Breaking News
Home >> Breaking News >> স্বর্ণ ব্যবসায়ীর গাড়ি গুলি করে আটকে ১১৫০ গ্রাম সোনার গহনা ছিনতাই,পরে উদ্ধার

স্বর্ণ ব্যবসায়ীর গাড়ি গুলি করে আটকে ১১৫০ গ্রাম সোনার গহনা ছিনতাই,পরে উদ্ধার

সমীর রুদ্র,স্টিং নিউজ,চাপড়া: বড়সড় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে গেল নদিয়ার চাপড়ায় এবং ঘন্টা খানেকের প্রচেষ্টায় ছিনতাই হওয়া মাল উদ্ধারও করে ফেলল চাপড়া থানার পুলিশ।

জানা গেছে নৈহাটির বাসিন্দা রাজু ঘোষ মাসখানেক ধরে সোনার গহনার পাইকারি ব্যবসা করেন। ব্যাক্তিগত গাড়ি ভাড়া করে তিনি নদিয়ার করিমপুর, তেহট্ট, চাপড়া সহ বিভিন্ন এলাকার দোকানগুলিতে পাইকারি সোনার গহনার সরবরাহ করতেন পুরনো গহনা অথবা নগদ অর্থের বিনিময়ে।

রাজু ঘোষ জানান, মঙ্গলবারের দিনও একইভাবে বিভিন্ন দোকান থেকে নতুন গহনার পরিবর্তে প্রায় ১১৫০ গ্রাম সোনার পুরনো গহনা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তার এক বন্ধু। সন্ধ্যা ৭:১৫ নাগাদ গাড়ি নিয়ে চাপড়ার ন,মাইলের কাছে পৌঁছাতেই আট থেকে দশ জন সশস্ত্র ছিনতাইকারী তাদের পথ আটকায়। চালক গাড়ি চলে যেতে চাইলে দুষ্কৃতীরা বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। একটি গুলি গাড়ির কাঁচ ভেদ করে চলে যায়। বাধ্য হয়েই গাড়ি থামিয়ে দেন চালক।

এরপর দুষ্কৃতীরা গাড়ি ঘিরে ধরে চালাতে থাকে লুঠপাট। বাধা দিলে কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে তাদের কে রাস্তার পাশের চাষের জমিতে নিয়ে যায়। এরপর গহনা ভর্তি থলে ছিনতাই করে বাইকে চড়ে চম্পট দেয় তারা। গাড়ির চালকেও সঙ্গে করে নিয়ে যায়।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে চাপড়া থানার পুলিশ। ছুটে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সহ উচ্চ পদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। এলাকা সরজমিনে ঘুরে দেখেন তারা। শুরু হয় তদন্ত।

ঘন্টাখানেকের প্রচেষ্টায় সাফল্য পায় পুলিশ। সন্দেহজনক দুষ্কৃতীদের খোঁজে এলাকা জুড়ে তল্লাশির পর উদ্ধার হয় ছিনতাই হওয়া গহনা। গ্রেফতার করা হয় ঘটনার সঙ্গে জড়িত হালিম সেখ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে চালককে অপহরণ করা হয়েছে বলে মনে করা হলেও জানা গেছে তিনি পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছেন।

সন্ধ্যা বেলায় কৃষ্ণনগর-করিমপুরের মতো জনবহুল রাজ্য সড়কে এই ধরনের ঘটনা ঘটায় আতঙ্কিত ব্যবসায়ী থেকে নিত্য যাত্রীরা।

ছিনতাই হওয়ার প্রায় সাথে সাথেই আসামি সহ ছিনতাইয়ের মাল উদ্ধার হওয়ায় পুলিশের সাফল্যের সাথে সাথে উঁকি দিচ্ছে কয়েকটি প্রশ্ন..

১.কারা এই ধরনের কাজ করতে পারে সেটা জানা সত্বেও কেন পুলিশ আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি?

২.পুলিশের টহলদারি গাড়ি থাকা সত্বেও আট থেকে দশ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতী কিভাবে একত্রিত হয়ে ছিনতাই করে পালাল?

৩. কাদের ছত্রচ্ছায়ায় দুষ্কৃতীদের এত বাড়বাড়ন্ত ?

৪.জানা গেছে দুষ্কৃতীদের প্রত্যেকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। এত আগ্নেয়াস্ত্র আসছে কোথা থেকে?

৫.পুলিশ কেন বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারে উদ্যোগী হচ্ছে না?

৬.পুলিশি নিষ্ক্রিয়তায় কি দুষ্কৃতীদের সাহস যোগাচ্ছে?
এইসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে পুলিশ কবে সাধারণ মানুষের মনে আস্থা অর্জন করতে পারে সেটাই দেখার।

এছাড়াও চেক করুন

দিনহাটায় খোঁজ মিলল বেআইনি বোমা কারখানার, গ্রেপ্তার ১

মনিরুল হক, স্টিং নিউজ, কোচবিহারঃ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম সহ এক ব্যক্তিকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.