Breaking News
Home >> Breaking News >> নির্মল হোক গ্রাম, সমীক্ষায় বাড়ি বাড়ি গেল খুদে পড়ুয়ারা

নির্মল হোক গ্রাম, সমীক্ষায় বাড়ি বাড়ি গেল খুদে পড়ুয়ারা

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া: বাড়িতে ময়লা জমতে দেবেন না। পরিষ্কার করবেন নর্দমা। সপ্তাহে একদিন ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে দেবেন। জমা জল দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দেবেন। প্ল্যাস্টিক ব্যবহার কমাবেন। ফাঁকা জায়গায় গাছ বসাবেন। বাড়িতে শৌচাগারে শৌচকর্ম করবেন। মাঠে ঘাটে কখনোই নয়। আমতা সিরাজবাটী চক্রের অন্তর্গত মধ্যকুল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে পড়ুয়ারা এভাবেই ঘরে-ঘরে পৌঁছে ডেঙ্গু মুক্ত সমাজ এবং সবুজ ও নির্মল হোক গ্রাম এই লক্ষ্যে গ্রামবাসীদের সচেতন করল।

বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাঠ নেওয়া ছাত্রছাত্রীরা শুক্রবার নীল সাদা জামা পড়ে বোর্ডে লাগানো কাগজ ও পেন হাতে গ্রামের ঘরে পৌঁছে যেতেই চমকে গেছে গ্রামবাসীরা। সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মীরা সচেতন করতে আসে। কিন্তু শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীরা এভাবে সচেতন করতে টালির ছাউনি ঘরে চলে আসবে যেন ভাবতেই পারছে না রূপা দলুই, সম্পা পাঁজা, রীতা মিদ্যার মতো গৃহবধূরা। জনা দশেক খুদে পড়ুয়া যখন বোঝাচ্ছে। অন্যদল বৃষ্টিতে ভেজা পথ ধরে খড়ের গাদার পাশ দিয়ে রঘুনাথ কাঁড়ার, রণতোষ সাঁতরা দের ঘরের সামনে বোঝাতে শুরু করে দিয়েছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিপক মল্লিক বলেন, ২০১৮ সালে মধ্যকুল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জল সংরক্ষণ নিয়ে একটি শিবির অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গ্রামবাসীদের সামনে একাধিক বিষয় আলোচনা হয়। সেইমত আমাদের কাছে একটা পরিকল্পনা ছিল। তারপর সিরাজবাটী চক্রের এস.আই দীপঙ্কর কোলে আমাদের জানানোয় আমি ও শিক্ষক দিব্যেন্দু পাত্র এবং শিক্ষিকা ঝুম্পা দাস সঙ্গে জনা সতেরো ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে মধ্যকুল গ্রামে সমীক্ষা চালাই। উঠে আসে একাধিক চিত্র। গ্রামের মানুষজন ধান সিদ্ধ করবার জন্য ডাবায় জল জমিয়ে রেখেছিল। তাতে মশা ডিম পেড়েছে। ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ডেঙ্গুর কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে সেই জল ফেলে দেয়। দেখা গেছে বেশকিছু গ্রামবাসী শৌচাগার থাকা স্বত্বেও মাঠে ঘাটে শৌচকর্ম করেন। গ্রামের মানুষকে মাঠে ঘাটে শৌচকর্ম না করতে বোঝানো হয়। পাশাপাশি গাছ লাগানোর উপকারিতা বোঝানো হয়। আমাদের সঙ্গে থাকা স্বাস্থ্যকর্মী মলিনা মণ্ডলের হাতে ছাত্রছাত্রীদের হাতে থাকা নথি তুলে দেওয়া হয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ, জল সংরক্ষণ এবং গাছ বসাবার জন্য স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে গ্রাম সমীক্ষা করানো কে সাধুবাদ জানিয়েছেন আমতা ১নং বিডিও লোকনাথ সরকার। তিনি বলেন, স্কুলের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ অবশ্যই সাধুবাদ যোগ্য। আমরা গ্রামবাসীদের মধ্যে ডেঙ্গু বিষয় সচেতনতা মূলক প্রচার করছি। গ্রামের মানুষদের শৌচাগার তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এরপরেও মাঠে ঘাটে শৌচকর্ম করাটা উচিৎ নয়। আমরা খোঁজখবর নেব।

‘জল দিবস’ উপলক্ষ্যে শুক্রবার কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী পথে নামেন। পায়ে হেঁটে জোড়াসাঁকো থেকে গাঁধী মূর্তির পাদদেশ অবধি মিছিল করেন। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ওই দিনটিতে আমতা ১নং ব্লকের সিরাজবাটী চক্রে তিরিশটির উপর বাড়িতে খুদেরা সমীক্ষা করে। স্কুলের নীল সাদা পোশাক পড়ে হাতে পেন নিয়ে পরিপাটি করে খাতায় লিখে স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে তুলে দেন কাগজ। এমন দৃশ্য চোখে লেগেছে কলেজ পড়ুয়া যুবক প্রীতম কোলে। এই ধরণের সমীক্ষার ফলে ছোট থেকে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে উঠবে। পাশাপাশি গ্রামের মানুষদের কাছে এক অভিনব বার্তা দিয়ে গেল খুদে পড়ুয়াগুলো। সচেতন হলে সবার পক্ষে উপকার।

এছাড়াও চেক করুন

জেলাশাসকের দপ্তরে সামনে ৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভ গ্রামীন সম্পদ কর্মীদের

নরেশ ভকত, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, বাঁকুড়াঃ আজ দুপুরে বাঁকুড়া হিন্দুহাই স্কুলে জমায়েত হয়ে বাঁকুড়া শহর …

Leave a Reply

Your email address will not be published.