Breaking News
Home >> Breaking News >> সরকারি বাসে কন্ডাক্টরের অভিনব চতুরতা ! সোশ্যাল মিডিয়ায় যুবকের ক্ষোভ

সরকারি বাসে কন্ডাক্টরের অভিনব চতুরতা ! সোশ্যাল মিডিয়ায় যুবকের ক্ষোভ

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ সরকারি বাসে চেপে অভিনব তৃক্ততার অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন এক কলেজ পড়ুয়া যুবক এবং সঙ্গে থাকা এক বন্ধু। সেই তৃক্ত অভিজ্ঞতা ফেসবুকে তুলে ধরতেই একি ধরণের অভিজ্ঞতার কথা শিকার করেছে নেটিজেনরা। অনেকে এই ধরণের ঘটনায় সরাসরি রাজস্ব ক্ষতির কথাও প্রকারন্তরে তুলে ধরেছেন।

ঠিক কি ঘটেছে রবিবার ওই কলেজ পড়ুয়া এবং তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধুর। এ বিষয় অভিযোগকারী দুর্যোধন মাজি জানান, অনেক সময় কাজের সূত্রে কলকাতায় যেতে হয়। রবিবার এমনি এক কাজে কলকাতায় আসি। দুপুরে ফিরবার সময় দুটো নাগাদ ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাগনানগামি সিটিসি বাসে উঠি। যদিও সিটিসি সহ অন্য রাষ্ট্রীয় পরিবহণ এখন এক ছাদের তলায়। সাঁতরাগাছি পৌঁছাবার পর বাসের কন্ডাক্টর বছর আটাশ-তিরিশের এক যুবক এসে ভাড়া চান। ৪০ টাকা করে দুটি টিকিটের ভাড়া আশি টাকা দিই। কন্ডাক্টরের কাছে থাকা ডিজিটাল টিকিট মেশিন এর দ্বারা টিকিট প্রিন্ট করে দেওয়া হয়। এরপরেই যা দেখলাম ভাবলাম হয়তো ভুল করেছেন কন্ডাক্টর। কিন্তু জিজ্ঞাসা করতেই তিনি যা বললেন আমরা হতবাক।

গ্রামের ছেলে দুর্যোধন ওয়েডিং ফটোগ্রাফির কাজ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছ’শোর কাছকাছি ফলোয়ার। পাশাপাশি নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকস্তরে পড়াশোনা শুরু করেছেন। দুর্যোধন জানান, কন্ডাক্টর যে টিকিট দিলেন তাতে একজনের সফরের কথা লেখা রয়েছে। এবং টিকিটের মূল্য লেখা ৪০ টাকা। জিজ্ঞাসা করতেই উনি বললেন কোন অসুবিধা নেই। আমি তো আছি। কিন্তু নাছোড় দুর্যোধন তর্ক জুড়ে দেন। এতেই বিরক্ত হয়ে কন্ডাক্টর আরও একটি টিকিট দেন। ঠিক তার পরেই আমার সামনের সিটের আরও দু’জন লোকের সাথে একি রকম ব্যবহার করলেন। কিন্তু তাঁরা বুঝলেন কি জানিনা। এরপরেই দুর্যোধন সিদ্ধান্ত নেয় সোশ্যাল মিডিয়ায় তা তুলে ধরবেন। পোস্ট করতেই একি ধরণের একাধিক যুবক অভিজ্ঞতার কথা বলতে থাকেন।

যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, ধর্মতলা-বাগনান ও ধর্মতলা-আমতা রুটে সন্ধ্যা নামলেই সরকারি বাসের কন্ডাক্টর দের নতুন ফর্মুলা চালু হয়ে যায়। ফুল ভাড়ার পরিবর্তে কেউ কুড়ি টাকা, কেউ আবার পনেরো টাকাতেই এডজাস্টমেন্ট করে নেয়। আর সমস্তটাই কন্ডাক্টরের পকেটে চলে যায়। তবে এই টাকার পুরোটা কন্ডাক্টরের থাকে না। ভাগ বাটোয়ারা হয় চালক ও অন্যান্য কর্মীদের মধ্যে। পিন্টু মাইতি নামে এক যাত্রী জানান, আমার সাথেও একদিন করেছিল। ৫০ টাকা নিয়ে কুড়ি টাকার টিকিট দিয়েছিল। বলেছিলাম আর টিকিট কই। বললেন ৬০ টাকা ভাড়া পঞ্চাশ টাকা নিলাম। আপনি ৬০ টাকাই নিন আর পুরো টিকিট দিন। বলতে আবার দিলেন। মানিক খাঁ নামে এক যুবকের কথায়, এদের জন্য বাসগুলো বন্ধ হলে আমরা সমস্যায় পড়বো। ওদের কি যাই আসে কিছু টাকা ইনকাম করা নিয়ে দরকার।

এ বিষয় ধর্মতলা কন্ট্রোল অফিসে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয় মন্তব্য করতে চায়নি। তিনি জানান কোনও অভিযোগ বা কিছু জানার থাকলে হেড অফিসে যোগাযোগ করুণ। সেখানেও ফোন বাজতে থাকে। তবে কর্তৃপক্ষের একাংশের বক্তব্য এমন ঘটনা যে ঘটে না তা ঠিক নয়। ধর্মতলা বাসে লাইন দিয়ে উঠবার সময় টিকিট কেটে তারপর তোলা হয়। অনেকে বাগনান বা আমতা গেলে সাঁতরাগাছি বা ধূলাগোড় অপবধি টিকিট কাটেন। বাকিটা ওই টিকিটেই চলে যায়। চেকিং হয়। তখন বিভিন্ন অজুহাত দেখায়। ফাইন করাও হয়। কোন রুটে লসে বাস চললে সেক্ষেত্রে বাসের সংখ্যা বাড়ে না। যাত্রীদের দরকার সঠিক ভাড়া দেওয়া ও টিকিট দেখে নেওয়া। এতে করে সরকারি সংস্থা লাভবান হবে। যাত্রীরাও সুযোগ-সুবিধা পাবে।

এছাড়াও চেক করুন

দিনহাটায় খোঁজ মিলল বেআইনি বোমা কারখানার, গ্রেপ্তার ১

মনিরুল হক, স্টিং নিউজ, কোচবিহারঃ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম সহ এক ব্যক্তিকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.