Breaking News
Home >> Breaking News >> ওঁরা মাঠে বীজ বোনে, পাকা ধান কাটে পূর্ব কাশমলি গ্রামের মহিলা পরিচালিত দুর্গাপুজো এবার এগারোয়

ওঁরা মাঠে বীজ বোনে, পাকা ধান কাটে পূর্ব কাশমলি গ্রামের মহিলা পরিচালিত দুর্গাপুজো এবার এগারোয়

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া: কথায় আছে যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে। প্রত্যন্ত গ্রামের মহিলারা শুধু সংসারের কাজে থেমে থাকছেন না। ঢুকে পড়েছেন দুর্গাপুজোর দায়িত্ব সামাল দিতে। পুজোর আয়োজন, পুরোহিত জোগাড়, পরিচিতদের থেকে আর্থিক সাহায্য সমস্ত কিছু মহিলারাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে করছেন। চমক দিয়েছেন প্রতিমা নির্মাণেও। এতকিছুর পরেও গর্ব নেই। ভালোয় ভালোয় পুজো মিটলে তবেই মনবাঞ্চা পূরণ অনুভব করবেন।

দু’পাশারি ধানি জমি। মাঝখান দিয়ে পিচ ঢালা রাস্তা পৌঁছে গিয়েছে কুলিয়া ঘাট। পথের শুরুতে লাল রঙ ফেকাসে হওয়া দেওয়ালে লেখা সিপিএমের পার্টি অফিস। পাশে মাইলস্টোন পোতা। মিনিট দশেকেই দু কিমি পথ পাড়ি জমিয়ে পৌঁছে যাওয়া পূর্ব কাশমলি প্রাইমারী স্কুল। পশ্চিম আকাশে তখন সবে সন্ধ্যা নেমেছে। গ্রামের মোড় মাথায় প্রাচীন বট গাছের পাশে রাস্তার উপর বাঁশ বেঁধে প্যান্ডেল বানানো একদম শেষ পর্যায়। দশ হাত দূরে দাঁড়িয়ে জনা দশেক মহিলা। পরনের কাপড় গ্রামের আটপৌর চিত্র তুলে ধরছে। হাতে আর একটা দিন। এরমধ্যে সমস্ত আয়োজন সম্পূর্ণ করতে হবে। সারাদিন কর্মব্যস্ত। নিঃশ্বাস নেওয়ার ফুরসত নেই। হিসাবের কাগজে লেখা মিলিয়ে নেওয়া হচ্ছে সমস্তকিছু।

কাশমলি মহিলা সংগঠন এর দুর্গাপুজো এ বছর এগারোয় পড়লো। পুজো কমিটির সভাপতি রীতা বাগ জানান, “সারা বছর আমরা পুরুষদের সঙ্গে জমিতে চাষের কাজ করি। ঘরসংসার সামলাই। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাই। বছর দশেক আগে চার কিমি দূরে বাকসি ও পাঁচ কিমি দূরে জয়পুরে দুর্গাপুজো হতো। মাটির রাস্তা দিয়ে ছেলে-মেয়েদের অতদূর একা ছাড়তে ভয় করতো। তারপর জা-ননদ-শ্বাশুড়ি-বৌমা সবাই মিলে আলোচনা করি। যেমন চিন্তাভাবনা তেমনি কাজ। শুরু হয়ে যায় দুর্গাপুজোর তোরজোর। থলিয়া থেকে ঠাকুর অর্ডার দেওয়া। প্যান্ডেল, আলো সবকিছু আলোচনা সম্পূর্ণ। কিন্তু টাকা আসবে কোথা থেকে। তার জন্য আমরা মহিলারাই জমিতে কাজ করে টাকার জোগাড় করি। কিন্তু পুজোর দু’দিন আগে বন্যা চলে আসে। ঘরদোর ছেড়ে ঠাকুর রক্ষা করতে ছুটে আসি সবাই। উঁচু জায়গায় তুলে সে বছর পুজো করা হয়।”

পূর্ব কাশমলি রাজবংশী পাড়ার মহিলা সংগঠনের দুর্গাপুজো এখন গ্রামের সর্বজনীন পুজোর আখ্যা পেয়েছে। সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের কথায়, “নমিতা পাঁজা, প্রতিমা মন্ডল, অসিমা মন্ডল, ঝুমা মালিক, শবরী বুদোক, পূর্ণিমা বাগ, সুজাতা মন্ডল একসময় দশ থেকে বিশ জন এখন পুজোয় পঞ্চাশ জন মহিলা সদস্য। বর্ষা শেষে শরতের মেঘ আকাশে দেখা দিলেই নিজেরাই মিটিং করি। প্রতিমা, প্যান্ডেল, লাইট, মাইক থেকে ফুল, ফল, গঙ্গাজল, মধু, দই, ঘি, চিনি সহ পুজোর পঞ্চবিধ উপকরণ সমস্ত হিসাব করে দেখা গেল এক লাখ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। নিজেদের চাঁদা বাড়াতে হয়। পুরুষদের মধ্যে অনেকে সাহায্য করে। তারপর পুজো ক’দিন ঘরদোর ভুলে দেবী দুর্গার আরাধনায় ব্যাস্ত হয়ে পড়ি। পাশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিমা গড়া সম্পূর্ণ। প্রতিমা মিস্ত্রী উত্তম খাঁ এ বছর দুর্গা সহ সকলের পরনে বাঘের ছালের রঙের মাটির কাপড় পড়িয়েছেন। যা চমকে দিয়েছেন সকলকে। পুজোয় মাতৃ আরাধনার পাশাপাশি থাকছে নরনারায়ণ সেবা।

আমতা-২ নং যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সুব্রত সরকার জানান, আমতা-২ বিডিও এলাকায় এ বছর দুর্গাপুজোর সংখ্যা ৩৫। মহিলা পরিচালিত পুজো হচ্ছে ৩টি। পূর্ব কাশমলি রাজবংশী পাড়ার মহিলা সংগঠনের দুর্গাপুজোর খোঁজখবর নেব। ওঁনাদের কোনপ্রকার সাহায্যের প্রয়োজন হলে নিশ্চয়ই পাশে থাকা হবে।

এছাড়াও চেক করুন

বাঁকুড়ায় শিক্ষ‌কের বা‌ড়ি‌তে চু‌রি

নরেশ ভকত, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, বাঁকুড়াঃ বাঁকুড়া শহরের জুনবেদিয়া বাইপাসের কাছাকাছি পলাশতলা এলাকায় শিক্ষক বৈদ্যনাথ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.