Breaking News
Home >> Breaking News >> কমবয়সী মেয়েদের বিয়ে আটকে নজির গড়া শ্যামপুরের শিক্ষিকা পেলেন দিল্লি’র পুরস্কার

কমবয়সী মেয়েদের বিয়ে আটকে নজির গড়া শ্যামপুরের শিক্ষিকা পেলেন দিল্লি’র পুরস্কার

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ সালটা ২০০৭, প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষিকা হিসাবে যুক্ত হন তিনি। নবম শ্রেণি এমনকি দশম শ্রেণিতে পড়া ছাত্রীদের কম বয়সে বিয়ে হতে দেখে অবাক হয়ে যান। পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রীদের বোঝাতে শুরু করেন। বয়সের ফাঁক গলে যেন বিয়ের পিঁড়িতে না বসে পড়ে। দীর্ঘ বারো বছর নিরন্তর ছাত্রীদের সঠিক দিশা দিয়ে চলা গ্রামীণ হাওড়ার শ্যামপুর থানার গুজারপুর বালিকা বিদ্যালয়ের ভৌতবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ের শিক্ষিকা সংহিতা ঘোষাল পেলেন এডুকেশন আইকন এওয়ার্ড এর অধীন ‘ইন্সপিরেশনাল টিচার এওয়ার্ড’।

চলতি মাসের ২৪ তারিখ নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের এম.এইচ.আর.ডি, পাটনা আই.আই.টি ইনকিউভেশন সেন্টার এবং গুগল সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সেমিনারের আয়োজন করে। সেখানেই আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল চুবুরুর হাত থেকে পুরস্কার ও শংসাপত্র গ্রহণ করেন শিক্ষিকা সংহিতা ঘোষাল। তবে শুরুটা হয়েছিল মাস দুয়েক আগে। জুন মাসে প্রথমে একটি ইন্টারভিউ নেওয়া হয়। এরপর চাকরি জীবনে কি কি সমস্যা দেখেছেন তার উপর একটি লেখা চাওয়া হয়। তারপর আরও একটা ইন্টারভিউ তে ডাকা হয়। এরপর বেশ কয়েকটা অধ্যায় পার করবার পর ২৪ অগস্ট নয়াদিল্লি তে পুরস্কারের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল চুবুরুর হাত থেকে পুরস্কার ও শংসাপত্র গ্রহণ করে একটা নতুন অধ্যায় তুলে ধরলেন গ্রামের স্কুলের বত্রিশ বছর বয়সি শিক্ষিকা সংহিতা ঘোষাল।

মঙ্গলবার দিল্লি থেকে রাজধানী এক্সপ্রেস চড়ে বাড়ি ফিরেছেন। ট্রেন লেট থাকায় চোখেমুখে ক্লান্তির স্পষ্ট ছাপ। তারপরেও শিক্ষিকা সংহিতা ঘোষাল সময় দিয়ে দিন দর্পণ পত্রিকার সাংবাদিককে সমস্তটা জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে বহু অভিজ্ঞতার সাক্ষী থেকেছি। আয়োজকরা ইন্টারভিউ এর পর লেখা চান। আমি স্কুল এলাকার মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে ও কমবয়সী মা হওয়া নিয়ে লেখা দিই। এরপর ওঁরা জানতে চায় কেন এই বিষয়টা সিলেকশন করি। শ্যামপুর এলাকাটা অনেকটা উন্নত। সেই তুলনায় গুজারপুর এলকার বেশির ভাগটাই অনুন্নয়নের ছায়া। সেই সময় মাধ্যমিক দেওয়ার পর নয়তো তার আগেই মেয়েদের বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেওয়া হয়। ছাত্রীদের বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করি। এছাড়া খেলাধুলো করা মেয়েদের বলি রেলের চাকরির জন্য আবেদন কর। চাকরিও কমবেশি পেয়েছে। এছাড়া ভালো পড়াশোনা করা মেয়েদের শিক্ষিকা হবার নার্স হবার পরামর্শ দিয়েছি। এমনকি সেলাইয়ের কাজ করবার জন্য বলেছিলাম। এতে করে এই দশ বছরে অনেকটা সাফল্য আসে। মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে কমেছে। আমাকে ইন্টারভিউ তে জিজ্ঞাসা করায় সমস্তটা বলি। আরে এতে করেই ওঁনাদের নজরে আসে আমার বিষয়টি। পুরস্কৃত হতে পেরে খুশি হয়েছি। আসলে আমি নিজের জীবনে অনেক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি। মাধ্যমিকে চুরাশি শরাংশ নম্বর পেয়ে পাস করে এগারো ক্লাসে সম্বন্ধ এসে যায়। প্রত্যাখ্যান করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে রসায়ন এবং পুষ্টিবিজ্ঞান নিয়ে মাস্টার অব সায়েন্স ডিগ্রি (এমএসসি)পাশ করি।

সংহিতার সাফল্যে খুশি জৈব রসায়নের বিজ্ঞানী তথা স্বামী ডঃ ঋত্বিক সামন্ত। স্কুলের শিক্ষিকার এমন অভাবনীয় সাফল্যে খুশি স্কুলের সকলে। স্কুলের শিক্ষিকা ছাড়াও পড়ুয়ারা প্রিয় দিদি’র এমন সাফল্যে উৎফুল্লিত। ওঁদের কথায়, দিদির জন্য আজ আমরা গর্বিত। স্কুল জীবনে ওঁনার সানিধ্য পেয়েছি। সবসময় পজিটিভ শিক্ষা দিতেন। কমবয়সে বিয়ে হলে যে সমস্যায় পড়তে হবে তাও বলতেন। উনি আমাদের এলাকার মেয়েদের জন্য অনেক ভালো কাজ করেছেন।” শিক্ষিকা সংহিতার লক্ষ্য এই বিষয় নিয়ে আগামী দিনে আরও বড় মঞ্চ থেকে পুরষ্কার এনে কম বয়সে মেয়েদের বিয়ের বন্ধন কে চিরতরে ছিন্ন করা।

এছাড়াও চেক করুন

ভারত জাকাত মাঝির ডাকা পথ অবরোধের জেরে স্তব্ধ ঝাড়গ্রাম

স্টিং নিউজ সার্ভিস, ঝাড়গ্রামঃ ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাঁওতালি মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষণের ডিএলএড কোর্স চালু ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published.