Breaking News
Home >> Breaking News >> ভোটের আগে কৃষক প্রীতি, পূর্ণাঙ্গ বাজেটে উপহাস! ক্ষোভের মেঘ জমছে

ভোটের আগে কৃষক প্রীতি, পূর্ণাঙ্গ বাজেটে উপহাস! ক্ষোভের মেঘ জমছে

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া ঃবাজেট আসে বাজেট যায় কৃষকদের কথা নেতাদের কান অবধি পৌঁছায় না। জীবনের কষ্টের কথা ও কাহিনী থেকে যায় সেই তিমিরেই। দেশের পাশাপাশি বাংলার কৃষকদের জন্য জীবন সুরক্ষার কোনও আদর্শ দিক কেন্দ্রের সরকার এবারের বাজেট পেশে তুলে ধরলো না। এখানেই কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চয় হতে শুরু করেছে।

লোকসভা ভোটের আগে বামেরা সিঙ্গুর থেকে রাজভবন অবধি কৃষকদের নিয়ে পায়ে হেঁটেছিল। হাজারো কৃষকের পায়ের ছাপ পড়েছিল রাজপথে। দাবি ছিল শিল্পায়ন ও ফেরত পাওয়া জমি চাষযোগ্য করে তোলা। তার আগে মহারাষ্ট্রে ‘কিসান লং মার্চে’ হয়। মহারাষ্ট্রে কৃষকেরা একটানা ১৮০ কিলোমিটার হেঁটেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে কৃষকরা থেকে গেছেন সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে দূরে। কথা হচ্ছিল সোনাতলা এলাকার প্রাক্তন শিক্ষক তথা বামপন্থী নেতা অশোক অধিকারীর সঙ্গে। তিনি আরও বলেন,

দেশজুড়ে কৃষকরা ঘোর সংকটে। প্রবল ক্ষমতা নিয়ে দিল্লিতে দ্বিতীয় বার সরকার গঠন হলেও কৃষকদের অসন্তোষ তুষে চাপা রয়েছে। আবারও লং মার্চ হবে। এবার আরও জোড়ালো। সারা ভারত কৃষকসভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা আগামীদিনে কৃষকদের দুরাবস্থা নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।

আমতা ১ ও ২নং ব্লকের কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে পুরোদমে কৃষি কাজ হয়। এই সময় বীজতলা বোনা শেষ পর্যায়ে। বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হলেও বর্ষার একনাগাড়ে বৃষ্টি’র দেখা নেই। বিনলা এলাকার কৃষক অনন্ত রীত জানান, কৃষকদের ভোটে নেতারা জিতে আসেন। তারপর বাকি পাঁচ বছর আর কোন খোঁজ খবর নেয় না।

বীজতলা ফেলতে ধান কেজি প্রতি নব্বই টাকা দরে কিনতে হয়েছে। সঙ্গে দেওয়া সারের দাম দিনদিন বেড়েই চলেছে। কৃষকদের কথা কেউ শোনে না। পুস্পেন সাহা’র কথায়, সংসদে যারা পৌঁছে যায় মাটি কাদা মাখা কৃষকদের কি মনে রাখবে! ভোট আসলে ছবি তুলতে আসে। তারপর যেই কে সেই। হাজার হাজার বিঘা জমিতে ধান চাষ হবার সময় এসেছে। বৃষ্টি শুরু হলেই বীজ তুলে রোওয়া শুরু হবে। সারের দাম নাগালে না থাকলে ঋণের ফাঁদে বাধ্য হবে পা ফেলতে। এখানকার সাংসদ তো দিল্লিতে। আমাদের কথা কে শুনবে!

এ বছর সংসদে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। কৃষকদের মূল দাবি ‘কৃষি ঋণ’ বিষয় মুখ খোলেননি। আগামী তিন বছরে কৃষকদের দিশাটুকু দেখিয়েছেন। তাদের আয় বাড়ানোর কথা শুনিয়েছেন। এতেই কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ জমতে শুরু করেছে।

গ্রামীণ এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, পঞ্চায়েত অথবা ব্লক দপ্তর থেকে ধান রোওয়ার সময় যদি সহজ কিস্তিতে আর্থিক সাহায্য করা হয় সেক্ষেত্রে মহাজনের কাছ থেকে ডবল সুদে ঋণ গ্রহণের প্রয়োজন পড়বে না। সময়ে বৃষ্টি হচ্ছে না। চারা বীজ বাঁচাতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। খরচ বেড়েই চলেছে। লাভের লাভ কতটা উঠে আসবে কৃষকরা সন্দিহান। এ বিষয় উলুবেড়িয়া কেন্দ্রের সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

আমতা ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকান্ত পাল বলেন, কৃষকদের জন্য মা মাটি মানুষের সরকার কৃষক দরদি সরকার। তাঁদের সাহায্যের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প রেখেছে। উল্লেখযোগ্য রয়েছে কৃষাণ ক্রেডিট কার্ড। রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে বাংলা ফসল বীমার প্রিমিয়াম। কৃষি জমির মিউটেশন ফ্রি। ফসলের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করে কৃষকদের থেকে সরাসরি ফসল কেনার ব্যবস্থা। সেচ ব্যবস্থার উন্নতিকরণ।

জল ধরো জল ভরো প্রকল্পের মধ্যদিয়ে চাষ যোগ্য জমিতে জলের সমাধান। আধুনিক জাতের ধান ও অন্যান্য বীজ সরবরাহ ও সহায়তা। কৃষকবন্ধু প্রকল্পের মধ্যদিয়ে সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা। এছাড়া কৃষিজীবীদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের কৃষাণমন্ডি ও কৃষক বাজার নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়াও চেক করুন

করিমপুর উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর প্রচারে অভিনেত্রী দেবিকা মুখার্জি ও অভিনেতা সুরজিৎ চৌধুরী

স্টিং নিউজ সার্ভিস, নদিয়াঃ করিমপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদারের সমর্থনে সভা করে গেলেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.