Breaking News
Home >> Breaking News >> জলস্তর কমছে, বাস্তুতন্ত্রে প্রভাব ফেলতে পারে আর্সেনিক, আশঙ্কায় বৃক্ষ রোপনের পক্ষে অধ্যাপক

জলস্তর কমছে, বাস্তুতন্ত্রে প্রভাব ফেলতে পারে আর্সেনিক, আশঙ্কায় বৃক্ষ রোপনের পক্ষে অধ্যাপক

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া: বছরখানেক আগেও হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় যে টিউবওয়েল থেকে পানীয়জল সংগ্রহ করা হতো এবছর সেটা অকেজো। বাড়িতে ব্যবহার করবার দেড়শো ফুট গভীর নলকূপে জলের দেখা নেই। আকাশে মেঘের দেখা মিললেও বৃষ্টি সেই অর্থে হচ্ছে না। বীজতলা জ্বলে যাবার দাখিল। জল-জমি দুই সমস্যায় পড়েছে সাধারণ মানুষ। দেশের একের পর এক রাজ্য জলসঙ্কট এর সম্মুখীন তবে কি এবার এ শহরেও প্রভাব ফেলতে চলেছে!

মন কি বাত দ্বিতীয় পর্বে প্রধানমন্ত্রী জলসঙ্কট নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশজুড়ে জল সংরক্ষণ নিয়ে সচেতনতা তৈরি করুন। জল সংরক্ষণের যে চিরাচরিত পদ্ধতিগুলি রয়েছে সেগুলি নিয়ে তথ্য প্রচার করুন। রেডিওর এ-প্রান্তে থাকা মানুষগুলো নীরব হয়ে সমস্তটা শুনেছে। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জল ধরো জল ভরো প্রকল্প ২০১১-১২ অর্থবর্ষ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু করেছেন। মিলেছেও সাড়া। প্রায় এক লক্ষ পুকুর কাটা হয়েছে। এরফলে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ হচ্ছে ও তার ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন কাজে।

রাজ্যের পাশাপাশি হাওড়া জেলার গ্রামীণ প্রান্ত হোক বা শহর জল ধরে রাখার প্রয়াস অনেকটাই কাজে লেগেছে। তবুও জলের দেদার অপচয় ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষদের। তাঁদের সাফ কথা, দিল্লি, চেন্নাই, হায়দরাবাদ-সহ একাধিক রাজ্যে জলের যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে অদূর ভবিষ্যতে হাওড়া শহরে হবে না তার কি বিশ্বাস আছে। হাওড়া জেলার একটা বড় অংশ কৃষিকাজে যুক্ত। সেখানে ধান, আলু ও রবিশস্য চাষ হয়। বয়ে যাওয়া দামোদর-এর গায়ে সেচের মাধ্যমে জল ব্যবহার করা হচ্ছে। বাকি অংশে গভীর নলকূপের মাধ্যমে জল তুলে চাষের কাজ হচ্ছে। এরফলে সমস্যায় পড়ছে টিউবওয়েল। জলস্তর নামতে থাকায় জল উঠছে না। পানিয় জলের সঙ্কট তৈরি হচ্ছে।

জলসঙ্কট আগামীর জন্য কতটা ভয়াবহ আকার নেবে এ বিষয় আমতা রামসদয় কলেজের বোটানি বিভাগের অধ্যাপক সুমন্ত দত্ত বলেন, হাওড়া জেলায় জল সঙ্কট হলে চাষ প্রচন্ড বিঘ্নিত হবে। এই জেলার অনেকাংশ চাষের উপর নির্ভরশীল। জল কমে গেলে গভীরে জলস্তর নেমে যাবে। জল সঙ্কট শুধুমাত্র এ বছর বৃষ্টি কম হলেই কমে যাবে তা কিন্তু নয়। দিনের পর দিন বৃষ্টি কম হলে জলের লেবেলটা কমে যাবে। তারফলে মাটি আরও শক্ত হয়ে যাবে। সেচ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এতটা জল দেওয়া সম্ভব নয়। এখানে লবণাক্ত বেড়ে যাবার সম্ভাবনা নেই। যেটা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। কিন্তু জলস্তর নেমে গেলে যেটা ঘটবে আর্সেনিক বেড়ে যাবার সম্ভাবনা থেকে যাবে। এছাড়া পানীয়জলের একটা সমস্যা তৈরি হবে। বৃষ্টির জল একটা নিদিষ্ট জায়গায় জমা হয়। বৃষ্টি কম হওয়ার কারণে ডিপ টিউবওয়েল গুলোকে আরও বেশি গভীর করতে হবে। এখন পরিবেশে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর প্রভাব পড়ছে। ওয়েদার বদলে যাচ্ছে। যে সময় বৃষ্টি হবার কথা হচ্ছে না। বর্ষা শেষ হবার সময় তুমুল বৃষ্টিতে ভাসিয়ে দিচ্ছে। যে জলটা আমাদের চাষের কাজে লাগছে না। জল সঙ্কট রুখতে এই সময় প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণে গাছ বসানো। তা বৃক্ষ প্রজাতির যেন হয়। গভীর টিউবওয়েল বসানো কমাতে হবে। এবং জল ধরতে হবে। সেক্ষেত্রে পুকুর কাটতে হবে। পাশাপাশি যতটা সম্ভব জলের অপচয় কমাতে হবে।

আমতা-২নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকান্ত পাল জানান, গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ করে আমতা ২নং ব্লকে বহু গাছ বসানো হয়েছে। জল ধরো জল ভরো প্রকল্পে শতাধিক পুকুর কাটা হয়েছে। সেচ ব্যবস্থার জন্য থলিয়া বাকসি ক্যানেল কয়েকবছর আগে পুনরায় সংস্কার করা হয়েছে। পানীয়জলের যাতে সমস্যা না হয় পিএইচডি কাজ করছে। আমরা এলাকার মানুষদের জল অপচয় রুখতে সচেতনতার কাজ করছি। বৃহস্পতিবার রথযাত্রা উপলক্ষে আমতা অমরাগড়ি রায় বাড়ির তিনশো বর্ষে রথ টানবার সময় কচিকাঁচারা জল সংরক্ষণ ও জলের অপচয় রোধে পোস্টার হাতে রশি টেনেছে। রথযাত্রাতেও জল সংরক্ষণের বার্তা দেওয়া হয়েছে। আমতা ২নং সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক দেবদাস নস্কর এবং জয়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক তাপস নস্কর জলের অপচয় রোধে প্রচার কে স্বাগত জানিয়েছেন।

এছাড়াও চেক করুন

খড়্গপুরে দিনেদুপুরে টাকা ছিনতাই, চলল গুলি,আহত ১

স্টিং নিউজ সার্ভিস,পশ্চিম মেদিনীপুর: ফের দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে গুলি চলল খড়গপুরের রাস্তায়। ছোঁড়া হল বোমাও। পায়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.