Breaking News
Home >> Breaking News >> আশা-আশঙ্কার দোলাচলে উদয়নারায়ণপুর এলাকার দুর্গা পুজো

আশা-আশঙ্কার দোলাচলে উদয়নারায়ণপুর এলাকার দুর্গা পুজো

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া: ‘মা আসছেন’ শব্দটি নিয়ে বাংলাজুড়ে প্রবল আবেগ। ঠিক সেই সময় ভয়ঙ্কর বন্যার প্রহর গুনছে উদয়নারায়ণপুর। জল যেভাবে বাড়ছে পুজো টা এবার হবে তো ? এলাকার মানুষের মধ্যে এ প্রশ্নই ঘোরাঘুরি করছে।

মঙ্গলবার ভোর তখন চারটে। কুড়চি এলাকার বাস রাস্তা দিয়ে জল ঢুকতে শুরু করেছে গ্রামে। এ খবর পৌঁছাতেই শুরু হয়ে যায় ঘরদোর গোছানোর। বেলা গড়াতেই দামোদর ঘেঁষা কুর্চি-শিবপুর, রামপুর-ডিহিভুরসুট-আসন্ডা (আরডিএ) এবং কানুপাট-মনসুখা প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মাইকিং শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন। তৃতীয়াতেই ঘরের দোরগোড়ায় বন্যার জল। গ্রামের রাস্তায় কোথাও এক হাঁটু কোথাও আবার এক বুক। প্যান্ডেলে ঢুকেছে জল। রাত পোহালে পঞ্চমী পরতে পরতে সাজানো আবেগ সবটাই বন্যা কেড়ে নিতে বসেছে। এ কোন শরত যা বর্ষাকেও হারিয়ে দিল। ইতিউতি এ সব কথাই ঘোরাফেরা করছে।

কুড়চি সর্বজনীন দুর্গা পুজোর প্যান্ডেল জলমগ্ন। ঘোলা ফুটবল মাঠের প্যান্ডেলের অবস্থাও এক-ই। প্যান্ডেলে বন্যার জল প্রবেশ করেছে। ডিহিভুরসুট বাসস্ট্যান্ডের প্যান্ডেলে এক হাঁটু জল। আসন্ডা এলাকায় তিনটি পুজো হয়েছে। রামপুরে তিনটে পুজো হচ্ছে। বন্যার জল না গেলেও রাতের মধ্যে চলে যেতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। অনিমেষ, হৃদ্ধিক, শ্রীমন্ত, রাজু, পাপাই প্রত্যেকে পড়েছে গভীর চিন্তায়। টিনেজদের কথায়, মহালয়ার বীরেন্দ্রকৃষ্ণের কণ্ঠস্বরে স্তোত্রপাঠ শুনে ষষ্ঠী’র অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু তৃতীয়া যে এভাবে ভয়াল হয়ে ফিরে আসবে বোঝা যায়নি। আমাদের এখানের সমস্যা অনেক সুরাহা হচ্ছে কোথায়। এখন চিন্তা পুজো প্ল্যান সম্পন্ন হবে কিভাবে! প্রতিমা তঈরি হয়ে গিয়েছে। প্যান্ডেলে কাপড় লাগানো সম্পূর্ণ। ঢাকিদের আগমন ও মাইকে পুজোর গান শুরু হবার আগেই সব যেন শেষ।

উদয়নারায়ণপুর কলেজ, হাসপাতাল সর্বত্র জল ঢুকেছে। নিচু গ্রাম ছাড়িয়ে জল প্রবেশ করছে উঁচু এলাকায়। এলাকার প্রবীণদের হাতে গড়া দুর্গাপুজো সম্পূর্ণ হবে কি ভাবে চিন্তার ভাঁজ কপালে। নামী পুজোর নাম থাকা পূর্বপাড়া সর্বজনীন এছাড়া জমিদার বাড়ি, ঝংকার ক্লাব, মাজি পাড়া সহ উদয়নারায়ণপুর গ্রামে ৭-৮ টা বড় বড় পুজো হয়। প্রতিটি পুজোয় ঢাকে কাঠি পড়বে কিভাবে জানা নেই। বন্যা পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হলে কোনক্রমে ঘট পুজো করে আসছে বছর আবার হবে এই আশায় এবারের মত পুজোয় ইতি টানতে হবে। কথা হচ্ছিল শিক্ষক নকুল অধিকারীর সঙ্গে। তিনি আরও জানান, ছোটরা জামা কাপড় কিনেছে। ভোর রাতে চোখ কোচলে মহালয়া দেখেছে। ডিভিসির ছাড়া জলে সব স্বপ্নই এখন জলের তলায়। আশা-আশঙ্কার দোলাচলে উদয়নারায়ণপুর এলাকার শারদ উৎসব।

এছাড়াও চেক করুন

বাঁকুড়ায় শিক্ষ‌কের বা‌ড়ি‌তে চু‌রি

নরেশ ভকত, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, বাঁকুড়াঃ বাঁকুড়া শহরের জুনবেদিয়া বাইপাসের কাছাকাছি পলাশতলা এলাকায় শিক্ষক বৈদ্যনাথ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.