Breaking News
Home >> Breaking News >> স্টেশন বাউড়িয়া, ঝুঁকির পারাপারে বাড়ছে দুর্ঘটনা, সচেতনতা সেই তিমিরে

স্টেশন বাউড়িয়া, ঝুঁকির পারাপারে বাড়ছে দুর্ঘটনা, সচেতনতা সেই তিমিরে

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ রেল লাইন পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনা নিয়ম মেনে হচ্ছে। তবুও সচেতন হওয়ার ছিটেফোঁটা লক্ষ্যণ মিলছে না। উপরন্তু লাইন টপকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এর ফলে কারও বাদ যাচ্ছে পা, কেউ আবার চিরতরে হারাচ্ছে জীবন।

দক্ষিণ-পূর্ব রেলের ব্যস্ত স্টেশনের মধ্যে একটি বাউড়িয়া। একাধিক স্লো ও দ্রুত গতির লোকাল ট্রেন প্ল্যাটফর্মে থেমে-ই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। হাজার-হাজার নিত্যযাত্রীর দিনের অধিকাংশ সময় ট্রেন ধরবার জন্য রয়েছে একাধিক সুযোগ-সুবিধা। চকচকে ফুটওভার ব্রিজ। পরিচ্ছন্ন প্ল্যাটফর্ম। পানীয় জলের সুব্যবস্থা। তবুও লাইন টপকে ট্রেন ধরবার প্রবণতা কমছে না বলেই মত যাত্রীদের একাংশের। আর এরজন্য কারণ দেখিয়েছে সময় ও মানসিকতার পরিবর্তন না হওয়াকে। মানুষ শরীর না খাটাতে চাওয়া ও জীবনের মূল্য বুঝতে না চাওয়াটা বিপদের সম্মুখীন হয়ে পড়ছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা হচ্ছে সিড়ি ভেঙে ফুটওভার ব্রিজে উঠতে না চাওয়া।

স্টেশন এলাকায় হকারদের কথায়, বুধবার সকাল সাড়ে দশটা। ডাউন লোকাল ধরবার জন্য চার নম্বর প্ল্যাটফর্মে তখন থিকথিকে ভিড়। হঠাত চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ছুটে গিয়ে দেখি এক ব্যক্তি লাইনে পড়ে কাতরাচ্ছেন। দু’টি পা ট্রেনের চাকায় কাটা পড়েছে। জ্ঞান থাকায় পকেট থেকে ফোন বের করে বাড়িতে কথাও বলছেন। জানা যায় বজবজ এলাকায় বাড়ি। কলকাতায় কোন সরকারি দপ্তরে সিকিউরিটির কাজ করেন। উলুবেড়িয়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তারপরেও বদলায়নি লাইন টপকে যাওয়ার প্রবণতা।

সাধারণ যাত্রীদের কথায়,” ফুটওভার ব্রিজ পার করেই যাত্রীরা ট্রেন ধরতে যায়। তবে এখন প্ল্যাটফর্ম বাড়ায় আর মাঝখানে ফুটওভার ব্রিজ হওয়ায় সমস্যা হয়। কোনও যাত্রী সামনের কামরায় উঠতে চাইলে ফুটওভার ব্রিজ পার করে প্ল্যাটফর্মে নেমে অনেকটা হাঁটতে হয়। ট্রেন ধরতেও লাইন টপকে সহজেই প্ল্যাটফর্মে উঠে যাওয়া যায়। সময় ও শ্রম বাঁচাতে লাইন টপকায়।”

কাজিরচড়া এলাকার বাসিন্দা সিদ্ধেশ্বর সাঁতরা জানান, “স্টেশনের সার্বিক উন্নয়ন হলেও চার নম্বর প্ল্যাটফর্মের পাশে টিকিট ঘরে অফিস টাইমের পর বাকি সময় কাউন্টার বন্ধ হয়ে যায়। খিড়িসতলা থেকে চার নম্বর প্ল্যাটফর্মের ধার দিয়ে খলিশানি যাবার অটোস্ট্যান্ড অবধি টিকিট কাউন্টারের সামনে ছাড়া গোটা স্টেশন রাস্তায় আলো নেই। রাস্তার বেহাল দশা। কাদা জল জমে থাকে। অন্ধকারে মহিলারা হাঁটতে সমস্যায় পড়ে।” হাওড়া ময়দানে বেসরকারি সংস্থায় একাউন্টসের কাজ করা রাখেশ সামন্ত জানান, “দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সময় সারণি থাকলেও ট্রেন চলে লেটে। একটা লোকাল মিস করলে কাজে যেতে দেরি। বাধ্য হয়ে লাইন টপকে ট্রেন ধরতে হয়।”

এ দিন দেখা গেল চার ও পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মে উঠতে কোলের বাচ্চাকে নিয়ে লাইন টপকাচ্ছেন এক মহিলা। প্রশ্ন করতেই, ট্রেন আসবার ঘোষণা শুনে তারাতারি ট্রেন ধরতে লাইন টপকে উঠবার চেষ্টা করছি। লাইন টপকালে রেল পুলিশের জরিমানা রয়েছে।

রেল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, “চেকিং হয় না তা নয়। বিভিন্ন স্টেশনে চেকিং হয়। জরিমানা দিয়ে ছাড় পাচ্ছেন।” শুধুমাত্র জরিমানা করলেই যে কমবে লাইন টপকানো তা মানছেন না রেল পুলিশের কর্তারাই। তাঁদের একাংশের কথায়, “রেল লাইন ধরে মোবাইল কানে হেঁটে যাওয়া নিয়ে খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার পাঠ পড়াতে হবে। পাশপাশি স্টেশনে অভিযানও চালাতে হবে।”

এছাড়াও চেক করুন

লালগড়ের পডিহা গ্রামে জল সংরক্ষণ ও স্বচ্ছ ভারত নিয়ে সচেতনতা অভিযান চালালো সিআরপিএফের জওয়ানরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম : লালগড়ের পডিহা গ্রামে জল সংরক্ষণ ও স্বচ্ছ ভারত সচেতনতা অভিযান চালালো …

Leave a Reply

Your email address will not be published.