Breaking News
Home >> Breaking News >> ৪ টাকা ৪৮ পয়সায় এই মেনু সম্ভব ! প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে

৪ টাকা ৪৮ পয়সায় এই মেনু সম্ভব ! প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া:মিড-ডে মিলে সরকারি নয়া মেনু অভিভাবকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। স্কুলে সপ্তাহে দু দিন সন্তানদের পাতে পড়বে ভাত-ডাল মাছের কারি অথবা ডিম। বাকি দিনগুলিতে ভাত-ডাল কোনদিন আলু পোস্ত অথবা কোনদিন পাঁচমেশালি তরকারি নয়তো আলু-সয়াবিনের তরকারি। থাকবে চাটনিও। পড়াশোনার পাশাপাশি স্কুলের মধ্যাহ্ন ভোজে জোর দিয়েছে সরকার। স্বভাবতই খুশি একাধিক পরিবার। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রী প্রতি যে টাকা বরাদ্দ তাতে কি এতকিছু তুলে দেওয়া সম্ভব প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করেছে স্কুলের অন্দরে।

দীর্ঘ আঠারো বছর আগে সুপ্রিম কোর্টে একটি রায়ে খুশির মুখ দেখেছিল বহু পরিবার। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে রান্না করা খাবার দেওয়ার প্রকল্প চালু করবার ঐতিহাসিক রায় দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমান সময় মিড-ডে মিলের খাবারের মান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যার শেষ নিদর্শন ছিল চুঁচুড়ার বালিকা বাণী মন্দিরের ছাত্রীদের মিড-ডে মিলে নুন-ভাত দেওয়া। খবরে প্রকাশিত হতেই হুলুস্থুলু পড়ে যায়। বুধবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দীঘায় প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয় নির্দেশ দেন। বদলে যায় মিড-ডে মিলের মেনু। সপ্তাহে দু’দিন মেনুতে রাখতেই হবে মাছ অথবা ডিম। বাকি দিন সবজি এবং আলু-পোস্ত সঙ্গে চাটনি। চওড়া হয়েছে খুদেদের মুখে হাসি। কিন্তু চার টাকা ৪৮ পয়সায় এতকিছু মেনুতে রাখাটা কি সম্ভব !

গ্রামীণ হাওড়ার একাধিক স্কুলে ইতিউতি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শিক্ষকদের কথায়, এমনিতেই মিড-ডে মিলের যা বরাদ্দ তাতে সবজি, সয়াবিন সঙ্গে চাটনি এবং ডিম টা কোনক্রমে দেওয়া যায়। কিন্তু সপ্তাহে দু’দিন মাছ-ডিম এবং আলু-পোস্ত বাধ্যতামূলক হওয়ায় অনেকটাই সংকট বাড়বে। বাজারে মাছের দর কাটা পোনা আড়াইশোর নিচে নেই। বাটা মাছ একশো আশি। সবজিও টোমেটো তিরিশ টাকা কেজি, আমড়া পঞ্চাশ টাকা। পোস্ত হাজার টাকার গায়ে। সব মিলিয়ে হিসাব যা দাঁড়াবে চার টাকা ৪৮ পয়সা উতরে যাবে। তবে শিশুদের মুখ চেয়ে সবটা দেবার চেষ্টায় থাকব। বরাদ্দ বাড়ানো হলে সমস্যার সুরাহা হবে।

জেলার মিড-ডে মিলের অফিসার ইন চার্জ মনমোহন ভট্টাচার্য জানান, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি চার টাকা ৩৫ থেকে চার টাকা ৪৮ পয়সা এবং আপারে ছ’টাকা ৫১ থেকে ছ’টাকা ৭১ করা হয়েছে। মিড-ডে মিলের ক্ষেত্রে অনেক স্কুল ভালো ভালো খাবার দিচ্ছেন। কোন কোন জায়গায় সমস্যা হচ্ছে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমরা যাচ্ছি স্কুলে ভিজিটে। প্রতিটি স্কুলে বলা আছে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের জানানো হচ্ছে। যে সমস্ত স্কুলে জায়গা আছে সবজি বাগান করবার কথাও বলা হচ্ছে। হাওড়ায় সমস্ত স্কুল ঠিক মতন খাবার দিচ্ছে। কোনও অভিযোগ আসেনি। যদি কোন অসুবিধা হয় তাঁদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষকের কথায়,”ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মিড-ডে মিল চালু হওয়ায় পড়ুয়ার সংখ্যা বেড়েছে। তবে আস্তে আস্তে খাবারের পুষ্টিকর মান কমতে থেকেছে। আমাদের খারাপ লাগে। চেষ্টা করা হয় অন্তত সপ্তাহে একটা দিন ডিম ও পাঁচমেশালি সবজি দিয়ে ভাত-ডাল দেবার। যতটুকু বরাদ্দ তার বাইরে যাওয়াটা বাগড়া দেয়। এখন দু’দিন মাছ অথবা ডিম পুষ্টি বাড়াবে। সেইসঙ্গে হিসাবটাও মাসের শেষে অনেকটাই বেড়ে যাবে। অন্যদিকে অভিভাবকদের কথায়, “পড়াশোনার পাশাপাশি খাওয়ার উপর নজর দেওয়ায় অবশ্যই ভালো একটা দিক উঠে আসবে। শিশুদের তো আর সয়াবিন-ডাল ভাতে পুষ্টি হয় না। একটু সবজি মাছ বা ডিম সঙ্গে চাটনি থাকলে পুষ্টি বাড়বে। ছেলে পুলেদের খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়বে।”

এছাড়াও চেক করুন

কালীগঞ্জে আলিয়া মাদ্রাসা ভোটে জয়ী তৃণমূল

স্টিং নিউজ সার্ভিস, নদিয়াঃ কালীগঞ্জের জানকিনগর আলিয়া মাদ্রাসার নির্বাচনে নির্বাচনে রবিবার ব্যাপক ভোটে জয়লাভ করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.