Breaking News
Home >> Breaking News >> মহরমে মুসলিম ভাইদের জল খাওয়ালেন হিন্দু পরিবার

মহরমে মুসলিম ভাইদের জল খাওয়ালেন হিন্দু পরিবার

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ ভোরের আজানের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় দীপু, বিশ্বনাথ, জয়া, দীপালি সহ গ্রামের বহু মানুষের। না কোন অভিযোগ নেই। বরঞ্চ সুবিধা হয় ভোর ভোর উঠতে। দরকার পড়ে না এলার্ম দিতে। সকালের মুক্ত অক্সিজেন নিতে গ্রামের সরু আল ধরে হেঁটে ঘুরে বেড়ায়। এ দিন মহরম উপলক্ষে গ্রামের হিন্দুধর্মের মানুষজন গ্লাসভর্তি জল হাতে। তা পান করলো মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষজন। উঠে আসলো সহিষ্ণুতার প্রীতি।

আমতা ২নম্বর ব্লকের জয়পুর গ্রাম। হিন্দু সম্প্রদায়ের কায়স্থ, ব্রাহ্মণ, মুখার্জি, চক্রবর্তী, ভট্টাচার্য, অধিকারী ছাড়াও রয়েছে মাহিষ্য। এছাড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন মিলেমিশে দীর্ঘদিন বসবাস করছেন। গ্রামজুড়ে মুসলমান সম্প্রদায় কোনদিন সংখ্যালঘু বলে মনে করেন না। ধর্মীয় উৎসব-পরব পালনে ‘মিলন মহান’ হয়ে ওঠে। মুসলিম রীতি মেনে নামাজ পড়ে নিজেদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন। হিন্দুরা যেমন নিঢাল উপোষ থেকে শিবরাত্রির ব্রত পালন করেন। বারো মাসে তেরো পার্বণ অনুষ্ঠিত করেন। ঠিক তেমনি মুসলমান সম্প্রদায় পালন করে চলেছেন পবিত্র ঈদ, মহরম-এর ব্রত।

এ দিন মহরম উপলক্ষে তাজিয়া বের করেছিল গ্রামীণ হাওড়ার বিভিন্ন এলাকার মানুষজন। তাজিয়া নিয়ে যাবাদ সুবিধার জন্য হিন্দুরা রাস্তার ধারে ছোট ছোট গাছ ছেটে পরিস্কার করে দেয়। অসীম, রাজু, শংকর প্রত্যেকের কথায়, জয়পুর গ্রামে দুই ধর্ম একই বৃন্তে দুটি কুসুম। মুসলমানদের জমিতে বীজ বোনে, ধান কাটে হিন্দু কৃষকরা। আবার হিন্দুর ঘরে রাজমিস্ত্রীর কাজ করে মুসলমান ভাইয়েরা। হিন্দুরা মুসলমানদের ঘরে আত্মীক হয়ে আসেন। আবার হিন্দুদের দুর্গাপুজোর মিষ্টি মুসলমান বন্ধুদের ঘরে পাঠানো হয়। এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি সহিষ্ণুতা বজায় রেখে চলেছেন।

আমতা ২নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকান্ত পাল জানান, “এই রাজ্যে সম্প্রদায়-ভিত্তিক মেলবন্ধন অটুট। সরকারের সুনজর সমস্ত ধর্মের মানুষদের প্রতি সমান ভাবে পড়ে। এখানে ঈদ, মহরম সম্প্রীতির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়ানো। আজ দেখলাম হিন্দুধর্মের যুবকরা জলের গ্লাস হাতে। সামনে দুর্গাপূজার সময় মুসলমান ভাইয়েরা পুজোর মিষ্টি মুখে তুলনে। এটাই তো প্রকৃত সমন্বয়। আমরা আজও কাজী নজরুল ইসলামের গান গাই, মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান।”

লিয়াকত, সাবির, আশরাফুল প্রত্যেকের কথায়, আমরা ধর্ম বুঝি একটাই তা মানুষ। সকাল হলেই হিন্দু পাড়ার সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ। ওরা আমাদের বন্ধু। ছোট বেলা থেকে একি স্কুলে পড়াশোনা। পরে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করতে আমতা রামসদয় কলেজে ভর্তি হই। আজ ওদের পাড়ার মানুষেরা জল খাওয়ালো এমন সহিষ্ণুতা ভারতবর্ষের পুরনো ঐতিহ্য তুলে ধরে।

এছাড়াও চেক করুন

দিনহাটায় খোঁজ মিলল বেআইনি বোমা কারখানার, গ্রেপ্তার ১

মনিরুল হক, স্টিং নিউজ, কোচবিহারঃ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম সহ এক ব্যক্তিকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.