Breaking News
Home >> Breaking News >> পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়াতে স্বাধীনতা দিবসে জনসংযোগে প্রধান শিক্ষক

পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়াতে স্বাধীনতা দিবসে জনসংযোগে প্রধান শিক্ষক

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া: শতাব্দী প্রাচীন স্কুল। মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পড়ুয়ারা পড়াশোনা করে। ২০১৭ সালে ছিল ৬৩ জন ছাত্র-ছাত্রী। ২০১৮ তে ৫৪। ২০১৯ এ ঠেকেছে ৪৫ জন ছাত্র-ছাত্রী-তে। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী এক শিক্ষক মিলিয়ে কোনক্রমে খড়দহ মোক্তব প্রাথমিক বিদ্যালয় টি চালিয়ে নিয়ে চলেছেন। কিন্তু কতদিন ? পড়ুয়ার সংখ্যা ২০-র কম থাকলে স্কুল বন্ধ হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে ! অন্তত (নং ৮৯৪-এসই/ইই/১০ এম-৭০/২০১৮) বিজ্ঞপ্তি এমনটাই জানাচ্ছে। স্কুল চালিয়ে নিয়ে যেতে নাছোড় প্রধান শিক্ষক স্বাধীনতা দিবসের দিন এলাকার একটি সংগঠন ও এলাকাবাসীদের নিয়ে জনসংযোগের বার্তা দিল।

খড়দহ মোক্তব প্রাথমিক বিদ্যালয় মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনা করে। ঘর রয়েছে চারটি। দেওয়া হয় মিড-ডে-মিল। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের অভাবে স্কুলটি ধুঁকছে। প্রধান শিক্ষক ছাড়া রয়েছেন একজন সহকারী শিক্ষক। বয়সের ভার নিয়ে টালিগঞ্জ থেকে যাতায়াত করেন। ছাত্র-ছাত্রী কম হওয়ায় শিক্ষকের আবেদন জানিয়েও মিলছে না শিক্ষক। এই অবস্থায় কোনক্রমে চলছে সংখ্যালঘু এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। বাধ্য হয়ে স্বাধীনতা দিবসের দিন জনসংযোগ বাড়ানোর চেষ্টায় নামলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর দে। এলাকার সংগঠন ‘খড়দহ নিউ এজ সোসাইটি’ সদস্যদের স্কুলে আমন্ত্রণ জানানো হয়। পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে স্কুলে জনসংযোগ বাড়ানোর প্রচেষ্টা শুরু হয়। পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়। শ্রেণি কক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে “জল অপচয় ও ডেঙ্গু রোধের” সচেতনতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এলাকার পাড়ায় পাড়ায় পদযাত্রা করে পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা পাবার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়। এমন উদ্যোগে অংশ নেয় এলাকার মানুষজনও।

ছাত্র-ছাত্রী কমে যাওয়া নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর দে জানান, এলাকায় আরও দুটি স্কুল রয়েছে। সেখানে সব ধর্মের ছেলে-মেয়ে পড়াশোনা করে। কিন্তু এটি সংখ্যালঘু স্কুল। মূলত সংখ্যালঘু ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবার চায় তাঁদের সন্তান ভালো শিক্ষা পাক। যে কারণে ইংরেজি স্কুলে পাঠাচ্ছে। ঢালাই রাস্তার জন্য ছোট গাড়ি করে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে চলে যাচ্ছে ওই সমস্ত স্কুলে। মিড-ডে-মিল দেওয়া হয়। তবে যেদিন কম ছাত্র-ছাত্রী আসে শুকনো খাবার দিয়ে দেওয়া হয়। আসলে যে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী বেশি সেখানে খাবারে মান ভালো হবে এটাই বাস্তব। শিক্ষকের আবেদন জানিয়েও এখনও সাড়া মেলেনি। এক’শ দশ বছরের স্কুল। এভাবে ছাত্র-ছাত্রী কমতে থাকায় কষ্ট হয়। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৪ অবধি আমি একা ছিলাম। পরে ২০০৪ সালে একজন আসেন। তিনি ৪৬ বছর বয়সে এই স্কুলে চাকরিতে যোগ দেন। ওঁনার হার্টের সমস্যা রয়েছে। তবুও টালিগঞ্জ থেকে রোজ আসেন। সামনের অক্টোবর মাসে উনি রিটায়ার্ড করবেন। তারপর আমি একা হয়ে যাব। এখন তো যেখানে খাওয়া-দাওয়া ভালো সেখানেই অভিভাবক ছেলেদের পাঠাবে। তাঁদের কাছে পড়াশোনা গণ্য নয়। খাওয়া ছেলেটা মানুষ হবে এটাই বড় কথা। কষ্ট লাগে এভাবে বলতে। স্কুলের প্রতি ভালোবাসা জন্মে গিয়েছে। কষ্ট হয় এই ভেবে যদি স্কুলটি ছাত্র-ছাত্রীর অভাবে বন্ধ হয়ে যায় ! সে কারণে স্বাধীনতা দিবসের দিনে ‘খড়দহ নিউ এজ সোসাইটি’ সদস্যদের স্কুলে আমন্ত্রণ জানাই। অভিভাবকদেরও আসতে বলি।

৭৩ তম স্বাধীনতা দিবসের দিনে ‘খড়দহ নিউ এজ সোসাইটি’ সদস্য শ্রেয়া, সায়নি, তনুশ্রী, অনুশ্রী, স্বস্তিকা জামিলা ও সুস্মিতা এবং মলয়, পলাশ, সৌরভ, সায়ন প্রত্যেক সদস্য গ্রামের স্কুলের প্রতি নিজেদের আকুলতা আলোচনায় তুলে ধরে। ওঁদের কথায়, গ্রামের সবচেয়ে পুরনো এই বিদ্যালয়ে কেবলমাত্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়ে পড়াশোনা করে। কিন্তু বর্তমানে মাত্র গুটিকয়েক ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ে ছাত্রহ্রাস বড় সমস্যা বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর দে মহাশয়। আশে পাশে বেসরকারী স্কুলে ছেলেমেয়েরা চলে যাচ্ছে। তাই বিদ্যালয়ে বিশেষ কর্মকান্ড বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগী হয়েছেন স্যার। খড়দহ নিউ এজ সোসাইটির সদস্যরাও স্যারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছে। সেই উপলক্ষে স্বাধীনতা দিবসের উৎযাপনের পরে বিশেষ পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়। এলাকার পাড়ায় পাড়ায় পদযাত্রা করে বোঝানো হয় পরিবেশ দূষণের নানা কথা। শ্রেণি কক্ষে “জল অপচয় ও ডেঙ্গু রোধের জন্য সচেতনতা” আলোচনা করা হয়।

আয়মাদার পাড়ার বাসিন্দারা বলেন, ‘‘ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা শেখাতে চাই। কিন্তু শিক্ষক না থাকায় পড়াশোনা কতটা হবে এটাও তো ভাবতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক ছাড়া অন্য একজন শিক্ষক আসেন দূর থেকে। মাস দুয়েক পর তিনিও রিটায়ার্ড হবেন তারপর একজন শুধু প্রধান শিক্ষক। স্কুল দফতর নজর দিচ্ছে না। বাধ্য হচ্ছি ছেলেদের অন্য স্কুলে ভর্তি করতে। তবে স্বাধীনতা দিবসে এমন সমৃদ্ধ আলোচনা শুনে আমরা সবাই স্কুলের প্রতি দায়িত্ব পালন করব। ছেলেদের ওই স্কুলে পাঠাবার চিন্তাভাবনা শুরু হবে।

এছাড়াও চেক করুন

কালীগঞ্জে আলিয়া মাদ্রাসা ভোটে জয়ী তৃণমূল

স্টিং নিউজ সার্ভিস, নদিয়াঃ কালীগঞ্জের জানকিনগর আলিয়া মাদ্রাসার নির্বাচনে নির্বাচনে রবিবার ব্যাপক ভোটে জয়লাভ করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.