Breaking News
Home >> Breaking News >> নবান্ন’র তিন কিমি দূরে রণক্ষেত্র,  পুলিশের লাঠির ঘায়ে ৬০জন ছাত্র-যুব হাসপাতালে, দেখতে এলেন রবীন দেব, আবদুল মান্নান

নবান্ন’র তিন কিমি দূরে রণক্ষেত্র,  পুলিশের লাঠির ঘায়ে ৬০জন ছাত্র-যুব হাসপাতালে, দেখতে এলেন রবীন দেব, আবদুল মান্নান

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া :সিঙ্গুর থেকে নবান্ন বামেদের ডাকে মিছিলে রণক্ষেত্র হাওড়া। মিছিল থেকে উড়ে আসলো বোমা। তারপর যে ঘটনা ঘটলো তারজন্য প্রস্তুত ছিল না বামপন্থী যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলি। পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জে আহত হন কমপক্ষে ৬০ জন ছাত্র।

বৃহস্পতিবার বেলা গড়াতেই সিঙ্গুরের বুড়োশান্তি মাঠ থেকে শুরু হয় বামেদের নবান্ন অভিযান। এই অভিযানে সামিল বাম ছাত্র এবং সংগঠনের কর্মীরা। যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে ছিল যুবক-যুবতীদের উপস্থিতি। বৃহস্পতিবার যেখানে শেষ হয় শুক্রবার শুরুটা হয় একিভাবে। এ দিন দুপুরে হাওড়া থেকে নবান্ন মুখি যাত্রা শুরু হবার বহু আগে থেকে প্রস্তুত ছিল পুলিশ। রোবো কপ, কাঁদানে গ্যাস, জল কামান, এছাড়া লাঠি হাতে বহু পুলিশ কর্মী উপস্থিত রাখা হয়। হাওরা স্টেশনেও নিরাপত্তা কর্মী ছিল চোখে পড়বার মতো। দুপুর ১টার কিছু পর কয়েক হাজার যুবক-যবতি ও ছাত্রদের মিছিল নবান্ন মুখ নিয়ে এগিয়ে চলে। মল্লিক ফটকের কাছে পৌঁছতেই পুলিশের বিশাল ব্যারিকেড আটকে দেয়। নাছোড় কর্মীদের এগিয়ে যাওয়ার মুখে পুলিশের ব্যারিকেড আগুনে ঘৃতাহুতি করে।

ধস্তাধস্তি শুরু হতেই মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে ইটের বৃষ্টি। সঙ্গে ছিল বোতল ছোঁড়া। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করছে বলে ছড়িয়ে পড়ে গুজব। ছোট ছোট ভাগে কর্মীরা জিটি রোডের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। বড় রাস্তার পাশের গলি দিয়ে ছুটতে থাকে। লাঠি হাতে পিছু নেয় পুলিশ। সেই সময় ছোঁড়া ইটের ঘায়ে আহত হন এক পুলিশকর্মী। তারপর শুরু হয় পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জ। আহত হয় বহু ছাত্র ও যুবক। কারও ফাটে মাথা। কেউ আবার আহত হয়ে রাস্তায় শুয়ে পড়ে। কারও মাথা ফেটেছে, কেউ মারের চোটে মূর্ছা যায়। জলের ডাম নিয়ে মাথায় জল দিতেও দেখা যায়। মিছিলকে লক্ষ্য করে জলকামান ব্যবহার করা হয়। কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো হয়। এ দিন মিছিলের আগে সাংবাদিকরা নিদিষ্ট পোশাক পড়েও আহত হয়।

সিঙ্গুর টু নবান্ন ভায়া হাওড়া মিছিল উপলক্ষে বহু ছাত্র এসেছিল। শুধুমাত্র সিঙ্গুর নামটার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে। তারকেশ্বর থেকে এসেছিল সৌরভ পাল। বহরমপুর থেকে অনিক চক্রবর্তী, বারুইপুর থেকে নীলাম্বর কাঁড়ার। এমন শ’য়ে শ’য়ে ছাত্র-যুব এ দিন মিছিলে পা মেলায়। পুলিশের লাঠির ঘায়ে আহত হয় ৬০ জন। আহতদের ভর্তি করানো হয় হাওড়া হাসপাতালে এবং অন্যান্য জায়গায়। বাম সংগঠনের যুবকরা জানান, আমরা কোনভাবে ইট ছুঁড়ি নি। হঠাৎ করেই পুলিশ আমাদের পথ আটকে দেয়। আমাদের দাবিদাওয়া পৌঁছে দেওয়ার বদলে লাঠির ঘায়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হল। মহিলাদেরও মারা হয়। কোনও মহিলা পুলিশ নয় পুরুষ পুলিশ মেরেছে। রাজপথে লুটিয়ে পড়েছে বামপন্থা। রক্তকরবী হয়েছে আজ কর্মীরা। এর প্রতিবাদ চলবে। বামপন্থা চুপ করে থাকে না। তাঁদের এভাবে রোখা যায় না। বঙ্গবাসী মোড়, মল্লিক ফটক সর্বত্র ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়। বোঝা যাচ্ছে বামেদের এখনও তিনি ভয় পান।

ঘটনার কিছু পরে সাংবাদিকদের সামনে বৈঠক করেন মহঃ সেলিম। তিনি জানান, তারা স্মারকলিপি প্রেস করতে গিয়েছিল। তাও মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়ে। তারপরেও এ ভাবে লাঠি চালানো হয়। সমস্ত চাকরি তে দুর্নীতি হচ্ছে। আর তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে পুলিশ কে লেলিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার পরিবর্তে শনি ও রবিবার কালা দিবস পালন করা হবে। মিছিলকে এভাবে ছত্রভঙ্গ করা যায় না। আমরা ছাত্র-যুব নেতৃত্ব কে সেলাম জানাচ্ছি। সাধারণ ঘরের ছেলে মেয়েরা খালি হাতে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলেছে। আগামীদিনে এই ছাত্র-যুবদের হাত ধরেই আন্দোলন চলবে। নবান্ন থেকে তিন কিমি দূর থেকে আন্দোলন দমাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো হয়েছে।

বামেদের নবান্ন অভিযানে আহত হওয়া কর্মীদের হাওড়া হসপিটালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই বিকাল সাড়ে পাঁচটার কিছু সময় পর আহত বাম কর্মীদের দেখতে আসেন আবদুল মান্নান। রয়েছেন এস এফ আই-এর একাধিক নেতাকর্মী। পুলিশের লাঠিচার্জ কে ধিক্কার জানিয়েছেন। মিছিল রোখার জন্য এভাবে লাঠিচার্জ, জল কামান ছোঁড়া সবটাই প্রিপ্ল্যান। দু জন বাম কর্মী কে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়াও চেক করুন

বাঁকুড়ায় শিক্ষ‌কের বা‌ড়ি‌তে চু‌রি

নরেশ ভকত, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, বাঁকুড়াঃ বাঁকুড়া শহরের জুনবেদিয়া বাইপাসের কাছাকাছি পলাশতলা এলাকায় শিক্ষক বৈদ্যনাথ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.