Breaking News
Home >> Breaking News >> নদীর জল কমলেও নতুন করে উদয়নারায়ণপুরে প্লাবিত আরও ১০ টি গ্রাম

নদীর জল কমলেও নতুন করে উদয়নারায়ণপুরে প্লাবিত আরও ১০ টি গ্রাম

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ রাস্তার উপর দিয়ে বইছে জল। কিভাবে পার হবেন বুঝতে পারছিলেন না সত্তরোর্ধ্ব বয়স্কা মহিলা। হাত ধরে হেঁটে পার করিয়ে দিলেন। কখনও ত্রাণ শিবিরে খিচুড়ির হাঁড়ি নামাতে হাত লাগাচ্ছেন। প্লাবিত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে দৌড় ঝাঁপ করছেন। সোমবার রাত থেকে বুধবার দুপুর নাওয়া-খাওয়া ভুলে নিজের এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন। ফোন আসলেই দ্রুত আশ্বাস দিচ্ছেন। তিনি উদয়নারায়ণপুর কেন্দ্রের বিধায়ক সমীর পাঁজা।

বুধবার সকালে দামোদরের জল প্রায় ১৫ ইঞ্চি কমেছে। নতুন করে বৃষ্টি হয়নি। রৌদ্রোজ্জ্বল নীল আকাশ। নদীর জল নেমে যাওয়ায় উদয়নারায়ণপুর-ডিহিভুরসুট রাস্তা দিয়ে জল টপকাচ্ছে না। সিনেমাতলা এলাকায় কিছুটা জল রয়েছে। তারকেশ্বর যেতে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ছোট গাড়ি আপাতত ভরসা।

এ দিন দুপুরে ৫১হাজার কিউসেক জল ছাড়ার খবর রয়েছে। তবে গড়ান জলে নতুন করে জলমগ্ন হয়েছে হরালি-সুলতানপুর, গজা, সীতাপুর, সিংটি শিবানিপুর, আকনা, জয়নগর নদীর দিকে, সোনাগাছি, বেলগ্রাম সহ মোট ১০টা গ্রাম। জল কমেছে টোকাপুর, খলতপুর, দঃরামপুর, কুড়চি, ভীমতলা, জঙ্গলপাড়া এলাকায়। উদয়নারায়নপুর স্ট্যান্ডের কাছে জল রয়েছে।

উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার বিধায়ক সমীর পাঁজা জানান, উপরের দিকে জল গড়িয়ে এসে নিচু এলাকায় পৌঁছেছে। হালকা ভাবে গড়াচ্ছে। সিংটি গ্রাম পঞ্চায়েত এর শ্যামপুর-শিবানিপুর, আকনা প্রভৃতি গ্রামে জল গিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে হরালি-সুলতানপুরে জল গিয়েছে। মোট ১৩টা ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। ৩টি ত্রাণ শিবিরে রান্না করা হচ্ছে। নদী লাগোয়া নিচু এলাকা বালিচক, হরিহরপুর, হোঁদল গ্রামগুলোতে রান্না করার সমস্যা রয়েছে। নৌকা করে খাবার পাঠানো হচ্ছে। আমরা প্রত্যেক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছি। বকপোতা পুরনো সেতুর আগে এপ্রোচ রাস্তা জলের তলায় চলে গেছে। নদীর দু-তিন ফিট উঁচুতে সেতু। যেকোন মুহূর্তে বিপদ ঘটতে পারে। বাধ্য হয়ে নতুন ব্রিজটি আপতকালিন ভাবে দু-তিনদিনের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

যেহুতু নতুন ব্রিজটি নদী থেকে অনেকটা উঁচুতে ফলে সমস্যা হবে না। হঠাত করে ডিভিসির ছাড়া জল চলে আশার পরেও আমরা প্রতিকূলতা কে সরিয়ে মানুষের পাশে থেকেছি। ত্রাণ শিবিরে বন্যার্ত দের নিয়ে এসে রাখা। তাঁদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উদয়নারায়ণপুর বিডিও রামজীবন হাসদা জানান, জল বাড়ছে না। জল ঢোকা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। জল কতক্ষণ নদী টানছে তার উপর নির্ভর করছে। চারটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। ওখানে ৩১০ জন রয়েছে। এছাড়া জলমগ্ন এলাকার ৫-৬ হাজার মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মৃত্যু কারও হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জল কমলে তবেই বোঝা যাবে। যে জলটা ঢুকেছে বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। সামনের দিনে কমে যাবে। জেলার চার অফিসার রয়েছেন এলাকায়।

এছাড়াও চেক করুন

বাঁকুড়ায় শুরু হলো শ্রমিক মেলা ২০২০।

নরেশ ভকত, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, বাঁকুড়াঃ আজ শুরু হলো শ্রমিক মেলা ২০২০ । রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published.