Breaking News
Home >> Breaking News >> পার্শ্ব শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে হাওড়ায় প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী, অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ নিয়ে রথীনকে ভৎসনা

পার্শ্ব শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে হাওড়ায় প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী, অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ নিয়ে রথীনকে ভৎসনা

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া: দু’দিন আগে সল্টলেকে বেতনবৃদ্ধি ও স্থায়ীকরণের দাবীতে আন্দোলনে নেমেছে পার্শ্ব শিক্ষকরা। অন্যদিকে গত শুক্রবার থেকে নদীয়ার কল্যাণী বাস টার্মিনালের কাছে আমরণ অনশনে বসেছেন পার্শ্ব শিক্ষকরা। তাঁদের বক্তব্য, ওই অনশনমঞ্চ ফাঁকা করতে শনিবার সন্ধ্যেবেলা পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ঘটনার ঢেউ ভাগীরথীর পাড়েও পৌঁছেছে। সোমবার হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে এসে মুখ্যমন্ত্রী ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাম জমানাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, প্যারা টিচাররা ২০১২ সাল অবধি মাত্র চার হাজার টাকা বেতন পেতেন। কিন্তু তাঁদের মুখের দিকে তাকিয়ে সেই বেতন দশ হাজার টাকা করা হয়েছে। তারপরও বলছে টাকা বাড়িয়ে দাও। কয়েকটা মানুষের টাকা বাড়িয়ে দাও। নইলে অনশনে বসে পড়ছে। সমস্ত কাজকর্ম ছেড়ে ওঁদের কথা শোনো। তাঁদের সামলানো আমার কাজ নয়। এইসব করতে গিয়ে জনগণের কাজটা হচ্ছে না। সারাক্ষণ কেউ ঝান্ডা নিয়ে বেরিয়ে পড়ছে। কেউ রাস্তায় বসে পড়ছে। বাড়িয়ে দাও, বাড়িয়ে দাও। দাও-দাও আর দাও।

যে সরকার মানবিক হিসাবে বামেদের ছাপান্ন হাজার কোটি টাকা দেনা শোধ করে। তারপরেও ডিএ কিন্তু দিয়েছে। এক তারিখে মাইনে হয়। পে কমিশন যেটা করবে যতটা সম্ভব দেব। ক্লাস করবো না, কাল স্ট্রাইক। পরশু দিন কালো ব্যাজ লাগাবো। বাঃ খুব মজা। ২০১২ সালে মাইনে পেত যা ২০১৮ সালে কত বেড়েছে এরা কি ভেবেছে সব লাফিয়ে লাফিয়ে হবে। টাকা কোথা থেকে আসবে। আমি টিচারদের সম্মান করি। তাঁরা জগৎ গড়ে। একটা টিচার যদি বলে স্ট্রাইক করবো, আন্দলনে যাব। কালো ব্যাজ পড়বো। বাচ্চারা কি শিখবে তাঁর কাছ থেকে। সর্বশিক্ষা অভিযান সরকার তো বলেনি টাকা দেবে না। কেন্দ্রীয় সরকার সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা দেয়নি। তাহলে সর্বশিক্ষা অভিযানে টিচারদের টাকা কোথা থেকে দেব! সতেরো হাজার কোটি টাকা আমরা সর্বশিক্ষা অভিযানে খরচ করেছি। যেটা কেন্দ্রীয় সরকারের দেবার কথা ছিল।

এই মন্তব্যের পাশাপাশি হাওড়া শহরের একাধিক সমস্যা নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি হাওড়ার বৈঠকে যোগ দিতে আসার আগে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শনে যান। সেই বস্তি পরিদর্শনের পর রেগে যান মুখ্যমন্ত্রী। যার ক্ষোভ তিনি উগরে দেন প্রশাসনিক বৈঠকে। প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি প্রশ্ন করেন, শহরের বস্তি গুলির এখনো পর্যন্ত কেন উন্নয়ন সম্পন্ন হয়নি। পানীয় জল থেকে শুরু করে নিকাশি এমনকি শৌচাগারের ব্যবস্থা বেহাল। অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান চাই। চারশো পরিবারের জন্য মাত্র দু’টি শৌচাগার কেন? ওই বস্তিতে বসবাস করেন প্রায় চারশোটি পরিবার। বেশিরভাগ হিন্দি ভাষাভাষী। রয়েছেন বাপ-জেঠাদের আমল থেকে। ওঁদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগার নেই। যদিও ওই ওয়ার্ডের মহিলা তৃণমূল প্রেসিন্ডেন্ট লিলু সিং ওই বস্তিতে দাঁড়িয়ে বলেন, এখানে অনেক কাজ হয়েছে। অরূপ রায় প্রচুর কাজ করেছেন। দাদাকে ডাকলে, কোন কাজের কথা বললে হয়ে যায়। ওখানে শৌচাগারের অভিযোগ বিষয় বলেন, দু বছর আগে শৌচাগার করা হয়েছিল। আলো ও জলের ব্যবস্থা করেছি। এলাকায় দিদি হঠাৎ চলে আসেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। একজন অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার জন্য ফোন নম্বর নিয়ে যান।

প্রশাসনিক সভায়, ওলা বিবি তলায় পাম্পিং স্টেশন-এর কথা নিয়ে হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তী কে ভৎসনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। অরূপ রায় কেও কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। প্রসঙ্গত হাওড়া পুরসভায় অস্থায়ী কর্মীদের কাজ নিয়ে আন্দোলন চলছে। এ বিষয় অর্থ দপ্তরের অনুমতি ছাড়া পুরো এলাকায় কেন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হল জিজ্ঞাসা করে হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন মেয়র কে ভৎসনা করেন তিনি। এরপরই রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে তিনি কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, হাওড়া পুরসভার অডিট অবিলম্বে করতে হবে। অর্থ দপ্তরের অনুমতি ছাড়া কেউ যদি কোন কাজ করে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে।

হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকের পর তিন দিনের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সফরে দীঘার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

এছাড়াও চেক করুন

দিনহাটায় খোঁজ মিলল বেআইনি বোমা কারখানার, গ্রেপ্তার ১

মনিরুল হক, স্টিং নিউজ, কোচবিহারঃ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম সহ এক ব্যক্তিকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.