Breaking News
Home >> Breaking News >> বাজারে ইলিশের দাম ও কাঁচা লঙ্কার ঝাঁজে গেরস্তের চোখে জল

বাজারে ইলিশের দাম ও কাঁচা লঙ্কার ঝাঁজে গেরস্তের চোখে জল

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়াঃ আকাশে বর্ষার মেঘ। বাতাসে বৃষ্টি ভেজা গন্ধ। আষাঢ়ের শেষ লগ্নে এমন দৃশ্যটা স্বাভাবিক। কিন্তু এখনও সেই অর্থে বৃষ্টির দেখা নেই। ফলে রবিবাসরীয় বাজারে ইলিশের ভাটা। যে কটা মিলছে দাম শুনে ক্রেতাদের মুখ ভার। বাধ্য হয়ে রুই, কাতলা, চিংড়ি নিয়ে ঘরমুখো বাঙালি। আষাঢ়ের শুরুতেই যেখানে ইলিশে বাজার ছেয়ে যায় কিন্তু মাস শেষেও ইলিশের দেখা না পেয়ে বাঙালির স্বাদে রসনার টান।

সাঁকরাইল, রানিহাটি, উলুবেড়িয়া ও বাগনান মূলত এই চার জায়গা দিয়ে গ্রামীণ হাওড়ার সমস্ত বাজারে ইলিশের জোগান দেওয়া হয়। কিন্তু আড়তে ইলিশের গাড়ি আসছে না। যে ক’টা গাড়ি এসে পৌঁছাচ্ছে তা মুহুর্তে শেষ। দরদাম না করেই কারবারিরা কিনে নিচ্ছে। আড়ত থেকে হাত ফেরত হয়ে ছোট বাজারে পৌঁছাচ্ছে ছ’শোর গন্ডি টপকে। ৪০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ ছ’শো টাকায় কিনতে বেজার মুখ। বর্ষার সময় ৩০০-৪০০ গ্রাম সাইজের ইলিশের দাম থাকে আড়াইশো তিনশোর মধ্যে। এই সময় ইলিশের দাম বেশি থাকায় কেনার আগ্রহ থাকলেও কড়কড়ে নোট বের করতেই গায়ে ফোসকা পড়বার জোগাড়।

বাগনান এলাকার শিক্ষক সুজিত কুমার মন্ডলের আক্ষেপ, পাঁচশো গ্রাম সাইজের ইলিশ সাড়ে পাঁচশো টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগে পরিচিতদের মুখে শুনেছি রূপনারায়নে ধরা ইলিশ এই বাগনান বাজারে জলের দরে বিক্রি হতো। যদিও সেসব এখন ইতিহাস। তবুও দামটা নাগালের মধ্যে থাকলে ভোজনরসিক বাঙালির রসনা তৃপ্তি ঘটবে। হয়তো শ্রাবণ আসলে ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে ইলিশ ধরা পড়বে। বাজারে চাহিদা মিটবে। ফুলেশ্বর এলাকার কৃষ্ণেন্দু অধিকারীর কথায়, রবিবার সাত সকালে উলুবেড়িয়া লকগেট সংলগ্ন এলাকায় চার-পাঁচশো সাইজের ইলিশ মাছ বিক্রি হয়েছে পাঁচশো টাকা দরে। ইচ্ছা জাগলেও দামের চোটে কাটাপোনা মাছ কিনে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

রানিহাটি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জানা গেছে, ইলিশের জোগান না থাকায় বাজারে চাহিদা রয়েছে। ভরা শ্রাবণে কাকদ্বীপ, নামখানা, দীঘার মোহনা হয়ে ট্রাক ভড়ে ইলিশ আড়তে চলে আসবে। তারজন্য ইলিশ প্রিয় বাঙালিকে আর কয়েকটা সপ্তাহ অপেক্ষা করতেই হবে।

ইলিশের পাশাপাশি ঝাঁজে গেরস্তের চোখে জল এনে দিচ্ছে কাঁচা লঙ্কা। রবিবার খোলা বাজারে কাঁচা লঙ্কা কুড়ি টাকা শ দরে বিক্রি হয়েছে। খাবার আগেই দামের চোটে চোখে জল এসে যাবার জোগাড়। এক মাসে হুহু করে দাম বাড়ছে। খুচরো বিক্রেতাদের কথায়, ধূলাগোড় পাইকারি বাজার থেকে কাঁচা লঙ্কা কিনতে হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে। খোলা বাজারে কুড়ি টাকা শ দরে না বিক্রি করলে খরচা উঠবে কিভাবে।

রবিবারের দুপুরে ভোজনরসিক বাঙালির পাতে ইলিশের ভাপা অথবা শিলনোড়ায় বাটা সরষে-কাঁচা লঙ্কা দিয়ে রাঁধা ইলিশের স্বাদ আপাতত কয়েক সপ্তাহের অপেক্ষা।

এছাড়াও চেক করুন

হিংস্র প্রাণী না থাকায় সার্কাসে দর্শক বিমুখ, গ্রামীণ মেলায় উপচে পড়ছে ভিড়

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ ডিসেম্বর মাস আসলেই গ্রাম বাংলায় সার্কাসের তাঁবু বসতো। বাঘ-সিংহ, বিদেশি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.