Breaking News
Home >> Breaking News >> বাউড়িয়া শিল্প তালুক ধুঁকছে! বোনাসের দাবিতে রাত থেকে জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখে শ্রমিক বিক্ষোভ

বাউড়িয়া শিল্প তালুক ধুঁকছে! বোনাসের দাবিতে রাত থেকে জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখে শ্রমিক বিক্ষোভ

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া: বাউড়িয়া স্টেশনের ১নম্বর প্ল্যাটফর্ম-এর গা ঘেঁষে পিচ ঢালা রাস্তা সোজা চলে গিয়েছে গঙ্গাঘাট। প্রায় তিনি কিমি রাস্তা সকাল থেকে সন্ধ্যা চরম ব্যস্ততা। দুটি মিলের কয়েক হাজার কর্মী যাতায়াত করেন। সামনে বিশ্বকর্মা পুজো, তারপর বাঙালির বড় উৎসব দুর্গাপুজো। তিন সিফটে কাজে যাচ্ছে লোকজন। কিন্তু দু’পাশারি জামা কাপড়ের দোকানে ভিড় উধাও। কারণ জুট মিলে বোনাস এখনও হয়নি। কবে হবে তার কোনও সুনির্দিষ্ট তারিখ কেউ জানে না। কর্মীদের হাতে টাকা না থাকলে দোকানে আসবে কিভাবে।

সাঁকরাইল, বাউড়িয়া, চেঙ্গাইল ও ফুলেশ্বর বিস্তৃত এলাকা জুট মিল শিল্পাঞ্চল বলে পরিচিত। হলদিয়া হয়ে জাহাজ নোঙ্গর ফেলত জুট মিলের জেটিতে। মিলের হুইসেল বাজলে হাজার হাজার মানুষ বাড়ির পথ নেয়। এই জুট মিলে কাজ করে এখানকার মানুষের সংসার চলে। দুর্গাপুজোক্ব আসলে খুশির অন্ত থাকতো না। যে যার মতো করে পুজোর প্ল্যান তৈরি করে নিত। বিশ্বকর্মা পুজোর আগে মিলত ফফতবোনাস। তারপর পরিবার নিয়ে কেনাকাটা। এখন গঙ্গার পাড়ে জুট মিল রয়েছে। কিন্তু খুশির ফানুস ওড়ে না।দীর্ঘদিন বন্ধ কটন মিল। ফোর্ট গ্লস্টার কেবল কারখানা তালা ঝোলানো। বাউড়িয়া নর্থ জুট মিল ও নিউ গ্লস্টার জুট মিল চালু থাকলেও কর্মীদের বোনাস কবে হবে কেউ জানে না।

ধিনচাঁদ বিহারের বাসিন্দা। মিলে কাজ করবার সুবাদে পরিবার কে নিয়ে এসে
গ্লস্টার জুট মিল থেকে কিছুটা দূরে ভাড়া বাড়িতে তোলেন। পরে জমি কিনে দু কামরা বাড়ি করেছেন। সমস্তটা দীর্ঘদিন মিলে কাজ করবার সুবাদে। ছেলেকে কটন মিলে কাজে লাগিয়ে ছিলেন। মিল বন্ধ হয় আবার খুলেও যায়। কিন্তু কটন মিলের গেটে তালা আজও খুললো না।ধিনচাঁদ এর মতো অষ্ট বটব্যাল, রঘু পান্ডা প্রত্যেকে এখন বেকার। পাড়ায় ছোট চায়ের দোকান করেছেন রঘু পান্ডা। দু’শ টাকা দিনে বিক্রি হয়। ওঁদের কথায়, একটা সময় কটন মিল, কেবল কারখানা, নর্থ জুট মিল, নিউ গ্লস্টার জুট মিল রমরমিয়ে চলছে। প্রসেনজিৎ, চিরঞ্জিত এর নতুন বই রিলিজ হলেই বাউড়িয়া সিনেমা হলে চলতো। মিলে ছুটির হুইসেল বাজলে মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যেত। এখন সে সব অতীত। জুট শিল্প ধুকছে। যে দু’টো মিল চলছে তাদের অবস্থাও একি। সময়ে মাইনে হয় না। বোনাসের ঠিক ঠিকানা নেই।

শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতার কথায়, মিল বন্ধের কারণে ও ছোট গাড়ির উৎপাতে রাণিহাটি-বাউড়িয়া বাস রুট বন্ধ উঠে গিয়েছে। এলাকার নজরকাড়া সর্বজনীন দুর্গাপুজো আগের জৌলুষ হারিয়েছে। মানুষ বাধ্য হয়েছে অন্য পেশায় যুক্ত হতে। আশার আলো বাউড়িয়ার দু’টো জুট মিল ও ফুলেশ্বর এলাকার প্রেমচাঁদ জুট মিল ও ল্যাডলো জুট মিল চালু রয়েছে। তবে বন্ধের খাতায় বহুদিন নাম লিখিয়েছে কানোরিয়া জুট মিল। মালিকপক্ষ যদি সদয় না হয়। কর্মীদের প্রতি দায়বদ্ধতা না দেখায় সেক্ষেত্রে জুট মিলের ভবিষ্যৎ কানোরিয়া ও কটন জুট মিলের মতো হবে!

এ দিকে পূর্ণ বোনাসের দাবিতে শনিবার রাত থেকে উৎপাদন বন্ধ করে দেয় ল্যাডলো মিলের কয়েক হাজার শ্রমিক। রবিবার পুজোর বোনাস দেবার দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় মিলের শ্রমিকরা। তাঁদের দাবি ছিল বিশ্বকর্মা পুজোর আগে বোনাস দেবার। মালিকপক্ষ সেই দাবি না মানায় বেলা সাড়ে দশটা নাগাদ কর্মীরা বিক্ষোভে সামিল হয়। যদিও বোনাসের বিষয় মালিকপক্ষ জানিয়েছে মঙ্গলবার বোনাস দেওয়া হবে। তারজন্য কিছু শরত আরোপ করা হয়েছে।

এছাড়াও চেক করুন

ভারত জাকাত মাঝির ডাকা পথ অবরোধের জেরে স্তব্ধ ঝাড়গ্রাম

স্টিং নিউজ সার্ভিস, ঝাড়গ্রামঃ ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাঁওতালি মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষণের ডিএলএড কোর্স চালু ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published.