিল কি করে তাদের আগামী দিন গুলি চলবে। দারিদ্র কাটাতে এক দিন বাড়িতে কাউকে কিছু না বলে অজানা পথে পাড়ি দিয়েছিলেন বেতাইয়ের আজকের সচ্ছল গণেশবাবু। তার কথায়, তখন বেতাই হাই স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়তাম। বাড়িতে তখন অসুস্থ মা কাতর হয়ে বিছানাগত। সেদিন মনটা দারিদ্র্যের কারণে কেমন যেন হয়ে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যে ১৯৯১ সালে কাউকে কিছু না বলে বাসে উঠে কোলকাতার উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিলাম।

পথে যেতে যেতে এলাকার পরিচিত কয়েক জনের দেখা হয়, তারা জানায় সকলেই মুম্বাই কাজ করতে। কাজ করে ইনকাম করতে হবে সেই কথা মনে হতেই হাওড়া ষ্টেশন থেকে ট্রেনে চেপে অচেনা মুম্বাই চলে গেলাম। সেখানে গিয়ে কখনও রাজ মিস্ত্রীর জুগালে আবার কখনো মিস্ত্রীর সাথে কাঠের কাজ করে জীবনের প্রথম রোজগার শুরু করি। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ভাল কাজের সুবাদে ওখানে গিয়ে অনেকের খুব বিশ্বস্ত এবং প্রিয় হয়েছিলাম।

তারপর মা দুর্গার কৃপাতে এখন ঠিকাদারের কাজ করে নিজেকে সচ্ছল করে তুলতে পেরেছি। সেই সময় গনেশ বাবু একা থাকলেও এখন তার সংসার হয়েছে, বর্তমানে তাঁর সংসারে রয়েছে মা রেখা রানী মন্ডল, স্ত্রী কণিকা মন্ডল, মেয়ে একতা ও গুঞ্জন, ছেলে রাজদ্বীপকে নিয়ে তার ভরা সংসার।

আগে যখন পেটের তাগিদে বাধ্য হয়ে পুজোর সময় যখন বাড়ি ছেড়ে মুম্বাই থাকতাম। তখন গ্রামের বাড়িতে পুজোতে না আসতে পেরে খুব মন খারাপ করত। তাই একবার পুজোর সময় মুম্বাই বসে মানত করলাম মা আমাকে যদি কৃপা কর তবে প্রতেক বছর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ধুমধাম করে তোমার পুজো দেব। শেষমেশ মা দুর্গার আশীর্বাদে গত দশ বছর থেকে ধুম ধাম করে গ্রামের বাড়িতে নিজ খরচে পুজো করছেন, এবার ১০৮ টা ঢাকের বাজনা সহকারে মায়ের আরতি হবে।

গত বছরের মত এবারেও ষষ্টির দিনে এলাকার অভাবি ঘরের মা-বোন, কাকু জেঠু সহ ছোটো বড় সব ধরনের কয়েক হাজার পোশাক তুলে দেবো। গত বছর প্রায় তিন হাজার জনকে জামা, কাপড়, শাড়ি ইত্যাদি দিয়েছিলাম। এবারে তার থেকে হয়তো অনেক বেশি হবে।

অষ্টমীর দিনে প্রতেক বছরের মত এবারেও প্রায় একশ পঞ্চাশ জন রাধুনিকে দিয়ে চল্লিশটি গ্যাসের চুল্লিতে চল্লিশ কুইন্টাল ময়দার লুচি ভাজা হবে। সেই সাথে বারো কুইন্টাল ছোলার ডাল রান্না হবে। থাকবে রসের বোঁদে ও মিষ্টি। পঞ্চাশ হাজার মানুষকে প্রসাদ দেব বলে ঠিক করেছি। তা ছাড়াও নানা মানবিক কারনে এলাকার অভাবি মানুষকে নগদে আর্থিক সাহায্য করতে হয়। মায়ের কাছে প্রার্থনা করি যতদিন বাঁচবো আমি যেনো এইভাবে জনসেবা় করে যেতে পারি।

এছাড়াও চেক করুন

বাঁকুড়ায় শিক্ষ‌কের বা‌ড়ি‌তে চু‌রি

নরেশ ভকত, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, বাঁকুড়াঃ বাঁকুড়া শহরের জুনবেদিয়া বাইপাসের কাছাকাছি পলাশতলা এলাকায় শিক্ষক বৈদ্যনাথ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.