Breaking News
Home >> Breaking News >> নাইলনের মরণফাঁদে ছটফট করছে মাছরাঙা, গলা জলে নেমে উদ্ধারে পরিবেশকর্মী

নাইলনের মরণফাঁদে ছটফট করছে মাছরাঙা, গলা জলে নেমে উদ্ধারে পরিবেশকর্মী

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া: পুকুরের মাছ বাঁচাতে বিভিন্ন ধরণের পন্থা নিচ্ছে মাছ চাষিরা। লোহার খাঁচা পেতে ধরা হচ্ছে বাঘরোল। মাছরাঙা আটকাতে পুকুরের উপর নাইলনের সুতোর মরণফাঁদ বিছানো হচ্ছে। এর ফলে বিপন্ন হয়ে পড়ছে মাছকে খাদ্য রূপে তালিকায় রাখা মাছরাঙা, পানকৌড়ি। উলুবেড়িয়া এলাকার একটি পুকুরে সরু নাইলনের সুতোর মরণফাঁদে আটকে প্রাণ যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল মাছরাঙার। গলা জলে নেমে পরিবেশকর্মী অর্পণ দাসের চেষ্টায় প্রাণ ফিরে পায় মাছরাঙাটি।

শ্যামপুর সিদ্ধেশ্বরী মহাবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা পরিবেশকর্মী অর্পণ দাস পশুপাখি বাঁচাতে দীর্ঘদিন লড়াই চালাচ্ছেন। এলাকার পরিবেশ রক্ষা করতে ও বিপন্ন প্রজাতির বাঘরোল, কচ্ছপ কোথাও মেরেছে বা ধরেছে শুনলে বাইক নিয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে যায়। তাদের উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া বন দফতরের হাতে তুলে না দেওয়া অবধি অর্পণ এলাকা ছাড়ে না। বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিচিত আত্মীয়কে লেবু গাছ দিতে ভাগনা কে সঙ্গে করে রওনা দিয়েছিল উলুবেড়িয়া। খবর পায় দক্ষিণ-পূর্ব রেলের উলুবেড়িয়া পূর্ব কেবিনের পাশের পুকুরের মাঝখানে সরু নাইলনের মরণফাঁদে আটকে জীবন যন্ত্রণায় ছটফট করছে একটি মাছরাঙা। পশুপাখিদের রক্ষা করা যার লক্ষ্য কয়েক মুহূর্তে ঠিক করে নেয় কিভাবে উদ্ধার করতে হবে।

অর্পণ দাসের কথায়, গ্রামীণ মানুষকে বোঝাতে চেষ্টার কসুর করিনি তবুও মাছ বাঁচাতে মাছরাঙা ও পানকৌড়ি দের জীবন শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। কিছুটা দূরে শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রী তানিয়াকে বিষয়টি জানাই। ওর হাতে প্যান্ট-জামা দিয়ে নেমে পরি পুকুরে। গভীর পুকুরে প্রায় পঞ্চাশ ফুট দূরে জালে জড়িয়ে মাছ রাঙাটি ঝুলছে। অনেকটা সময় ডানা ঝাপটে রক্ষা পাবার চেষ্টায় নাইলন জালের ফাঁসে গলা ও ডানা পেঁচিয়ে গিয়েছিল। গলা ডোবা জলে সাঁতার দিয়ে কোনক্রমে ডাঙ্গায় তুলে আনি। তানিয়া পাল আমি ও ভাগনা দেবমান্য মিলে জাল কেটে রক্ষা করি। কিন্তু উড়তে পাচ্ছিল না। মিনিট দশেক পর ধীরে ধীরে উড়ে যায় মাছরাঙাটি।

উলুবেড়িয়া লতিবপুর এলাকার ওই পুকুরের মালিকের কাছে এ বিষয় প্রশ্ন করা হলে, উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন। গ্রামীণ মাছ চাষিদের কথায়, পুকুরের মাছ খেয়ে নেয় মাছরাঙা। রক্ষার জন্য নাইলনের জাল পাতা হয়েছে। মাছ রক্ষায় বিকল্প রাস্তা না থাকায় এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছি। আমতা ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকান্ত পাল বলেন, গ্রামের দিকে পুকুরে নাইলনের জাল পাতার একটা প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সচেতন করবার প্রয়াস নিয়েছি। যে পুকুরে জাল লাগানো আছে দরকার হলে আমরা পুকুর মালিকদের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলবো। পশুপাখিদের বাঁচাতে সচেতনতামূলক প্রচার করা হয়। সামনের দিনে চেষ্টা করা হবে বন দফতর ও মাছ চাষিদের নিয়ে আলচনামূলক প্রোগ্রাম করবার।

নাইলনের জাল পুকুরে লাগানো বন্ধ করতে বন দফতর কি কোন ব্যবস্থা নিয়েছে ? এ বিষয় উলুবেড়িয়া বন দফতরের রেঞ্জ অফিসার উৎপল সরকার বলেন, গ্রামীণ এলাকায় মাছ বাঁচাতে নাইলনের সুতো লাগানোর প্রয়াস বেড়েছে। পশুপাখি যদি ওই মরনফাঁদে মারা যায় বা জীবন যাবার সম্ভাবনা থাকে সেক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতেই পারে। তবে আমরা সচেতনতামূলক প্রচার করছি। মাছ রক্ষায় পুকুরে নাইলনের জাল পাতা যাবে না। কোন প্রকার পশুপাখির ক্ষতি না হয় এটা সবাইকে মাথায় রাখতে হবে। নাইলনের বদলে কাপড় টাঙানো যেতে পারে।

এছাড়াও চেক করুন

খড়্গপুরে দিনেদুপুরে টাকা ছিনতাই, চলল গুলি,আহত ১

স্টিং নিউজ সার্ভিস,পশ্চিম মেদিনীপুর: ফের দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে গুলি চলল খড়গপুরের রাস্তায়। ছোঁড়া হল বোমাও। পায়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.