Breaking News
Home >> Breaking News >> ফেসবুকে মুসলিম যুবক যুবতীদের বিবাহ অভিযান

ফেসবুকে মুসলিম যুবক যুবতীদের বিবাহ অভিযান

শুভায়ুর রহমান, স্টিং নিউজঃ গল্পের শুরুটা হয়েছিল দিদির বিয়ের পাত্র খোঁজা নিয়ে। মনের মতো পাত্র পেতে ফেসবুকে দুই বন্ধু ও বান্ধবীর মত বিনিময় হয়। উপায় কি? অনেক ভেবেচিন্তে বাঁকুড়ার বাসিন্দা তথা হায়দ্রাবাদে একটি ওষুধ কোম্পানিতে উচ্চপদে কর্মরত যুবক জিয়াউদ্দিন মন্ডল ফেসবুকেই মুসলিম যুবক যুবতীদের ‘বিবাহ অভিযান’ শুরু করলেন। নাম দিলেন ‘মুসলিম ম্যাট্রিমনি’ গ্রুপ।

আদৌ গল্প? নাহ, এটাই বাস্তব ঘটনা। জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে এই অভিনব উদ্যোগে সহযোগিতা করছেন পুলিশে কর্মরত ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা রেজিনা আহমেদ, শিলিগুড়ির অলিভিয়া রহমান, হুগলির তরুণী সাজিয়া সুলতানা, বর্ধমানের বাসিন্দা ও পেশায় ডাক্তার আসাদুর রহমানরা।

ফেসবুকের মুসলিম ম্যাট্রমনি গ্রুপের এই এডমিনদের কাছ থেকে জানা গেল, সময়ের সঙ্গে মানুষের লাইফ স্টাইলে পরিবর্তন আসছে। উচ্চ শিক্ষিত ছেলে ও মেয়েরা নিজেদের মনের মতো করে জীবন সঙ্গী খুঁজে পেতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একেবারে সিক্রেট এই গ্রুপে প্রায় সকলেই উচ্চ শিক্ষিত। ডাক্তার, অধ্যাপক, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষকের মতো বিভিন্ন পেশার সিঙ্গেল যুবক যুবতী ও অভিভাবকরা যুক্ত হয়েছেন। তবে গ্রুপে পালনীয় আবশ্যিক কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। সম্পূর্ণ নাম ঠিকানা, পেশা,বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ফোন নম্বর, মেইল আইডি এবং কেমন পাত্র পাত্রী খুঁজছেন তার উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর অন্যান্য সদস্যরা প্রয়োজনে যোগাযোগ করে নিতে পারবেন।

পাশাপাশি কোনভাবেই খিল্লি বা মজার করার মতো মন্তব্য করা চলবে না৷ কেউ তামাসা বা মজা করলে সেই সদস্যকে ব্লক করা হবে। ঘরে বসে পাত্র পাত্রীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। এতে ঘটককে টাকা দেওয়া বা পত্র পত্রিকায় টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দেওয়ার মতো সমস্যা থাকছে না। এক্কেবারে বিনামূল্যে পাত্র পাত্রী পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান মুসলিম ম্যাট্রিমনি গ্রুপের প্রধান এডমিন জিয়াউদ্দিন মন্ডল। মুসলিম ম্যাট্রিমনি গ্রুপে যুক্ত সদস্য মুহাম্মদ রায়হানুল হক বলেন,খুবই ভাল উদ্যোগ। পত্র পত্রিকায় পাত্র পাত্রীর সন্ধানের মতো এখানেও পাত্র পাত্রী খুঁজে পাবে৷ গ্রুপটি সিরিয়াস। মুসলিম সমাজের জন্য খুবই দরকার। সৈয়দ কিরমানি নামে একজন সদস্য জানান, খুবই ভাল উদ্যোগ। আরও আগে দরকার ছিল।

এ বিষয়ে গ্রুপের আর একজন এডমিন সাজিয়া সুলতানা জানান, আমার দিদির বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজতে খুব অসুবিধা হচ্ছিল। ঘটকরা টাকা নিয়ে গিয়ে পরে আর যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছিলেন না। এছাড়া পেপারে বিজ্ঞাপন দিয়েও পরিচিতদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে কোনোভাবেই ঠিক মতন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তখনি ভাবলাম আমরা দিনের অনেকটা সময় তো ফেসবুকেই কাটাই।ফেসবুকেই যদি কোনো গ্রুপ বানিয়ে ফেলা যায়,তাহলে অনেকে তাঁদের নিজের বা আত্মীয় পরিচিত জনের ফটো, বায়োডাটা দেবেন। পছন্দ অনুযায়ী নিজেরাই যোগাযোগ করে নেবেন ছেলে বা মেয়ের বাড়ি থেকে। তাহলে সবার খুব ভালো হয়।

এখন অনেক বয়স্কদেরও ফেসবুকে দেখতে পাই, তারাও নিজেদের পরিবারের প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারবে। পেপার বা ম্যাট্রিমনি তে আর টাকা খরচ করতে হবেনা কাউকে। এই ভাবনা থেকেই ফেসবুকের বন্ধু জিয়াউদ্দিন মন্ডলকে বললাম মুসলিম ম্যাট্রিমনি গ্রুপ বানানোর কথা। জিয়া এককথায় রাজি হয়ে গেলো। গ্রুপ বানিয়ে আমাদের বন্ধুদের ইনভাইট করা শুরু হলো। মেম্বারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে দিনদিন। অনেক মানুষের উপকার হচ্ছে। আমাদের কাছে এরকম রোজ প্রচুর মেসেজ আসছে। ২৭ আগস্ট গ্রুপ বানানো হয়েছে।

এর মধ্যেই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। আমরা এটাকে কোনো মজার গ্রুপ বানাতে চাইনা তাই অপ্রয়োজনীয় পোস্ট এপ্রুভ করা হয়না। আমরা এই কাজটা ঠিক করে করতে চাই। অনেকের যেন উপকারে আসতে পারি সেটাই আমাদের লক্ষ্য। অনেক মানুষ ভরসা করছেন আমাদের উপর। খুব ভালো লাগছে এটা দেখে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মুসলিম যুবক যুবতীদের এই উদ্যোগ খুবই প্রশংসা কুড়িয়েছে।

অনেকেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। দিন বদলেছে। আগের মতো রসগোল্লা ভর্তি মাটির হাঁড়ি নিয়ে পাঁচ গ্রাম পেরিয়ে ঘটকের পাত্র পাত্রী দেখতে যাওয়া খুব একটা দেখা যায় না। শিক্ষিত সমাজ নিজেদের মতো করে জীবন সঙ্গী বেছে নিতে তাই ভার্চুয়াল জগতেই আস্থা রাখছেন।

এছাড়াও চেক করুন

দিনহাটায় খোঁজ মিলল বেআইনি বোমা কারখানার, গ্রেপ্তার ১

মনিরুল হক, স্টিং নিউজ, কোচবিহারঃ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম সহ এক ব্যক্তিকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.