Breaking News
Home >> খেলাধূলা >> গুসকরায় দৃষ্টিহীন ফুটবলারদের খেলায় মাতলেন ফুটবল প্রেমীরা

গুসকরায় দৃষ্টিহীন ফুটবলারদের খেলায় মাতলেন ফুটবল প্রেমীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, আউশগ্রাম: গুসকরায় দৃষ্টিহীন ফুটবলারদের খেলায় মাতলেন ফুটবল প্রেমীরা। বৃহস্পতিবার গুসকরা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে আমরা সবুজের পরিচালনায় একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। সেখানেই প্রীতি ম্যাচ হিসাবে দৃষ্টিহীন ফুটবলারদের খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। স্বভাবতই দৃষ্টিহীন মানুষরা কিভাবে ফুটবল খেলেন এনিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। গুসকরা কলেজ মাঠে যা দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার ফুটবল প্রেমী।
স্থানীয়সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের দিন উদ‍্যোগক্তাদের পক্ষ থেকে একটি বড় করে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। আর এই খেলায় প্রতিবছরই থাকে নতুন কিছু চমক। আগে যেমন খেলে গিয়েছেন আলিপুর সংশোধনাগারের যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা পাশাপাশি মহিলাদের ফুটবল ম‍্যাচও হয়েছে। এবার উদ্যোক্তাদের নয়া চমক দৃষ্টিহীনদের ফুটবল ম্যাচ। যা এদিন তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেন এলাকার অগণিত মানুষ।
জানা গিয়েছে, দৃষ্টিহীনদের খেলাটিতে পাঁচজন করে খেলোয়াড় দুটি দলে ভাগ হয়ে খেলায় অংশ নেয়। দৃষ্টিহীন খেলোয়াড়দের খেলার সময় চোখে পটি বেঁধে দেওয়া হয়। তবে পাঁচজনের দলে থাকা গোলকিপার অবশ্য স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ছিলেন। তাছাড়া খেলায় স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন রেফারির পাশাপাশি ছিল গোলগার্ড ও সাইটগার্ড। গোলগার্ড ও সাইটগার্ডরা মাঠের সীমানা জানানোর পাশাপাশি গোলের অবস্থান খেলোয়াড়দের যথা সময়ে জানিয়ে দিচ্ছিলেন। তবে খেলোয়াড়রা যাতে বলের অবস্থান বুঝতে পারেন সেজন‍্য বলের ভিতরে ভরা ছিল ঝুমঝুমি। তারা একে অপরের মধ্যে যাতে ধাক্কা না খায় ও নিজ দলের খেলোয়াড়দের অবস্থান বুঝতে মুখে সাংকেতিক আওয়াজ করে। ৪০ মিটার লম্বা ও ২০ মিটার চাওড়া মাঠে তারা অনায়াসেই ফুটবল খেলছিলেন। দেখে কোনও মতেই বোঝার উপায় নেই, যে তারা দৃষ্টিহীন। তবে খেলোয়াড়রা সকলেই পড়ুয়া বলে জানা গিয়েছে। তাদের মধ‍্যে কেউ রবীন্দ্রভারতী ইউনিভার্সিটি থেকে এমএ করছেন। আবার কেউ যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে এনফিল করছেন। এরা সকলেই কলকাতার ‘ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ব্লাইন্ড অফ বেঙ্গল’ সংস্থার খেলোয়াড়।

সংস্থার সভাপতি মাধাই কুণ্ডু বলেন, আমরা রাজ‍্যের একমাত্র সরকার অনুমোদিত সংস্থা যারা দৃষ্টিহীনদের ফুটবল খেলার প্রশিক্ষণ দিই। কয়েক মাস আগে ব্যাঙ্গালোরে ন্যাশনাল টুর্নামেন্টে আমাদের দল অংশ নেয়। তাছাড়া জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির সিলেকশনের জন্য আমাদের দলের তিনজন খেলোয়াড় ডাক পেয়েছেন। তবে দৃষ্টিহীনদের খেলার অনেক পরিকাঠামোই আমাদের নেই। তারজন‍্য চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেজন‍্য আমরা সরকারি সাহায্যেরও আশায় রয়েছি।
গুসকরা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত খেলায় উপস্থিত ছিলেন আউশগ্রামের বিধায়ক অভেদানন্দ থাণ্ডার, ভাতারের বিধায়ক সুভাষ মণ্ডল, গুসকরার বিদায়ী চেয়ারম‍্যান বুর্দ্ধেন্দু রায়, শহর তৃণমূলের সভাপতি কুশল মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। তবে নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টটিতে মোট ৮ টি দল অংশ নেয়। ফাইনাল খেলায়, বর্ধমান রাজ নন্দিনী দলের মুখোমুখি হয় এসএস কনস্ট্রাকশন। টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে জয়ী হয় বর্ধমান রাজনন্দিনী। খেলায় বিজয়ী দলকে ৮০ হাজার টাকা ও ট্রফি আর বিজিত দলকে ৬০ হাজার টাকা ও ট্রফি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।

এছাড়াও চেক করুন

সারা বাংলা যোগাসন প্রতিযোগিতায় কোচবিহারের ৬ প্রতিযোগী

মনিরুল হক, কোচবিহারঃ সারা বাংলা যোগাসন প্রতিযোগিতা ২০১৮ তে অংশ নিল কোচবিহারের মহামায়া পাট ব্যায়াম …

Leave a Reply

Your email address will not be published.